অর্থকাগজ ডেস্ক>
বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালে উঠেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। যদিও স্কোরলাইন যতটা সহজ জয়ের গল্প বলে, মাঠের লড়াই ছিল তার চেয়ে অনেক বেশি কঠিন। নির্ধারিত ৯০ মিনিটে ১০ জনের সুইজারল্যান্ডের সঙ্গে ১-১ সমতায় ছিল আর্জেন্টিনা। অতিরিক্ত সময়ের শেষ ভাগে হুলিয়ান আলভারেজ ও লাউতারো মার্তিনেজের দুটি গোলে শেষ পর্যন্ত জয় নিশ্চিত করে আলবিসেলেস্তেরা।
কঠিন এই জয় শেষে উচ্ছ্বাস লুকাননি অধিনায়ক লিওনেল মেসি। ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, “এটি খুবই কষ্টার্জিত একটি জয়। আমরা জানতাম সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে কঠিন লড়াই হবে। শেষ পর্যন্ত ধৈর্য ধরে খেলেছি বলেই জিততে পেরেছি।”
শেষ ষোলোর ম্যাচে মিশরের বিপক্ষে নাটকীয় জয়ের পর আবেগে ভেসে গিয়েছিলেন মেসি। এবারও সতীর্থদের সঙ্গে জার্সি খুলে উচ্ছ্বাসে মাতেন বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক। তবে তার দৃষ্টি এখন সেমিফাইনালের দিকে।
মেসির ভাষায়, “কোয়ার্টার ফাইনাল পার হওয়াটা আমাদের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল। সামনে আরও বড় চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। এই জয় আমাদের আত্মবিশ্বাস বাড়াবে এবং পরের ম্যাচের জন্য চাপ কিছুটা কমিয়ে দেবে।”
আগামী বুধবার আটলান্টায় বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। ম্যাচটি শুধু দুই ফুটবল পরাশক্তির লড়াইই নয়, ব্যক্তিগতভাবেও বিশেষ এক উপলক্ষ হতে যাচ্ছে মেসির জন্য।
দুই দশকেরও বেশি সময়ের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে এবারই প্রথমবারের মতো ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামতে যাচ্ছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। অফিসিয়াল কিংবা প্রীতি ম্যাচ—কোনো প্রতিযোগিতাতেই এর আগে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলার সুযোগ হয়নি তার। এটি হবে মেসির তৃতীয় বিশ্বকাপ সেমিফাইনালও।
বিশ্বকাপ ইতিহাসে অবশ্য আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের দ্বৈরথ বেশ সমৃদ্ধ। এখন পর্যন্ত পাঁচবার বিশ্বকাপের মঞ্চে মুখোমুখি হয়েছে দুই দল। ১৯৬২ ও ১৯৬৬ সালে জয় পেয়েছিল ইংল্যান্ড। এরপর ১৯৮৬ সালের কোয়ার্টার ফাইনালে দিয়েগো ম্যারাডোনার কিংবদন্তি ‘হ্যান্ড অব গড’ এবং ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’র ম্যাচে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে শিরোপার পথে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা।
১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপে ডেভিড বেকহ্যামের লাল কার্ডের ম্যাচে টাইব্রেকারে জিতে শেষ আটে ওঠে আর্জেন্টিনা। তবে ২০০২ সালের বিশ্বকাপে বেকহ্যামের একমাত্র পেনাল্টি গোলে ১-০ ব্যবধানে জিতে সেই হারের প্রতিশোধ নেয় ইংল্যান্ড।
২০০৫ সালের পর আন্তর্জাতিক ফুটবলে আর দেখা হয়নি দুই দলের। প্রায় দুই দশক পর সেই বহুল প্রতীক্ষিত লড়াই ফিরছে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের মতো সবচেয়ে বড় মঞ্চে। আর সেই ম্যাচেই প্রথমবার ইংল্যান্ডের বিপক্ষে নিজের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের নতুন অধ্যায় শুরু করতে যাচ্ছেন লিওনেল মেসি।
সর্বশেষ হালনাগাদ 15 hours আগে

