রুনা হোসেন>
আয়কর রিটার্ন দাখিলের ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন এনেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। নতুন নিয়মে নির্ধারিত সময়ের আগেই রিটার্ন জমা দিলে করদাতারা পাবেন করছাড়, আর দেরিতে জমা দিলে গুনতে হবে অতিরিক্ত অর্থ। সময়মতো রিটার্ন দাখিলে উৎসাহিত করা এবং স্বেচ্ছায় কর পরিপালনের সংস্কৃতি গড়ে তোলাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
নতুন বিধান অনুযায়ী, অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিক অর্থাৎ জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে আয়কর রিটার্ন দাখিল করলে পরিশোধযোগ্য করের ৫ শতাংশ অথবা সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা—যেটি কম, সেই পরিমাণ করছাড় মিলবে।
উদাহরণ হিসেবে, কারও আয়কর এক লাখ টাকা হলে তিনি ৫ হাজার টাকা ছাড় পেয়ে ৯৫ হাজার টাকা পরিশোধ করলেই হবে। আবার করের পরিমাণ ৫০ হাজার টাকা হলে ছাড় পাবেন ২ হাজার ৫০০ টাকা এবং পরিশোধ করতে হবে ৪৭ হাজার ৫০০ টাকা।
বর্তমানে দেশে সোয়া এক কোটির বেশি টিআইএনধারী রয়েছেন। গত অর্থবছরে ৪৫ লাখের বেশি করদাতা অনলাইনে আয়কর রিটার্ন জমা দিয়েছেন।
কোন সময়ে রিটার্ন দিলে কী সুবিধা?
এনবিআরের নতুন ব্যবস্থায় এখন সারা বছরই রিটার্ন দাখিল করা যাবে। তবে রিটার্ন জমা দেওয়ার সময়ের ওপর নির্ভর করবে করছাড় বা অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধের বিষয়টি।
- জুলাই–সেপ্টেম্বর: পরিশোধযোগ্য করের ৫ শতাংশ অথবা সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত করছাড়।
- অক্টোবর–ডিসেম্বর: কোনো করছাড় বা অতিরিক্ত অর্থ নেই। নির্ধারিত করই পরিশোধ করতে হবে।
- জানুয়ারি–মার্চ: পরিশোধযোগ্য করের ২ শতাংশ অথবা ৩ হাজার টাকা—যেটি কম, সেই পরিমাণ অতিরিক্ত অর্থ দিতে হবে। সর্বোচ্চ অতিরিক্ত অর্থ ৩ হাজার টাকা।
- এপ্রিল–জুন: পরিশোধযোগ্য করের ৫ শতাংশ অথবা ৫ হাজার টাকা—যেটি কম, সেই পরিমাণ অতিরিক্ত অর্থ দিতে হবে। সর্বোচ্চ অতিরিক্ত অর্থ ৫ হাজার টাকা।
অর্থাৎ, কারও আয়কর এক লাখ টাকা হলে জানুয়ারি থেকে মার্চের মধ্যে রিটার্ন দাখিল করলে তাকে ১ লাখ ২ হাজার টাকা এবং এপ্রিল থেকে জুনের মধ্যে দাখিল করলে ১ লাখ ৫ হাজার টাকা পরিশোধ করতে হবে।
অনলাইনে রিটার্ন দাখিলের পদ্ধতি
করদাতারা ঘরে বসেই অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে পারবেন। এজন্য এনবিআরের ই-রিটার্ন পোর্টালে লগইন করে বার্ষিক আয়, বিনিয়োগ, ব্যয়, সম্পদ ও দায়সংক্রান্ত তথ্য ধাপে ধাপে পূরণ করতে হবে। সব তথ্য যাচাই শেষে অনলাইনে রিটার্ন জমা দেওয়া যাবে।
রিটার্ন দাখিলের পর ব্যাংক ট্রান্সফার, ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ড, বিকাশ, রকেট, নগদসহ বিভিন্ন ডিজিটাল মাধ্যমে কর পরিশোধের সুযোগ থাকবে। রিটার্ন সফলভাবে জমা হলে সঙ্গে সঙ্গে প্রাপ্তি স্বীকারপত্র (Acknowledgement Receipt) ও আয়কর সনদও সংগ্রহ করা যাবে।
এনবিআরের মতে, আগেভাগে রিটার্ন দাখিলে করছাড় এবং দেরিতে অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধের এই ব্যবস্থা করদাতাদের সময়মতো রিটার্ন দিতে আরও উৎসাহিত করবে। এর ফলে স্বেচ্ছায় কর পরিপালনের হার বাড়বে এবং সরকারের রাজস্ব আহরণও শক্তিশালী হবে।
সর্বশেষ হালনাগাদ 5 hours আগে

