অর্থকাগজ প্রতিবেদন ●
দেশে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ স্থবির হয়ে পড়েছে। ফলে পাথরের চাহিদাও কমে গেছে। এ কারণে ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে দেশে পাথর আমদানির পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে। গত অর্থ বছরের প্রথম তিন মাসের তুলনায় চলতি অর্থ বছরের একই সময়ে ১ লাখ ২৬ হাজার টন আমদানি কমেছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা বলছেন, আমদানি মূল্যের তুলনায় দেশের বাজারে দাম কমে যাওয়ায় তারা পাথর আমদানি কমিয়ে দিয়েছেন। এমনকি লোকসান এড়াতে অনেক ব্যবসায়ী পাথর আমদানি বন্ধ করে দিয়েছেন।

ভোমরা শুল্ক স্টেশনের রাজস্ব বিভাগ জানায়, ২০২৪-২৫ অর্থ বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) এ বন্দর দিয়ে ২ লাখ ২৬ হাজার ৩৯৫ টন পাথর আমদানি করা হয়েছিল। যার আমদানি মূল্য ৪৫ কোটি ৮০ লাখ টাকা। এর আগে গত অর্থ বছরের একই সময়ে পাথর আমদানি হয়েছিল ৩ লাখ ৫২ হাজার ৮৮৪ টন, যার আমদানি মূল্য ছিল ৫৯ কোটি ৪ লাখ টাকা। এ হিসাব অনুযায়ী চলতি অর্থ বছরের প্রথম প্রান্তিকে এ বন্দর দিয়ে পাথর আমদানি কমেছে ১ লাখ ২৬ হাজার ৪৮৯ টন।

ভোমরা স্থলবন্দরের পাথর আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স রোহিত এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী রামকৃষ্ণ চক্রবর্তী জানান, সারা বছরই তার প্রতিষ্ঠান বিপুল পরিমাণ পাথর আমদানি করে থাকে। নির্মাণকাজে ব্যবহৃত ব্রোকেল স্টোন বা কালো পাথর ভারতের ঝাড়খণ্ড থেকে আমদানি করে তা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা হয়। কিন্তু সাম্প্রতিককালে পাথর আমদানি করে ব্যাপক লোকসানের মুখে পড়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

তিনি বলেন, ‘ভারত থেকে প্রতি টন পাথর আমদানিতে বর্তমানে ৪ হাজার ১০০ টাকা ব্যয় হয়, যা দেশের সরবরাহকারীদের কাছে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৯০০ টাকা থেকে ৪ হাজার টাকা মূল্যে বিক্রি হচ্ছে। ফলে প্রতি টন পাথরে লোকসান হচ্ছে ১৫০-২০০ টাকা।’

দেশে পাথরের মূল্য কমে যাওয়া প্রসঙ্গে এ আমদানিকারক জানান, সরকারি বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ স্থবির হয়ে আছে। ফলে পাথরের চাহিদা কমে গিয়ে দামও নিম্নমুখী হতে শুরু করেছে। এ অবস্থায় আপাতত পাথর আমদানি বন্ধ রেখেছেন বলেও জানান তিনি।

ভোমরা স্থলবন্দরের পাথর আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স বিএম করপোরেশনের স্বত্বাধিকারী ও ভোমরা সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ব্যবসায়ী অ্যাসোসিয়েশনের কোষাধ্যক্ষ আব্দুল গফুর জানান, এ বন্দর দিয়ে যত ধরনের পণ্য আমদানি হয়ে থাকে তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি আসে পাথর। দেশের বড় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো ভোমরা থেকে পাথর ক্রয় করে থাকে।

তিনি বলেন, ‘ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে অন্তত ১৫০-১৬০টি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান ভারত থেকে পাথর আমদানি করে। কিন্তু বর্তমানে চাহিদা অনেক কমে গেছে। ফলে আমদানিও অনেকাংশে কমে গেছে।’ তবে আগামী শীত মৌসুমে আবারো পাথর আমদানি বাড়বে বলে আশা করছেন এ আমদানিকারক।

সাতক্ষীরা সদরের প্রথম শ্রেণীর ঠিকাদার আব্দুল আলিম ও শেখ মাসুদ হোসেন জানান, বর্ষা মৌসুম ও দেশের বর্তমান পরিস্থিতির কারণে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ স্থবির হয়ে পড়েছে। ফলে পাথরের চাহিদা কমে গিয়ে আমদানি নিম্নমুখী হয়েছে। ●

অকা/আখা/ফর/দুপুর/২ নভেম্বর, ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দ

সর্বশেষ হালনাগাদ 1 year আগে

Leave A Reply

Exit mobile version