অর্থকাগজ প্রতিবেদন ●
আমানতের পাশাপাশি ঋণের গড় সুদহারও বেড়েছে। গত জানুয়ারিতে ঋণের গড় সুদহার দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ২৪ শতাংশ। আগের মাস ডিসেম্বরে যা ৭ দশমিক ২২ শতাংশ ছিল। আগের বছরের একই মাসে ছিল ৭ দশমিক ১৩ শতাংশ। তহবিল সংকটের এ সময়ে ঋণের তুলনায় আমানতের সুদ বাড়াচ্ছে ব্যাংকগুলো। এর প্রভাবে ঋণ ও আমানতে সুদহারের ব্যবধান (স্প্রেড) কমছে।
সামগ্রিকভাবে ঋণে ৯ শতাংশ সুদহারের সীমা নির্ধারিত থাকলেও সম্প্রতি ভোক্তা ঋণের আওতায় বিতরণ করা গাড়ি ও ব্যক্তিগত ঋণের সুদহার ১১ শতাংশ করার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ ছাড়া আগে থেকে ক্রেডিট কার্ডের ঋণসীমা ২০ শতাংশ রয়েছে। অবশ্য রপ্তানিতে সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ এবং কৃষিতে ৮ শতাংশ সুদহার নির্ধারিত আছে। আর বাংলাদেশ ব্যাংকের পুনঃঅর্থায়ন কর্মসূচির আওতায় বিতরণ করা ঋণে সুদহার রয়েছে অনেক কম। এ ছাড়া বড় গ্রাহকদের ধরে রাখতে সব সময়ই তুলনামূলক কম সুদে ঋণ দেয় ব্যাংকগুলো।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারিতে ব্যাংকগুলোর স্প্রেড দাঁড়িয়েছে ২ দশমিক ৯৫ শতাংশ। আগের মাস ডিসেম্বরে যা ২ দশমিক ৯৯ শতাংশ ছিল। আর গত বছরের একই মাসে ছিল ৩ দশমিক ১২ শতাংশ। এর মানে ব্যাংকগুলোর সুদ থেকে আয় কমছে।
বৈশ্বিক পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন কারণে ঋণে ৯ শতাংশ সুদহারের সীমা তুলে দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছে ব্যাংকগুলো। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনেও সুদহারের সীমা তুলে দেওয়া কিংবা বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। তবে ব্যবসার খরচ বাড়বে এমন চিন্তা থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক আপাতত এ সিদ্ধান্ত নিচ্ছে না। উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে এরই মধ্যে বিশ্বের বেশিরভাগ দেশ সুদহার অনেক বাড়িয়েছে। বর্তমানে বেসরকারি খাতে বিদেশি ঋণ নিতে ৯ শতাংশের মতো সুদ ব্যয় হচ্ছে। এক বছর আগেও যা ৩ থেকে ৫ শতাংশ ছিল। ডলার সংকটের এ সময়ে যা বাড়তি চাপ হয়ে দেখা দিয়েছে।
অকা/ব্যাংখা/সকাল, ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ খ্রিষ্টাব্দ
সর্বশেষ হালনাগাদ 3 years আগে
