অর্থকাগজ প্রতিবেদন 
জরুরি ভিত্তিতে ভারত থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে প্রায় সাত হাজার টন ডিজেল আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)।

বিপিসির পরিচালক (অপারেশন ও পরিবহন) অনুপম বড়ুয়া বলেন, ‘উত্তরাঞ্চলে ডিজেলের সংকট দেখা দিয়েছে। রেলপথে আগে যেভাবে আমরা জ্বালানি পাঠাতাম সেটা গত কয়েক দিন ধরে পাঠানো সম্ভব হচ্ছে না। পার্বতীপুর ডিপোয় জ্বালানি তেলের মজুদ একেবারেই কমে গেছে। যে কারণে পরিস্থিতি মোকাবেলায় ভারত-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইনের মাধ্যমে প্রায় সাত হাজার টন ডিজেল আমদানি করা হচ্ছে। এর মধ্যে প্রায় চার হাজার টন ডিজেল গতকাল দিবাগত রাতের মধ্যে পৌঁছানোর কথা ছিল। বাকি তিন হাজার টন ডিজেল আগামী সপ্তাহের শুরুর দিকে আসবে। এ ডিজেল ভারতের নুমালিগড় রিফাইনারি (এনআরএল) থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে আনা হচ্ছে।’

বিপিসির কর্মকর্তারা জানান, দৌলতপুর ডিপো থেকে রেলপথে ওয়াগনের মাধ্যমে পার্বতীপুর ডিপোয় জ্বালানি সরবরাহ করা হতো। কিন্তু বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে দেশের সড়ক ও রেলপথে অচলাবস্থা দেখা দিয়েছে। ফলে যে সব ডিপোয় রেলওয়ের ওয়াগনের মাধ্যমে জ্বালানি পরিবহন সরবরাহ করা হতো সেটি আপাতত বন্ধ রয়েছে। এমন পরিস্থিতি হতে পারে ধারণা করে গত সপ্তাহেই ভারত থেকে ডিজেল আমদানির জন্য এলসি খোলে বিপিসি।

তারা আরো জানান, বর্তমানে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের ডিপোগুলোয় জ্বালানি সরবরাহ মোটামুটি নিশ্চিত করা গেলেও উত্তরাঞ্চলে সেটা সম্ভব হয়নি। কৃষিসহ অন্যান্য খাতে ডিজেলের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় সংকটও বেড়েছে সেখানে। রেলওয়ে কর্তৃপ ওয়াগন দিতে পারবে কিনা সেটি নিয়ে বারবার তাগাদা দেয়া হলেও তারা নিশ্চয়তা দিতে পারেননি। যে কারণে ভারত থেকে জরুরি ভিত্তিতে ডিজেল আমদানি করতে হচ্ছে।

জানা যায়, বিপিসির ডিপোগুলোয় পর্যাপ্ত ডিজেল মজুদ থাকার পরও শুধু রেলযোগাযোগ বন্ধ থাকার কারণে প্রয়োজনীয় ডিজেল সরবরাহ করা যাচ্ছে না। সে কারণে ভারত থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে ডিজেল আমদানি করা হচ্ছে। রেলপথ স্বাভাবিক হলে জ্বালানি পরিবহনে কোনো সংকট থাকবে না বলেও আশা করছেন বিপিসির কর্মকর্তারা। ●

অকা/জ্বালানি/ফর/সন্ধ্যা/৩১ জুলাই, ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দ

সর্বশেষ হালনাগাদ 2 years আগে

Leave A Reply

Exit mobile version