বিশেষ প্রতিনিধি>
দেশের ব্যাংকিং খাতে জমে থাকা প্রায় ১১ লাখ কোটি টাকার ঝুঁকিপূর্ণ ঋণ সামাল দিতে নতুন ব্যবস্থাপনায় যাচ্ছে সরকার। আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে ঝুঁকিপূর্ণ ঋণ দ্রুত শনাক্ত, আগাম সতর্কতা জোরদার এবং পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া আরও কার্যকর করতে একটি আধুনিক কাঠামো প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ঋণ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার নতুন নীতিমালা তৈরির কাজ চলছে। এর আওতায় ঋণের গুণগত মান নিয়মিত মূল্যায়ন, ঝুঁকির মাত্রা অনুযায়ী শ্রেণিকরণ, সম্ভাব্য খেলাপি ঋণ আগেভাগে শনাক্ত এবং প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণে ব্যাংকগুলোকে বাধ্যতামূলক নির্দেশনা দেওয়া হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, নতুন ব্যবস্থায় শুধু খেলাপি ঋণ চিহ্নিত করাই নয়, বরং ঋণ সংকটে পড়ার আগেই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। একই সঙ্গে পুনঃতফসিল ও পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে আরও কঠোর নজরদারি থাকবে, যাতে একই ঋণ বারবার পুনঃতফসিলের সুযোগ নিয়ে খেলাপি সংস্কৃতি তৈরি না হয়।
ব্যাংক খাতের বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে দুর্বল ঋণ ব্যবস্থাপনা, অনিয়ম এবং অর্থনৈতিক চাপের কারণে ঝুঁকিপূর্ণ ঋণের পরিমাণ অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। এর ফলে ব্যাংকগুলোর মূলধন সক্ষমতা, মুনাফা এবং নতুন ঋণ বিতরণের ক্ষমতা কমে যাচ্ছে। একই সঙ্গে শিল্প ও ব্যবসায় বিনিয়োগ প্রবাহেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
নতুন কাঠামোর অংশ হিসেবে ব্যাংকগুলোর অভ্যন্তরীণ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করা, ঋণ পর্যবেক্ষণে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো এবং উচ্চ ঝুঁকির ঋণের ক্ষেত্রে নিবিড় তদারকির ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। পাশাপাশি ঋণ পুনরুদ্ধারে জবাবদিহি বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হবে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, শুধু নতুন নীতিমালা করলেই হবে না; কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা, স্বচ্ছ ঋণ অনুমোদন প্রক্রিয়া এবং ব্যাংক পরিচালনায় সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা গেলে ঝুঁকিপূর্ণ ঋণের চাপ ধীরে ধীরে কমানো সম্ভব হবে।
সর্বশেষ হালনাগাদ 12 hours আগে

