কামরুজ্জামান চাঁদ>

দেশের ৩৬টি জীবন বীমা কোম্পানির মধ্যে ২২টি কোম্পানিই অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা ব্যয় করেছে। অথচ কোম্পানিগুলোতে গ্রাহক বছরের পর বছর ঘুরেও পাচ্ছে না তাদের প্রাপ্য টাকা।

বীমা খাতের নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) থেকে প্রাপ্ত অনিরীক্ষিত হিসাব অনুযায়ী চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) হতাশাব্যঞ্জক এ চিত্র দেখা যায়। অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা ব্যয়ের শীর্ষে অবস্থানকারী ক্রমানুসারে ২২টি জীবন বা লাইফ বীমা কোম্পানিগুলো হলো –

১. মেটলাইফ, ২. জীবন বীমা কর্পোরেশন (জেবিসি), ৩. ফারইষ্ট ইসলামী লাইফ, ৪. প্রাইম ইসলামী লাইফ, ৫. শান্তা লাইফ, ৬. বেঙ্গল ইসলামি লাইফ, ৭. রূপালী লাইফ, ৮. জেনিথ ইসলামী লাইফ, ৯. সানলাইফ, ১০. এনআরবি ইসলামিক লাইফ, ১১. প্রোটেক্টিভ ইসলামী লাইফ, ১২. প্রগ্রেসিভ লাইফ, ১৩. পদ্মা ইসলামী লাইফ, ১৪. স্বদেশ ইসলামী লাইফ, ১৫. যমুনা লাইফ, ১৬. চার্টার্ড লাইফ, ১৭. গোল্ডেন লাইফ, ১৮. বায়রা লাইফ, ১৯. বেস্ট লাইফ, ২০. সানফ্লাওয়ার লাইফ, ২১. এল আই সি (লাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানী বাংলাদেশ লিমিটেড) ও ২২. হোমল্যান্ড লাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানী লিমিটেড।

জানা গেছে, আইডিআরএ অনুমোদিত ব্যবস্থাপনা ব্যয় সীমার চেয়ে বীমা কোম্পানিগুলোর অতিরিক্ত ব্যয়ে মেটলাইফ ২৫৪ কোটি ৮২ লাখ টাকার বিপরীতে ২৬৬ কোটি ৪৯ লাখ, জেবিসি ৩৪ কোটি ৮০ লাখ টাকার বিপরীতে ৪৪ কোটি ৩০ লাখ, ফারইষ্ট ইসলামী লাইফ ৬ কোটি ৩৬ লাখ টাকার বিপরীতে ১৪ কোটি ৭১ লাখ , প্রাইম ইসলামী লাইফ ১৭ কোটি ৭৬ লাখ টাকার বিপরীতে ২২ কোটি ৫ লাখ, শান্তা লাইফ ৭৯ লাখ টাকার বিপরীতে ৪ কোটি ৫১ লাখ, বেঙ্গল ইসলামি লাইফ ৯ কোটি ৬৫ লাখ টাকার বিপরীতে ১২ কোটি ৫৯ লাখ, রূপালী লাইফ ১৩ কোটি ২ লাখ টাকার বিপরীতে ১৫ কোটি ১৬ লাখ, জেনিথ ইসলামী লাইফ ৪ কোটি ৫৫ লাখ টাকার বিপরীতে ৬ কোটি ৩৯ লাখ, সানলাইফ ৬৯ লাখ টাকার বিপরীতে ২ কোটি ৩৪ লাখ, এনআরবি ইসলামিক লাইফ ২ কোটি ১৮ লাখ টাকার বিপরীতে ৩ কোটি ৮২ লাখ, প্রোটেক্টিভ ইসলামী লাইফ ১ কোটি ৩৪ লাখ টাকার বিপরীতে ২ কোটি ৮৭ লাখ, প্রগ্রেসিভ লাইফ ২ কোটি ৭৯ লাখ টাকার বিপরীতে ৪ কোটি ৩১ লাখ, পদ্মা ইসলামী লাইফ ২ কোটি ১৪ লাখ টাকার বিপরীতে ৩ কোটি ৫৯ লাখ, স্বদেশ ইসলামী লাইফ ১ কোটি ৫৫ লাখ টাকার বিপরীতে ২ কোটি ৮৯ লাখ, যমুনা লাইফ ১ কোটি ৩৫ লাখ টাকার বিপরীতে ২ কোটি ৩২ লাখ, চার্টার্ড লাইফ ৬ কোটি ৬৪ লাখ টাকার বিপরীতে ৭ কোটি ৫০ লাখ, গোল্ডেন লাইফ ৬৬ লাখ টাকার বিপরীতে ২ কোটি ২৯ লাখ, বায়রা লাইফ ৪৯ লাখ, বেস্ট লাইফ ৩ কোটি ২১ লাখ টাকার বিপরীতে ৩ কোটি ৬৫ লাখ, সানফ্লাওয়ার লাইফ ৯০ লাখ টাকার বিপরীতে ১ কোটি ৩৮ লাখ, এল আই সি (লাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানী বাংলাদেশ লিমিটেড) ১ কোটি ৯২ লাখ টাকার বিপরীতে ২ কোটি ৩১ লাখ ও হোমল্যান্ড লাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানী লিমিটেড ৯ লাখ টাকার বিপরীতে ৩৮ লাখ টাকা ৩ মাসে খরচ করেছে।

উপাত্ত সারণীতে দেখা যায়, দেশে বীমা ব্যবসায়ে পরিচালিত ৩৬টি লাইফ কোম্পানির ৩ মাসে অনিষ্পন্ন গ্রাহক দাবির পরিমাণ ৪ হাজার ৪১০ কোটি ১২ লাখ টাকা। দাবির সংখ্যা ৪ লাখ ৫৬ হাজার ১৪টি।     

বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) একজন পদস্থ কর্মকর্তা অর্থকাগজকে বলেন, গ্রাহক বীমার প্রিমিয়াম জমা দেয় নিদিষ্ট সময় শেষে তার প্রাপ্য পাওয়ার আশায়। গ্রাহকের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী কোম্পানিগুলো মেয়াদ শেষে নির্ধারিত সময়ে দাবি পরিশোধ করার কথা থাকলেও বেশির ভাগ গ্রাহককে পাওনা টাকা দেয় না বরং ফোর্স পলিসি করার জন্য বাধ্য করে। বোনাস প্রদানতো দুরের কথা। অনেক কোম্পানি জীবন তহবিল (লাইফ ফান্ড) শক্তিশালী করার জন্য আমানতের সুরক্ষার পরিবর্তে তা ভেঙ্গে খেয়ে ফেলে। সময়মত জীবন বীমা দাবি নিস্পত্তি না করে আইনের নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করে লাগামহীন ব্যবস্থাপনা ব্যয় করছে দেশের বেশির ভাগ জীবন বীমা কোম্পানি। ফলে বীমায় গ্রাহক আস্থা বাড়ছে না।

 সবচেয়ে ব্যবস্থাপনা ব্যয় কম গার্ডিয়ান লাইফের

তথ্য অনুযায়ী, ১৪টি লাইফ বীমা কোম্পানি আইডিআরএ অনুমোদিত ব্যবস্থাপনা ব্যয় সীমার মধ্যে থেকেছে। কেউ কেউ আবার অনেক কম খরচ করেছে। এ সময়ে সবচেয়ে কম ব্যবস্থাপনা খরচ করেছে চতুর্থ প্রজন্মের জীবন বীমা কোম্পানি গার্ডিয়ান লাইফ। জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে কোম্পানিটির অনুমোদিত সর্বোচ্চ ব্যবস্থাপনা ব্যয় সীমা ছিল ৬৩ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। অথচ তারা ব্যয় করেছে এ সময় অবধি ৫০ কোটি ১ লাখ টাকা। ১৩ কোটি ৬৬ লাখ টাকা কম খরচ করেছে কোম্পানিটি। অনুমোদিত ব্যবস্থাপনা ব্যয় সীমার চেয়ে কম ব্যবস্থাপনা ব্যয়ে দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে রয়েছে – ডেলটা লাইফ ও মেঘনা লাইফ। ডেলটা ৮ কোটি ৭৮ লাখ এবং মেঘনা লাইফ ৩ কোটি ৮৯ লাখ টাকা কম ব্যয় করেছে এ সময়ে।  

 

সর্বশেষ হালনাগাদ 2 days আগে

Leave A Reply

Exit mobile version