নিজস্ব প্রতিবেদক>
বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসের অন্যতম জনপ্রিয় কৌতুক অভিনেতা দিলদার। পর্দায় তার উপস্থিতি মানেই ছিল দর্শকদের জন্য বাড়তি আনন্দ। আজ ১৩ জুলাই, এই গুণী অভিনেতার মৃত্যুদিন। ২০০৩ সালের এই দিনে মাত্র ৫৮ বছর বয়সে তিনি না ফেরার দেশে পাড়ি জমান।
একসময় দিলদারের মৃত্যুদিনে এফডিসিসহ বিভিন্ন চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট সংগঠনের পক্ষ থেকে নানা স্মরণসভার আয়োজন করা হতো। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় সেই আনুষ্ঠানিকতায় ভাটা পড়েছে। এখন মূলত তার পরিবারের একান্ত সান্নিধ্যেই স্মরণ করা হয় তাকে। চলচ্চিত্র পাড়ায় তার স্মরণে বড় কোনো আয়োজন চোখে না পড়লেও, সাধারণ দর্শকদের হৃদয়ে তিনি রয়ে গেছেন আজও অমলিন।
পর্দায় দিলদারের জাদু
১৯৭৫ সালে ‘কেন এমন হয়’ সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় যাত্রা শুরু করেন দিলদার। এরপর দীর্ঘ ক্যারিয়ারে প্রায় ৫০০টিরও বেশি সিনেমায় অভিনয় করেছেন তিনি। বিশেষ করে নব্বইয়ের দশকে তার জনপ্রিয়তা ছিল আকাশচুম্বী। তখনকার প্রায় প্রতিটি সুপারহিট সিনেমাতেই তার উপস্থিতি ছিল অনিবার্য। সালমান শাহ থেকে শুরু করে সেই সময়ের সব শীর্ষ নায়কের সঙ্গেই তার অনবদ্য রসায়ন দর্শককে মুগ্ধ করত।
১৯৯৩ সালে ‘বিক্ষোভ’ সিনেমায় অভিনয়ের সময় থেকে বাংলা চলচ্চিত্রে তাকে নিয়ে আলাদা গান ও নাচ চিত্রায়ণের রীতি শুরু হয়, যা ছিল সেই সময়ের প্রেক্ষাপটে অনন্য। মূলত তার অভিনীত চরিত্রগুলোর জনপ্রিয়তা এতটাই ছিল যে, অনেক সময় মূল গল্পের চেয়েও দর্শকদের কাছে তার অভিনয়ের গুরুত্ব ছিল বেশি।
উপস্থাপনায় শ্রেষ্ঠত্ব
দিলদার শুধু কৌতুক অভিনেতাই ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন সার্থক শিল্পী যিনি হাস্যরসের আড়ালে সমাজ ও জীবনের নানা অসঙ্গতিকে সহজ-সরলভাবে তুলে ধরতেন। হাসির ছলে দর্শকদের আনন্দ দেওয়ার ক্ষমতা তার সহজাত ছিল। কোনো চলচ্চিত্রকে বাণিজ্যিকভাবে সফল করতে দিলদারের উপস্থিতিই তখন ছিল অনেকটা ‘নিশ্চয়তা’।
দর্শকের হৃদয়ে অমর
আজকের ব্যস্ত সময়ে বড় কোনো আনুষ্ঠানিকতা হয়তো তাকে ঘিরে হচ্ছে না, কিন্তু ইউটিউব বা টেলিভিশনের পর্দায় আজও যখন তার কোনো সিনেমা প্রচারিত হয়, তখন দর্শক সেই পুরোনো হাসিতেই মেতে ওঠেন। আনুষ্ঠানিক স্মরণের চেয়েও বড় অর্জন একজন শিল্পীর জন্য সাধারণ মানুষের ভালোবাসা—আর সেই ভালোবাসার সিংহাসনে দিলদার আজও অধিষ্ঠিত।
সর্বশেষ হালনাগাদ 2 days আগে

