অর্থকাগজ প্রতিবেদন ●
ডলারের নতুন দাম নির্ধারণে ব্যাপক বৈষম্য সৃষ্টি হয়েছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন রফতানিকারকরা-এমন মন্তব্য করেছেন অর্থনীতিবিদ ও রফতানিকরকরা। তাদের মতে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আগের দর পুনর্নির্ধারণ করা না হলে রফতানি কমে যাবে, বেড়ে যাবে আন্ডার ইনভয়েসিং (পণ্যের মূল্য কম ধরা হবে) বেড়ে যাবে।
তবে বাংলাদেশ ফরেন এক্সচেঞ্জ অথরাইজড ডিলারস অ্যাসোসিয়েশন (বাফেদা) বলেছে, কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। সব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বাজার স্থিতিশীলতার জন্য।
জানতে চাইলে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেছেন, একই মুদ্রার দাম একেক জায়গায় একেক রকম। এত ভিন্নতা। এত পার্থক্য কেন? এটা বিশ্বের কোথাও নেই। তিনি বলেন, রেমিট্যান্স হয়ে এলে সে ডলারের দাম ১০৮ টাকা। একই ডলার রফতানির মাধ্যমে এলে তার দাম মাত্র ৯৯ টাকা। এখানে যে বৈষম্য তা খুবই অস্বাভাবিক। কেন এই মূল্য নির্ধারণ তা বোধগম্য নয়। কোনো যুক্তিতে মেলাতে পারছি না। এতে রফতানিকারকরা নিরুৎসাহিত হবেন। রফতানি কমে যাবে। আন্ডার ইনভয়েসিং (পণ্যের মূল্য কম ধরা হবে) বেড়ে যাবে। সরকার হারাবে বিপুল অঙ্কের রাজস্ব। এছাড়া আমদানিকারকরা চাপে আছেন।
এর জন্য এ মুহূর্তে কিছু করারও নেই। এটা বাস্তব প্রেক্ষাপট। দেশের তৈরি পোশাক শিল্পের নিট পোশাক রফতানিকারকদের সংগঠন বিকেএমইএ নির্বাহী সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেছেন, রেমিট্যান্স ক্রয়ে ১০৮ টাকা এবং রফতানি আয়ে দেওয়া হবে ৯৯ টাকা। এ দর কিসের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হলো। এখানে চরম বৈষম্য করা হয়েছে। এটা অন্যায়। এতে ১৭ কোটি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। মূল্যস্ফীতি আরও বেড়ে যাবে।
তাছাড়া ডলারের দাম নির্ধারণে বাফেদা-এবিবি কারা? দাম নির্ধারণ করবে সরকার এবং বাংলাদেশ ব্যাংক। তারা যদি ডলারের দাম নির্ধারণ করতে পারে তাহলে আমরা বিজিএমইএ-বিকেএমইএও ডলারের দাম নির্ধারণ করব। তাদের নির্ধারিত দর মানি না। নতুন দর নির্ধারণ করতে হবে। আর তা যেন হয় বৈষম্যহীন। তিনি বলেন, ডলার ক্রয় এবং বিক্রিতে এক টাকার পার্থক্য থাকতে পারে। এর বেশি নয়। বাংলাদেশ ব্যাংক আগে এক টাকার পার্থক্য নির্ধারণ করে দিয়েছিল। আবার সে দরই কার্যকর করা হোক। আর ডলারের দাম নির্ধারণের পূর্ণ ক্ষমতা বাংলাদেশ ব্যাংকের হাতে থাকুক। তা না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে।
বাংলাদেশ ফরেন এক্সচেঞ্জ অথরাইজড ডিলারস অ্যাসোসিয়েশনের (বাফেদা) চেয়ারম্যান ও সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আফজাল করিম বলেছেন, ডলারের এই দাম চিরস্থায়ী নয়। সময়ে সময়ে বদলাবে। ঘোষিত দামে পাঁচ কার্যদিবস চলবে। তারপর আবার সংশোধন করা হবে। আমদানিকারকরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন না। এর আগে আরও বেশি দামে ডলার কিনেছেন তারা। এখন ১০৪ টাকা ৫০ পয়সার উপরে যাবে না। আর রফতানিকারকরাও লোকসানে পড়বেন না। কারণ তারা রফতানি খাতে প্রণোদনা পেয়ে থাকেন। ৫, ১০, ২০ শতাংশ পর্যন্ত প্রণোদনা পান। সে ক্ষেত্রে রফতানি ও রেমিট্যান্সে ডলারের দাম প্রায় সমান।
#
অকা/ প্র/ দুপুর, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
সর্বশেষ হালনাগাদ 4 years আগে

