অর্থকাগজ ডেস্ক
ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে নেওয়া ঋণ সময়মতো পরিশোধ না করলে ঋণগ্রহীতার বিরুদ্ধে অর্থ ঋণ মামলা করা হতে পারে। দেশের ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ আদায়ের জন্য বিশেষ আইনি কাঠামোর আওতায় এ ধরনের মামলা পরিচালিত হয়।
আইন অনুযায়ী, কোনো ব্যাংক বা নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান তাদের বকেয়া ঋণ আদায়ের জন্য অর্থঋণ আদালতে মামলা দায়ের করতে পারে। এ উদ্দেশ্যে দেশে পৃথক অর্থঋণ আদালত গঠন করা হয়েছে, যা একটি বিশেষায়িত দেওয়ানি আদালত হিসেবে কাজ করে। দেওয়ানি আদালতের মতোই এ আদালতের রয়েছে প্রয়োজনীয় ক্ষমতা ও এখতিয়ার।
কার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়?
অর্থঋণ আদালত আইন, ২০০৩ অনুসারে, ঋণ আদায়ের মামলা দায়েরের সময় মূল ঋণগ্রহীতার পাশাপাশি ঋণের বিপরীতে জামিনদার বা তৃতীয় পক্ষের বন্ধকদাতা থাকলে তাদেরও বিবাদী করা হয়। আদালতের রায় বা ডিক্রি সব বিবাদীর বিরুদ্ধে যৌথভাবে এবং পৃথকভাবেও কার্যকর করা যায়।
ফলে ঋণের দায় কেবল মূল ঋণগ্রহীতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না; সংশ্লিষ্ট জামিনদার বা বন্ধকদাতাকেও দায় বহন করতে হতে পারে।
আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ
মামলা দায়েরের পর বিবাদীরা আদালতে হাজির হয়ে লিখিত জবাব দাখিল করতে পারেন। এর মাধ্যমে তারা নিজেদের অবস্থান তুলে ধরার এবং আইনগত প্রতিরক্ষা উপস্থাপনের সুযোগ পান।
এ ছাড়া দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া এড়াতে আইনে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি বা মধ্যস্থতার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। উভয় পক্ষের সম্মতিতে অনেক ক্ষেত্রে আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি করা সম্ভব।
কারাগারে আটকের বিধান
অর্থঋণ আদালত আইনের অন্যতম আলোচিত বিধান হলো দায়িককে দেওয়ানি কারাগারে আটকের ক্ষমতা। আইনের ৩৪ ধারা অনুযায়ী, আদালত ডিক্রির অর্থ পরিশোধে বাধ্য করার উদ্দেশ্যে একজন দায়িককে সর্বোচ্চ ছয় মাস পর্যন্ত দেওয়ানি কারাগারে আটক রাখার আদেশ দিতে পারেন।
তবে এটি ফৌজদারি সাজা নয়। ডিক্রির অর্থ আদায়ে চাপ সৃষ্টির জন্য আইন এ ব্যবস্থা রেখেছে।
কীভাবে মুক্তি মিলবে?
আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী বকেয়া অর্থ পরিশোধ করলে আটক ব্যক্তি তাৎক্ষণিকভাবে মুক্তি পেতে পারেন। এছাড়া ছয় মাসের নির্ধারিত সময় শেষ হলেও মুক্তি লাভের সুযোগ রয়েছে।
আইনে আরও বলা হয়েছে, যদি কোনো দায়িক বকেয়া পাওনার অন্তত ২৫ শতাংশ নগদ পরিশোধ করে অবশিষ্ট অর্থ ৯০ দিনের মধ্যে পরিশোধের অঙ্গীকার করেন, তাহলে আদালত তাকে মুক্তির আদেশ দিতে পারেন।
আপিলের জন্য বিশেষ শর্ত
অর্থঋণ আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা গেলেও এর জন্য নির্দিষ্ট শর্ত রয়েছে। ডিক্রিকৃত অর্থের ৫০ শতাংশ সংশ্লিষ্ট আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা দেওয়া অথবা আদালতে জামানত হিসেবে রাখা ছাড়া আপিল গ্রহণ করা হয় না।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এ বিধান অযৌক্তিক ও বিলম্বমূলক আপিল নিরুৎসাহিত করার পাশাপাশি ঋণ আদায়ের প্রক্রিয়াকে গতিশীল করতে সহায়তা করে।
কেন গুরুত্বপূর্ণ অর্থঋণ আদালত?
বাংলাদেশে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দীর্ঘদিন ধরেই ব্যাংক খাতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। এ প্রেক্ষাপটে অর্থঋণ আদালত ঋণ আদায়ের জন্য দ্রুত ও কার্যকর আইনি ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করছে। একই সঙ্গে ঋণগ্রহীতা, জামিনদার ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অধিকার ও দায়বদ্ধতার বিষয়েও একটি সুস্পষ্ট আইনি কাঠামো নিশ্চিত করছে এই আইন।
সর্বশেষ হালনাগাদ 5 hours আগে

