অর্থকাগজ প্রতিবেদন

কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে সাধারণত গরম মসলার বাজারে চাহিদা ও দাম-দুটোই বেড়ে যায়। তবে, এবার দেখা যাচ্ছে ভিন্নতা। এলাচ থেকে শুরু করে জিরা, জায়ফল, কাঠবাদাম, কাজুবাদাম, কিসমিস, আলু বোখারাসহ প্রায় সব ধরনের মসলার দাম আগের তুলনায় কমেছে।

রাজধানীর বৃহৎ পাইকারি মসলা বাজার পুরান ঢাকার মৌলভীবাজার। সেখানে গিয়ে সরেজমিনে দেখা যায়, দাম কমার সঙ্গে সঙ্গে কমেছে বেচাকেনাও। এসব নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন সেখানকার ব্যবসায়ীরা। তাদের ভাষ্য, গত দুই বছরের তুলনায় এবার মসলার দাম কম এবং বাজারে সরবরাহও বেশি।

বাজারে দেখা যায়, মানভেদে বিভিন্ন ধরনের এলাচ প্রতি কেজি তিন হাজার ৮০০ থেকে পাঁচ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তিনি বলেন, “যে এলাচ এবার পাঁচ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে গত বছর সেটাই ছিল পাঁচ হাজার ৬০০ টাকা।

ব্যবসায়ীরা জানান, মধ্যমানের ‘এলএমজি’ এলাচ বর্তমানে কেজিপ্রতি চার হাজার ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কয়েক সপ্তাহ আগেও এর দাম ছিল ২০০ টাকা বেশি। গত বছর একই এলাচ বিক্রি হয়েছিল চার হাজার ৭০০ থেকে চার হাজার ৮০০ টাকায়। এছাড়া অপেক্ষাকৃত কম মানের ‘এসএমজি’ এলাচ এখন বিক্রি হচ্ছে তিন হাজার ৮০০ টাকায়, যা এক মাস আগে ছিল চার হাজার টাকা। গত বছর এসব এলাচের দাম ছিল চার হাজার ৩০০ টাকা।

বাজারে বর্তমানে ভারতীয় জিরা প্রতি কেজি ৫১৫ টাকা এবং আফগান জিরা ৬৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া প্রতিকেজি লবঙ্গ এক হাজার ৩০০ টাকা, কালো গোলমরিচ এক হাজার ৩০ টাকা, সাদা গোলমরিচ এক হাজার ২৩০ টাকা, জায়ফল মানভেদে ৮০০ থেকে এক হাজার ২০০ টাকা, কাঠবাদাম ও কাজুবাদাম এক হাজার ৩০০ টাকা, সোনালি কিসমিস ৮০০ টাকা এবং লম্বা কিসমিস ৭৯০ টাকা, মেথি ১৩২ টাকা, ধনিয়া ১৬০ টাকা, মৌরি ১৭৫ টাকা এবং দারুচিনি ৪৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, ভারত থেকে চোরাই পথে প্রতিদিন বিভিন্ন ধরনের মসলা দেশে ঢুকছে। এতে বৈধ আমদানিকারকরা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি সরকারও রাজস্ব হারাচ্ছে। কারণ, অবৈধ পথে আসা পণ্যে ট্যাক্স দিতে হয় না। ফলে তারা কম দামে বিক্রি করতে পারে। এতে বৈধ ব্যবসায়ীরা প্রতিযোগিতায় টিকতে পারছেন না।

বাজারে দারুচিনিও বিক্রি হচ্ছে দুই ধরনের। চীন থেকে আমদানি হওয়া ভাঙা দারুচিনি ২৫ কেজির বস্তায় পাওয়া যায়। অন্যদিকে, ভিয়েতনাম থেকে আসা আস্ত দারুচিনি ১০ কেজির প্যাকেটে বিক্রি হয়। ব্যবসায়ীরা জানান, আস্ত দারুচিনির দাম ভাঙা দারুচিনির তুলনায় কেজিতে ৬০ থেকে ৮০ টাকা বেশি।

বর্তমানে চীনা দারুচিনি প্রতি কেজি ৩৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা গত বছর ছিল প্রায় ৩৬০ টাকা। আর ভিয়েতনামের আস্ত দারুচিনি বিক্রি হচ্ছে ৪২০ টাকায়, যা গত বছর ছিল ৪৮০ টাকা।

বেগম বাজার-মৌলভীবাজার বণিক সমিতির সভাপতি হাজী নজরুল ইসলাম বলেন, “কোরবানির আগে অনেক ধরনের মসলার দাম কমে গেছে। প্রতি কেজি আলু বোখারার দাম ৫০০ টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে এক হাজার ৫০ টাকায়। পাঁচ হাজার ২০০ টাকার এলাচ এখন চার হাজার ৮০০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। এতে ব্যবসায়ীদের লোকসান গুনতে হচ্ছে।”

সর্বশেষ হালনাগাদ 21 hours আগে

Leave A Reply

Exit mobile version