শাফাআত হিমেল>
জার্মানির শেষ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কবে হয়েছিলো মনে করতে পারেন? আজ থেকে ৮ বছর আগে।
২০১৯-২০২৬ এই সাত বছরে জার্মানি জিডিপি গড়ে ১.৫% বেড়েছে। এই সাত বছরের মধ্যে ৪ বছর স্কোর ছিল নেগেটিভ। ঠিক একই সময়ে চীনের জিডিপি বেড়েছে ৩০% আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জিডিপি ১৫%।
একদিকে জার্মান টেলিভিশন, পত্রিকা খুললেই দেখবেন জার্মানিতে কাজ করার লোক দরকার। মোটামুটি সব সেক্টরেই দক্ষ কর্মীর অভাব। কিন্তু এর মধ্যেই জার্মানিতে বসবাসরত প্রায় ৩০ লাখ বাসিন্দা বেকার! প্রচুর দক্ষ অভিবাসী রয়েছেন যারা যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও জার্মান জব মার্কেটে ঢুকতে পারছেন না। এখানে প্রথম বাধা আমলাতান্ত্রিক অতি-জটিলতা ও জার্মান ভাষায় পারদর্শী হওয়ার পূর্বশর্ত।
দেশটির রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের চিত্র আরও উদ্বেগজনক। জার্মানি যখন দুনিয়াব্যাপী সমান অধিকার, গণতন্ত্র, বাক স্বাধীনতার বাণী প্রচার করলছে, নিজের দেশে রাজনৈতিক মেরুকরণ এই মুহুর্তে একদম চূড়ায়।
এই মুহুর্তে জার্মানিতে সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল কারা? চরম উগ্রপন্থি দল অল্টানাটিভ ফ্যুর ডয়েচলান্ড (এএফডি)। কট্টর অভিবাসন বিরোধী ডানপন্থি এই দলের মধ্যে অনেক নেতাকর্মী আছেন যারা নিজেদের ফ্যাসিস্ট হিসেবে পরিচয় দিতে পছন্দ করেন। দেশটির জাতীয় নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি ভোট নিয়ে ক্ষমতায় আসার আগে আপাতত তাদের নজর চলতি বছর হতে যাওয়া প্রাদেশিক নির্বাচনে। আশ্চর্যজনকভাবে এএফডির সমর্থকদের বেশিরভাগই উঠতি বয়সী কিশোর-কিশোরী ও তরুণ-তরুণীরা। যা নিয়ে খোদ জার্মানরাও চিন্তিত।
ক্ষমতাসীন জোট সরকার (ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রেটিক ইউনিয়ন - সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টি) অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করতে পাবলিক পলিসি বা জননীতিতে বেশ কিছু সংস্কার ও সংযোজন করতে যাচ্ছে। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে নিম্ন আয় ও মধ্যম আয়ের মানুষের করের বোঝা কমানো ও ধনী লোকের করের পরিমান বাড়ানো। জনসাস্থ্য নীতিতেও পরিবর্তন আসছে। বর্তমান নিয়ম অনুসারে জার্মানিতে বসবাসরত পরিবারগুলোর ক্ষেত্রে একটি হেলথ ইন্সুরেন্সই যথেষ্ট ছিল। তবে নতুন আইন পাস হলে পরিবারের অন্য সদস্যদের জন্যও গুনতে হবে বাড়তি টাকা।
এতকিছুর পরও জার্মানি নিজের ঘর না সামলে ব্যস্ত অ্যামেরিকার শুরু করা যুদ্ধে অংশ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য প্রকাশে । এখনও ইউক্রেন -রাশিয়া যুদ্ধ, ইরান যুদ্ধের কোন কূল কিনারা হয়নি। জার্মানি-ফ্রান্স একত্রিত হয়ে লেবাননে যুদ্ধের সমাপ্তি টানার চেষ্টা করছে। কিন্তু এর মধ্যেই দূর আকাশে ধোঁয়া দেখা যাচ্ছে তাইওয়ান যুদ্ধের।
লেখক : সাংবাদিক ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক।
সর্বশেষ হালনাগাদ 4 hours আগে

