অল্প সময়ের মধ্যে দেশের অবাণিজ্যিক সৃজনশীল প্রকাশনা হিসেবে যে প্রতিষ্ঠানটি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে তার নাম অনুপ্রাণন। উৎপাদনের শিল্প সম্মত প্রচ্ছদ এবং মজবুত বাঁধাইয়ের কারণে অনুপ্রাণন এর প্রকাশনা এরিমধ্যে পাঠকের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছে। অনুপ্রাণন এর ত্রৈমাসিক সাহিত্য সাময়িকীটিও মনকাড়া ও দৃষ্টিনন্দন।

বাংলা একাডেমি এর উদ্যোগে দেরিতে হলেও অমর একশে গ্রন্থ মেলা চলছে। মেলায অংশগ্রহণ করেছে অনুপ্রাণন এবারও। পরপর দু বছর বৈশ্বিক অতিমারি করোনার জন্য প্রাণের বই মেলা সংশ্লিষ্ট প্রকাশক ও লেখক কম বেশি ক্ষতিগ্রস্থ। লেখকের অর্থায়নে বই প্রকাশ, বিপণন, পাঠক তৈরি, পাঠাভ্যাস এবং প্রকাশকের বাণিজ্য ইত্যাদি বিয়য়ে মেলা মাঠে অবস্থিত স্টলে বসে অতি সম্প্রতি অর্থকাগজ প্রতিবেদকের সঙ্গে বিস্তাবিত কথা হয় অনুপ্রাণন এর স্বত্বাধিকারি প্রকৌশলী আবু এম ইউসুফের। দীর্ঘ কথোপকথনের নির্বাচিত বাক্যসমষ্টি নিয়ে তৈরি এবারের মূল রচনা।

সাক্ষাৎকার গ্রহীতা  তারেক আবেদীন

অর্থকাগজ দীর্ঘদিন ধরে সৃজনশীল গ্রন্থ প্রকাশের সঙ্গে আপনি যুক্ত। দেশের প্রত্যন্ত এলাকায় থাকা সৃজনী প্রতিভা বিকাশে আপনার প্রতিষ্ঠান কি কি করছে?

আবু এম ইউসুফ আমাদের প্রকাশনা সংস্থার কার্যক্রম শুরু হয়েছিল প্রধানত পত্রিকা প্রকাশের মধ্য দিয়ে। আজ থেকে প্রায় ১০ বছর আগে। ত্রৈমাসিক একটা সাহিত্য পত্রিকা বের করার মধ্য দিয়ে আমাদের কার্যক্রম শুরু হয়। প্রথম থেকেই আমাদের উদ্দেশ্য ছিল দেশের তরুণ এবং সম্ভাবনাময় প্রতিশ্রুতিশীল লেখকদের লেখা প্রকাশ করা। দেশের সব জেলা, উপজেলায় যারা নীরবে নিভৃতে সাহিত্যে কাজ করে যাচ্ছে, তাদেরকে মূলত তুলে আনা আমাদের কাজ। পত্রিকা প্রকাশের পরে ২০১৪ থেকে আমরা বই প্রকাশনা কার্যক্রম শুরু করি। এখন যারা লেখক আছেন প্রত্যন্ত অঞ্চলে, তাদের বা অন্য যারা তরুণ আছেন তাদের লেখা প্রকাশে জন্য আমরা তেমন কোনো কার্যক্রম গ্রহণ করিনি।

সৃজনী প্রতিভা বিকাশে আমাদের পরিকল্পনা আছে। আমরা সৃজনশীল লেখা প্রকাশ করার জন্য বিভিন্ন প্রকাশনার আলাদা ভাগ করে যেমন- কবিতার একটা, কথসাহিত্যের একটা, প্রবন্ধের একটা আলাদা আলাদা বিভাগ করে বই পাঠ এবং লেখা প্রকাশের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছি। ইতোমধ্যে কাজ শুরু হয়েছে। আমরা কিছু ভালো বই প্রতিশ্রুতিশীল লেখকদের দিয়েছি যারা তা পড়ে তাদের লেখার মান উন্নত করতে পারেন। সে জন্য আমরা তদারকি করছি। তারা কী শিখলেন, কী জানলেন; তাদের কী সমস্যা সেটা যেন চিহ্নিত করতে পারেন। আমাদের সম্পাদনা একটা পরিষদ আছে সে সম্পাদনা পরিষদের সঙ্গে লেখকদের সর্বপ্রথম যোগাযোগ হয়। পরিষদ লেখাগুলো পড়ে তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। লেখার মান উন্নত, সংশোধন এবং সম্পাদনা করার জন্য প্রচেষ্টা করা হয়। বিশেষ করে তরুণদের ক্ষেত্রে কাজগুলো করা হয়; যাতে করে তারা যেটাই লেখুক গান, কবিতা, গল্প, উপন্যাস তা যেন মান সম্মত থাকে।

অর্থকাগজ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা মৌলিক লেখকদের নিয়ে আপনাদের কোন কর্ম পরিকল্পনা আছে কী? ভালো মানের লেখকদের আর্থিকভাবে পুরস্কৃত করার কোন পরিকল্পনা?

আবু এম ইউসুফ আমরা মৌলিক ও সৃজনশীল লেখা না হলে তা প্রকাশ করি না। যারা মৌলিক লেখা দিতে পারছে না তাদেরকে উৎসাহিত এবং অনুপ্রাণিত করার জন্য আমরা বিভিন্ন কার্যক্রম হাতে নিয়েছি। আজকাল যেহেতু অনলাইনে আলোচনা করার সুবিধা হয়েছে সেজন্য অনলাইনে আলোচনা হচ্ছে। মাঝে মাঝে আমরা বৈঠকও করছি। তরুণদের জন্য আর্থিক পুরস্কারের ব্যবস্থা আছে। কারণ তরুণদের মধ্যে অনেকে ছাত্র অথবা এখনো অনেকে ভালো কোনো পেশায় নিয়োজিত হতে পারেননি। লেখালেখির কারণে তাকে পড়াশুনার জন্য সময় দিতে হয়। সে কারণে আমরা তার যাতায়াত খরচ এবং আপ্যায়ন ভাতা দিয়ে তাদেরকে সাহায্য করি। তবে বই প্রকাশ হলে যে কোনো লেখকের যে কোনো লেখার জন্য তাদের বিক্রিত বইয়ের শতকরা দশ ভাগ মূল্য দিয়ে থাকি। আমাদের পত্রিকা অন্তর্জালে লেখার জন্য আমরা কোন সম্মানী দেই না। তবে কোনো কোনো লেখার ক্ষেত্রে কিছু খরচ হয়। গবেষণামূলক প্রবন্ধ বা বই আলোচনার জন্য লেখককে বই কিনতে হয়। কম্পিউটারের কাজের ক্ষেত্রে তার খরচ হয়। সামান্য কিছু খরচ আমরা দিয়ে থাকি। আমাদের যেহেতু অবাণিজ্যিক প্রকাশনী, বই প্রকাশের খরচটা উঠে গেলে আমরা তখন সম্মানী বাবদ বই মূল্যের শতকরা পঁচিশ ভাগ অর্থ লেখকদের দেই। কোনো কোনো ক্ষেত্রে আমরা অগ্রিম রয়েলিটি দিয়ে থাকি, যখন আমরা জানি প্রকাশিতব্য বই বিক্রয় হবে, তখন ধারণা থেকে আগেই তা দিয়ে থাকি।

অর্থকাগজ সারাদেশে বই বিপণনে আপনার কার্যক্রমটা কেমন?

আবু এম ইউসুফ সারাদেশে বই বিপণনের ক্ষেত্রে আমাদের অনলাইন কার্যক্রম রয়েছে। অনুপ্রাণন এর  ওয়েবসাইট আছে, দেশে এবং বিদেশ থেকে যে কেউ অনলাইনে আমাদের বই ক্রয় করতে পারেন। আগামিতে বিভিন্ন জেলাও উপজেলায় বই বিক্রয়ের জন্য কিছু কমিশন এজেন্ট নিয়োগ করবো আমরা। তাঁদেরকে কিছু কমিশনের ভিত্তিতে কুপনই দিবো যাতে তাঁরা বই বিক্রি করতে উৎসাহ বোধ করেন।

অর্থকাগজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বদৌলতে প্রকাশক লেখক সম্পর্ক সহজতর হয়েছে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে লেখক প্রকাশকের পিছনে ছুটছেন! বাণিজ্যিকভাবে লেখক সৃষ্টি হচ্ছে দেশে। সে ক্ষেত্রে মান নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়! এ ব্যাপারে সাংগঠনিকভাবে আপনারা কি করছেন?

আবু এম ইউসুফ লেখক প্রকাশকের পিছনে হয়তো ছুটছেন! আমরা তা ভাবি না। তার কারণ হচ্ছে, আমাদের কাছে যে কোনো লেখক; পরিচিত বা অপরিচিত হোক, তিনি পা-লিপি পাঠাতে পারেন। অনুপ্রাণন থেকে অনেক বই প্রকাশিত হয়েছে যাদের সঙ্গে আমার এখনও সাক্ষাৎ ঘটেনি। তার মানে লেখার মানসম্মত পাণ্ডুলিপি বেশি বিবেচ্য, লেখক নন! বই প্রকাশে পা-ুলিপি পাঠানো সকলের জন্য উন্মুক্ত। সম্পাদনা পরিষদের মাধ্যমে আমরা পা-ুলিপি বাছাই করি। আমাদের বাছাইয়ের ভিত্তিটাই হচ্ছে লেখার মান। প্রতি বছর এ ক্ষেত্রে আমাদের বাজেটেরও সীমাবদ্ধতা আছে। সারা বছর আমরা কয়টা বই প্রকাশ করতে পারি, আমাদের আর্থিক সঙ্গতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে যতটুকু বিনিয়োগ করতে পারি সে পরিমাণ বইই আমরা প্রকাশ করি। বই প্রকাশের জন্য আমরা লেখকের ইন্টারভিউ নেই না। লেখার মান ভালো হলে আমরা ছাপিয়ে দিই। পরে হয়তো তাকে জানিয়ে দেই তাঁর পা-ুলিপি মনোনীত হয়েছে। লেখক তৈরির ব্যাপারে আলোচনার জন্য আমাদের বিভাগ করা হয়েছে। বাণিজ্যিক লক্ষ্য নিয়ে লেখক তৈরি আমাদের কাজ ও উদ্দেশ্য নয়। সাংগঠনিকভাবে আমরা সৃজনী প্রতিভা বিকাশে সমন্বিতভাবে কাজ করে যাচ্ছি।

অর্থকাগজ অনেক সময় শুনি লেখকরা টাকার বিনিময়ে বই প্রকাশ করে থাকেন। এ ব্যাপারে আপনার মন্তব্য?

আবু এম ইউসুফ ঠিক তা নয়! লেখকের কাছ থেকে আমাদের টাকা নেওয়ার প্রশ্নই উঠে না। অনেক সময় আমরা বলে থাকি, লেখকদের যাতে একটা ব্যক্তিগত প্রচেষ্টা থাকে বিশেষ করে যারা নতুন লেখক। তাদেরকে আমরা বলি, ঠিক আছে আপনার লেখাটা আমি প্রকাশ করবো, বই ছাপিয়ে বা পত্রিকায় প্রকাশ করবো। কিন্তু আপনার যারা আপনজন আছেন যেমন- বাবা-মা, ভাই বোন, আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু বান্ধব, পাড়া প্রতিবেশী তাদের কাছে গিয়ে বলবেন আপনার একটি বই প্রকাশিত হয়েছে। তাদের কাছে বই নিয়ে যাবেন। তারা যদি আপনার কাছ থেকে বই নিতে চায় তবে আমরা তার জন্য অধিকতর কমিশনের ব্যবস্থা আমরা করবো। এর ফলে তাতে নিজস্ব বলয়ে নিজেকে লেখক হিসেবে পরিচিত করে তুলতে সহায়ক হবে। বই প্রকাশের প্রক্রিয়াটা অনুপ্রাণন এর তাই।

অর্থকাগজ সৃজনশীল গ্রন্থ প্রকাশে লেখক তৈরিতে প্রকাশকের কি ভূমিকা এবং দায়িত্ব থাকা উচিত?

আবু এম ইউসুফ  সৃজনশীল গ্রন্থ প্রকাশে একজন প্রকাশকের হিসেবে বড় ভূমিকা এবং দায়িত্ব থাকা উচিত। সে কার্যকর চিন্তা আমাদের আছে। তবে স্বল্প সময়ে বিরাজমান সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। কারণ সাহিত্যের মানোন্নয়নে প্রকাশকের ভূমিকা অনেক সময় সাপেক্ষ।

অর্থকাগজ লেখালেখিকে কি দেশে পেশা হিসেবে নেওয়ার সময় হয়েছে?

আবু এম ইউসুফ আমার মনে হয় এখনো সময় হয়নি। কারণ আমাদের এখানে বইয়ের পাঠক সেভাবে নেই, যারা নিয়মিতভাবে বই কিনছে! পাঠ করছে।  মানসম্পন্ন যোগ্য বইয়ের প্রকাশনা যদি বাজারে সব সময় আসতো তাহলে পাঠক সৃষ্টি হতো। লেখকও তৈরি হতেন সে অনুপাতে। প্রকাশিত অনেক বইই অছে যা টাকা দিয়ে কেনার মতো নয়। এসব যাচ্ছেতাই বইয়ের কারণে সাহিত্য নিমগ্ন একজন লেখক তৈরিতে দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। লেখক তৈরি না হবার কারণে লেখক লেখালেখিকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করতে পারছে না।

অর্থকাগজ লেখকের সম্মানী এবং রয়েলিটি কি হওয়া উচিত? লেখালেখি যদি পেশা হয়!

আবু এম ইউসুফ একটি পাণ্ডুলিপি বই আকারে প্রকাশের ক্ষেত্রে প্রত্যক্ষ কিছু খরচ আছে। বইয়ের যে মূল্য নির্ধারণ করা হয় তার মধ্যে প্রত্যক্ষ খরচ আছে যেমন কাগজের দাম, মুদ্রণের দাম এবং বইটি প্রস্তুতির ব্যয়। সম্পূর্ণ প্রস্তুতের আগে কিছু কাজ যেমন নকশার কাজ, প্রচ্ছদ শিল্পীর পারিশ্রমিক। সকল খরচ করার পর বইটির যে মূল্য নির্ধারণ করা হয় তার দশ শতাংশ লেখককে দেওয়া যেতে পারে। বই যদি মান সম্পন্নভাবে উৎপাদন করা হয়, তাহলে তার বিক্রয় মূল্যও বৃদ্ধি করতে হয়। সেক্ষেত্রে লেখকের সম্মানীও বেড়ে যায়। কোন কোন ক্ষেত্রে আমরা লেখককে শতকরা পঁচিশ ভাগ সম্মানী প্রদান করে থাকি।

অর্থকাগজ অধিকাংশ প্রকাশক বলেন বইয়ের ব্যবসায় নেই অথচ প্রতি বছর বই মেলায় ৫ থেকে ৬ হাজার বই প্রকাশিত হয়। এ বিষয়ে আপনার মন্তব্য শুনতে চাই।

আবু এম ইউসুফ এক কথায় এর উত্তর দেওয়া কঠিন। তার কারণ হচ্ছে সৃজনশীল বই প্রকাশ এবং তা বিক্রি করে প্রকাশকগণ যে খুব লাভবান হচ্ছেন তা নয়। তবে যাদের (প্রকাশক) নিদিষ্ট কিছু লেখক আছেন, যাদের বই হাজারে হাজারে বিক্রি হয় তাদের বিষয়টা আলাদা। দেশে কিছু লেখক আছেন যারা বাণিজ্যিক বিবেচনায় লিখছেন, তাদের কাজকে আমি সাহিত্য বলি না! কিন্তু কিছু ভালো লেখক রয়েছেন যাঁদের বই সাধারণ ক্রেতারাও কিনছেন। মৌলিক এবং সৃজনশীল সাহিত্যের বই প্রকাশের মাধ্যমে মুনাফা করা প্রকাশকের জন্য খুবই কঠিন কাজ। কিন্তু অনেক প্রকাশক আছেন যারা বিদ্যালয়ের পাঠ্য বই, নোট বুক, গাইড বুক, চাকরি পরীক্ষার বই ও ‘মোটিভেশনাল’ বুক প্রকাশ করে রমরমা ব্যবসার মুনাফা দিয়ে কিছু সৃজনশীল বইয়ের প্রকাশনা অব্যহত রেখেছেন। অনেক প্রকাশক বাণিজ্যিকভাবে, কখনও লেখকের সহায়তায় বই বের করছেন বলেই মেলায় বইয়ের আধিক্য আমরা দেখতে পাচ্ছি।

অর্থকাগজ অমর একুশে গ্রন্থ মেলার ব্যবস্থাপনা নিয়ে আপনার বক্তব্য? বাংলা একাডেমির কি কি করা উচিত? বাংলা একাডেমির এবারের ব্যবস্থাপনা নিয়ে আপনি কতটা সন্তুষ্ট?

আবু এম ইউসুফ রাজধানী হিসেবে বাংলা একাডেমি আয়োজিত বই মেলা ঠিক আছে। সমস্ত ব্যবস্থাপনায় উন্নয়নের সুযোগ থাকে। বাংলা একাডেমি এর প্রায় কাজ সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অধীনে হয়। দেশে অনেক বড় বড় প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে সাহিত্য ও সংস্কৃতির উন্নয়নে। এ জন্য সরকারিভাবে নিয়োজিত প্রতিষ্ঠানগুলো যেমন বাংলা একাডেমি, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, বাংলাদেশ শিশু একাডেমি, গণ গ্রন্থাগার ও জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র যাদের কার্যক্রম প্রায় সারা দেশে রয়েছে। ঢাকার বাইরে তাদের কার্যক্রম বিশেষ করে অন্তত প্রতিটি জেলা শহরে বৃদ্ধি করা দরকার। ঢাকায় যেমন বাংলা একাডেমি প্রাতিষ্ঠানিকভাবে কাজ করছে প্রত্যেক জেলা শহরে; একইভাবে কাজ করা দরকার। আমাদের ৬৪টি জেলায় একটা করে বাংলা একাডেমি এর শাখা থাকা দরকার। তেমনি গণ গ্রন্থাগারসহ উল্লিখিত প্রতিষ্ঠানগুলোর তৃণমূলে কার্যক্রম থাকা জরুরি। এ ক্ষেত্রে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অর্থ বরাদ্দ বাড়ানো উচিত। পাঠক তৈরিতে প্রতিষ্ঠানগুলোতে আলাদা আলাদা গ্রন্থাগার স্থাপন করে সাধারনের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া সময়ের দাবী। প্রতিষ্ঠানগুলোর উদ্যেগে বই মেলার আয়োজন করা দরকার। এ সকল প্রতিষ্ঠানের কাজ হবে বাংলা একাডেমির কাছ থেকে মেলায় প্রকাশিত বইয়ের তথ্য সংগ্রহ করা। তারপর মেলা থেকে বই কিনে তাদের গ্রন্থাগারে মান সম্পন্ন বইগুলো রাখা এবং এর প্রচার ও প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করা।বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশ করার জন্য নীলফামারীর একজন লেখক ঢাকায় এসে পাণ্ডুলিপি জমা দিয়ে কতদিন বসে থাকবেন? বাংলা একাডেমি এর শাখা যদি সব জায়গায় থাকে তবে জেলায় জেলায় প্রকাশকদের বিভিন্ন সংগঠন গড়ে উঠবে এবং গবেষণার ক্ষেত্র তৈরি হবে। সেক্ষেত্রে সরকারকে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ এবং প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ করতে হবে। এতে আমাদের বইয়ের পাঠকসমৃদ্ধ সংস্কৃতির অনেক উন্নয়ন ঘটবে। সাংস্কৃতিক উন্নয়ন না হলে শুধু আর্থিক এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন দিয়ে দেশ কিন্তু বেশি দূর আগাতে পারে না, সে উন্নয়ন টেকসই হয় না। তাই সরকারিভাবে টেকসই ব্যবস্থাপনাই পারে বইকে পাঠকমুখি করে।আমি মনে করি বাংলা একাডেমির এবারের ব্যবস্থাপনা আগের চেয়ে ভালো! উত্তরোত্তর আরও ভালো হবে মনে হয়। এবারের ব্যবস্থাপনা নিয়ে আমার বিশেষ কোনো অভিযোগ নেই। তবে বয়স্ক পাঠক ও দর্শনার্থীদের জন্য সব জায়গায় বিশ্রামের আসন এবং পানি পানের ব্যবস্থা রাখার বড় প্রয়োজন ছিল।

অর্থকাগজ অধিকাংশ প্রকাশক সরকারের আনুকূল্য লাভের জন্য প্রকাশনার ক্ষেত্রে সমসাময়িক বিষয়কে প্রাধান্য দেন! এতে প্রকাশনা শিল্পের কি ক্ষতি হচ্ছে?

আবু এম ইউসুফ এটা হবেই। কারণ সরকার চাইবে যার তার নীতি অনুযায়ি এবং তার সম্পর্কে কিছু কর্মকাণ্ড পরিচালিত হোক। যে কোনো সরকারই তা চায়। আমাদের ইতিহাসে যা ছিল তা সব সময় থাকবে। এ চর্চার জন্য শিল্প ও সাহিত্যের ক্ষতি হবে তা আমি মনে করি না। আজকে যদি এই বই মেলায় দশ হাজার বই প্রকাশিত হয়, তবে সে রকম বই হবে পাঁচশ! কোনো প্রকাশক যদি সরকারের সহযোগিতা লাভের জন্য তা অতিমাত্রায় করে, তাহলে তা দৃষ্টিকুটুু দেখায়। তা না হওয়াই ভালো।

অর্থকাগজ সম্পাদনা পরিষদ থাকার পরেও আপনাদের প্রকাশনী অনুপ্রাণন থেকে প্রকাশিত ‘অনেকগুলো মানুষ’ বইয়ের নামকরণে ভুল শব্দ আমাদের নজরেও পড়েছে! সম্পাদনা পরিষদের চোখ ফাঁকি দিয়ে ভুল একটি গল্পগ্রন্থের নাম হলো কি করে?

আবু এম ইউসুফ ‘অনেকগুলো মানুষ’ বইয়ের ভুল শিরোনাম! শুদ্ধ হচ্ছে - অনেক মানুষ। লেখক চেয়েছেন এইভাবে হোক। কেন তিনি চেয়েছেন; ওনাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম। উনি বলেছেন, ‘মানুষ সাধারণত অনেক মানুষ না বলে অনেকগুলো মানুষ বলে। তাদের মনে হবে ‘অনেকগুলো মানুষ’ তাদের পরিচিত। এটা আমাদের ভুল হয়েছে। উনি যেহেতু এ ব্যাপারে জোরাজুরি করেছেন, সে জন্য আমরা এটা করেছি। আমরা এ ধরনের ভুল কমানোর চেষ্টা করবো। কিছু ভুল তো রয়েই যায়। আর বানানের কথা যেটা বললেন সেটা প্রুফের কারণে হয়।  প্রথমে আমাদের একজন প্রুফ রিডার দেখেন পরে আরও একজন। তারপরও কিছু বানানে ভুল থেকে যায়। আগে লেখকরা প্রুফ দেখতেন। এখন লেখকরা প্রুফ দেখতে চান না। কিভাবে এটাকে নির্ভুল করা যায় তা আমাদের  মাথায় রয়েছে।

অর্থকাগজ মূল্যবান সময় দেয়ার জন্য আপনাকে অর্থকাগজ এর পক্ষ থেকে অনেক ধন্যবাদ। প্রকাশনা শিল্পে অনুপ্রাণন আরও ইতিবাচক অবদান রাখুক! আপনারও মঙ্গল কামনায় প্রার্থনা করি।

আবু এম ইউসুফ  আপনাকে ও সম্পাদক মহোদয়কে অনেক ধন্যবাদ।

#

আলোকচিত্র শংকর সাহা মধু

অকা/বিসা/বিকেল, ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ

সর্বশেষ হালনাগাদ 4 years আগে

Leave A Reply

Exit mobile version