তারেক আবেদীন ●
দেশের দ্বিতীয় প্রজন্মের বেসরকারি ইসলামী ব্যাংক আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক পিএলসি ১৯ মাসে ঋণ জালিয়াতি, সুদ মওকুফসহ ভূয়া প্রতিষ্ঠানের নামে ঋণ বিতরণ, বিভিন্ন প্রকার দুর্নীতি, অবৈধ কর্মকর্তা ও কর্মচারি নিয়োগ ইত্যাদি কারণে প্রতিষ্ঠানটি ক্রমানতির দিকে উপনীত হয়েছে। এক সময়কার লাভজনক ব্যাংকটি এ সময়ে দুর্বল ও অদক্ষ ব্যবস্থাপনা ও পর্ষদের কারণে ব্যাংকটির অস্তিত্ব সংকটের মুখে পড়েছে। ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদসহ সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরমান আর চৌধুরী ও বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. রাফাত উল্লাহ খানের বিরুদ্ধে উল্লিখিত অভিযোগগুলো এনে ২৬ ফেব্রুয়ারি সরকারের দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক বরাবর চিঠি পাঠিয়েছে।
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এর পরিচালক আজিজুল হক স্বাক্ষর করা চিঠিতে এস-শুহি, শিশির নিটিং, ম্যাকট ইন্টারন্যাশনাল ও এক্সিটা লিমিটেড এর ঋণ প্রদান সংক্রান্ত কাগজপত্রের নিদিষ্ট ছকে ঋণের হিসাব নম্বর ও ধরন, আবেদনকারীর নাম ও পদবী, আবেদনকৃত ঋণের পরিমাণ ও তারিখ. মনজুরীকৃত ঋণের পরিমাণ ও তারিখ, বিতরণকৃত ঋণের পরিমাণ ও তারিখ, আসল ও সুদসহ পরিশোধিত ঋণের পরিমাণ, আসল ও সুদসহ বর্তমান দায়ের পরিমাণ, ঋণের বর্তমান মেয়াদ এবং ঋণের সর্বশেষ অবস্থাসহ তথ্য প্রদানের জন্য ব্যাংকটিকে বলা হয়েছে।
২০২৪ সালের ৫ আগষ্টের পর ব্যাংকটির ১ জন এডিশনাল এমডি,৩ জন এসইভিপি, ৫ জন ইভিপি, ৯ জন এসভিপি, ১১ জন ভিপি, ৯ জন এসএভিপি, ১২ জন এভিপি, ৯ জন এফএভিপি, ৪ জন এসপিও, ১১ জন পিও, ২ জন এসইও, ২ জন ইও এবং ১৮ জন এমটিও নিয়োগ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি, পরীক্ষার্থীর আবেদন, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার্থীর খাতা, মৌখিক পরীক্ষার নম্বর তালিকাসহ ফলাফলের গণনা তালিকা এবং উল্লিখিত কর্মকর্তা ও কর্মচারিদের নিয়োগ সংক্রান্ত পরিচালনা পর্ষদের রেজুলেশনের কপি চেয়েছে। ব্যাংকটির বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে দুদক ২০২৪ সালের ৫ আগষ্ট থেকে ২০২৫ সাল অবধি যেসব প্রতিষ্ঠানের ঋণের সুদ মুওকুফ করা হয়েছে তাদের নামের তালিকা, ঋণ প্রদান, ঋণ আদায় ও সুদ মওকুফ সংক্রান্ত যাবতীয় কাগজপত্রসহ পরিচালনা পর্ষদের রেজুলেশন কপি পাঠাতে বলেছে।
দুদকের চাওয়া আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক পিএলসির অনিয়মের অনেক কাগজপত্রের মধ্যে আরও রয়েছে জাতীয় ক্রিকেট লীগ-টি-২০ স্পন্সরশীট গ্রহণ সংক্রান্ত প্রমাণ এবং ডিএমডি মোহাম্মদ হোসেনের ব্যক্তিগত নথি, ব্যাংকটির এমডি নিয়োগের নীতিমালা, ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. রাফাত উল্লাহ খানের এমডি হিসেবে নিয়োগের জন্য নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, পর্ষদের রেজুলেশন, এমডি হিসেবে যাদের নাম বাংলাদেশ ব্যাংকে প্রেরণ করা হয়েছে তাদের তালিকা, বাংলাদেশ ব্যাংকের এমডি নিয়োগের সিলেকশন কপি, নিয়োগপত্র ও যোগদানপত্রসহ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. রাফাত উল্লাহ খানের যাবতীয় শিক্ষাগত যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও জীবন বৃত্তান্তসহ ব্যক্তিগত নথি, ২০২৫ সালের নিরীক্ষা ফার্ম নিয়োগ সংক্রান্ত কাগজপত্র, ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. রাফাত উল্লাহ খানের কর্মকালীন এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের কর বাবদ ৬৮ কোটি টাকা জমা প্রদান করা হয়েছে সে টাকা কোন খাতে জমা করা হয়েছে তার প্রমাণপত্র প্রদান।
আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক পিএলসির নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র জানায় ব্যাংকের আর্থিক খুব একটা ভালো নয়। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ব্যাংকের মূল পর্যাপ্ততা, সম্পদের গুণগত মান, ব্যবস্থাপনা, উপার্জন ক্ষমতা, তারল্য, বাজার ঝুঁকির প্রতি সংবেদনশীলতা এবং ক্যামেলের সংযুত মান ইত্যাদি খুব একটা সন্তোষজনক অবস্থায় নেই। এ সময়ে ১১টি বড় শাখার মধ্যে শুধু চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ ছাড়া ব্যাংকের কোনো শাখারই প্রবৃদ্ধি নেই। সবচেয়ে বেশি ঋণাত্নক প্রবৃদ্ধি গুলশান শাখার। ঋণাত্নক প্রবৃদ্ধি হলো ১৬৯৬ শতাংশ। জানা গেছে, গত দুমাসেও ব্যাংকটি কোন অগ্রগতি দেখাতে পারেনি। ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনায় অদক্ষতার এক বিস্তারিত চিত্র তুলে ধরে একজন উদ্যোক্তা পরিচালক গত ১৭ নভেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংককে পত্র দেয়। চিঠি পেয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক বিস্তারিত উল্লেখ করে তা তদন্ত করার জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনকে জানায়।
আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক পিএলসির ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনকে ৩ মার্চের মধ্যে তথ্য ও উপাত্ত প্রদানের ব্যাপারে সর্বশেষ অবস্থা জানতে অর্থকাগজ এর এ প্রতিবেদক যোগাযোগ করেন একাধিকবার। কিন্তু ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. রাফাত উল্লাহ খান তাতে কোন সাড়া দেননি। ব্যাংকের সূত্রে জানা গেছে, তথ্য প্রদানের জন্য দুদকের কাছে সময় চেয়েছে ব্যাংক। তাছাড়া ফেব্রুয়ারি মাসেও আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক পিএলসির কার্যক্রমে কোন অগ্রগতি নেই। ●
অকা/বিপ্র/ব্যাংখা/ সকাল/ ১০ মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
সর্বশেষ হালনাগাদ 6 hours আগে

