অর্থকাগজ প্রতিবেদন ●
চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নে উল্লেখযোগ্য শ্লথতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। অর্থবছরের প্রথম সাত মাস—জুলাই থেকে জানুয়ারি—পর্যন্ত উন্নয়ন ব্যয় দাঁড়িয়েছে মাত্র ৫০ হাজার ৫৫৬ কোটি ২৯ লাখ টাকা। সাম্প্রতিক নয় অর্থবছরের তুলনায় এই পরিমাণই সর্বনিম্ন, যা সরকারি বিনিয়োগের গতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
১৬ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত সরকারের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি)-এর হালনাগাদ প্রতিবেদনে এই চিত্র উঠে এসেছে। সেখানে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে এডিপি বাস্তবায়নের হার মাত্র ২১ দশমিক ১৮ শতাংশ। অর্থাৎ বরাদ্দের প্রায় চার-পঞ্চমাংশ এখনো ব্যয়ের বাইরে রয়ে গেছে।
তথ্য বিশ্লেষণে বোঝা যায়, ২০১৬-১৭ অর্থবছরের একই সময়ে এডিপি ব্যয় ছিল ৩৯ হাজার ৯৭৩ কোটি টাকা। এরপর থেকে প্রতি অর্থবছরেই এই সময়ের মধ্যে ব্যয়ের পরিমাণ ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। কিন্তু চলতি বছরে সেই প্রবণতায় ছেদ পড়েছে। এমনকি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে রাজনৈতিক অস্থিরতা, ছাত্র-জনতার আন্দোলন, সরকার পরিবর্তন এবং প্রশাসনিক পুনর্গঠনের মতো বড় ঘটনাপ্রবাহ থাকা সত্ত্বেও উন্নয়ন ব্যয় হয়েছিল ৫৯ হাজার ৮৭৬ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। সেই তুলনায় এবারের ব্যয় কমেছে ৯ হাজার ৩২০ কোটি ৫৮ লাখ টাকা—যা প্রকল্প বাস্তবায়নে অস্বাভাবিক ধীরগতির ইঙ্গিত দেয়।
গত কয়েক বছরের পরিসংখ্যানও বর্তমান পরিস্থিতিকে ব্যতিক্রম হিসেবে তুলে ধরে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে বাস্তবায়নের হার ছিল ২৭ দশমিক ১১ শতাংশ এবং ২০২২-২৩ অর্থবছরে ছিল ২৮ দশমিক ১৬ শতাংশ। এমনকি গত অর্থবছরের একই সময়ে বাস্তবায়নের হার ২১ দশমিক ৫২ শতাংশে পৌঁছেছিল, যা বর্তমান বছরের তুলনায় সামান্য হলেও বেশি। আইএমইডির ওয়েবসাইটে সংরক্ষিত তথ্য পর্যালোচনায় স্পষ্ট হয়, সাম্প্রতিক ইতিহাসে চলতি অর্থবছরের বাস্তবায়ন হারই সবচেয়ে নিম্নস্তরে অবস্থান করছে।
উল্লেখযোগ্য যে, স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার নিজস্ব অর্থায়নসহ চলতি অর্থবছরের এডিপিতে মোট বরাদ্দ ধরা হয়েছে ২ লাখ ৩৮ হাজার ৬৯৫ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। অর্থবছরের অর্ধেকের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও এই বিপুল বরাদ্দের বড় অংশ এখনো অব্যবহৃত। উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয়ের এই স্থবিরতা শুধু অবকাঠামো নির্মাণ বা সামাজিক খাতে বিনিয়োগ বিলম্বিত করছে না; বরং সামগ্রিক অর্থনীতির গতি, কর্মসংস্থান এবং বেসরকারি বিনিয়োগের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রকল্প অনুমোদন প্রক্রিয়ায় বিলম্ব, অর্থ ছাড়ে জটিলতা, দরপত্র ও বাস্তবায়ন ব্যবস্থাপনায় শৈথিল্য—এসব কারণ সম্মিলিতভাবে এডিপি বাস্তবায়নের গতি কমিয়ে দিতে পারে। ফলে অর্থবছরের বাকি সময়ে ব্যয় বাড়াতে না পারলে বরাদ্দের বড় অংশ অনাব্যবহৃত থেকে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা উন্নয়ন পরিকল্পনার কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তুলবে। ●
অকা/প্র/ই/সকাল/১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ
সর্বশেষ হালনাগাদ 7 hours আগে

