অর্থকাগজ ডেস্ক>
স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে বাংলাদেশের উত্তরণ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের মর্যাদা বাড়ালেও অর্থনীতির সামনে নতুন ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে রপ্তানি, বৈদেশিক ঋণ, বিনিয়োগ ও শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী নেতারা। তাদের মতে, প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি না থাকলে এলডিসি-পরবর্তী সময়ে দেশের অর্থনীতি বাড়তি চাপের মুখে পড়তে পারে।
বর্তমানে এলডিসিভুক্ত দেশ হিসেবে বাংলাদেশ ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিশ্বের বিভিন্ন বাজারে শুল্কমুক্ত বা স্বল্প শুল্কে পণ্য রপ্তানির সুযোগ পাচ্ছে। উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা কার্যকর হলে ধীরে ধীরে এসব বিশেষ সুবিধা কমে যাবে। ফলে তৈরি পোশাকসহ দেশের প্রধান রপ্তানি খাত আন্তর্জাতিক বাজারে কঠিন প্রতিযোগিতার মুখে পড়তে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু রপ্তানি নয়, উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে সহজ শর্তে ঋণ পাওয়ার সুযোগও সীমিত হবে। ভবিষ্যতে তুলনামূলক বেশি সুদে বাণিজ্যিক ঋণের ওপর নির্ভরতা বাড়লে সরকারের ঋণ পরিশোধের ব্যয় বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রার ওপরও অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তাদের ভাষ্য, এলডিসি উত্তরণকে সফল করতে হলে এখন থেকেই অর্থনীতিকে আরও প্রতিযোগিতামূলক করে তুলতে হবে। উৎপাদন ব্যয় কমানো, বন্দর ও কাস্টমস ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, ব্যবসা পরিচালনার জটিলতা দূর করা এবং নতুন রপ্তানি বাজার সৃষ্টি করাই হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
ব্যবসায়ী নেতারা বলছেন, এককভাবে তৈরি পোশাকের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ওষুধ, চামড়া, কৃষিপণ্য, আইটি সেবা এবং হালকা প্রকৌশল শিল্পের মতো সম্ভাবনাময় খাতকে আরও এগিয়ে নিতে হবে। একই সঙ্গে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) ও অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি (পিটিএ) দ্রুত সম্পন্ন করার ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছেন তারা।
অর্থনীতিবিদদের মতে, এলডিসি উত্তরণ কোনো সংকট নয়; বরং এটি একটি নতুন বাস্তবতা। যথাযথ নীতিগত প্রস্তুতি, দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং রপ্তানি বহুমুখীকরণে জোর দেওয়া গেলে বাংলাদেশ এই চ্যালেঞ্জকে অর্থনৈতিক সম্ভাবনায় রূপ দিতে সক্ষম হবে। তবে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও প্রস্তুতিতে বিলম্ব হলে রপ্তানি আয়, কর্মসংস্থান এবং বৈদেশিক লেনদেনে চাপ বাড়ার ঝুঁকি থেকেই যাবে।
সর্বশেষ হালনাগাদ 12 hours আগে

