অর্থকাগজ প্রতিবেদন>
দেশে মূল্যস্ফীতির ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় কিছুটা লাগাম টেনেছে জুন মাস। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, জুনে সার্বিক মূল্যস্ফীতি কমে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ১৬ শতাংশে, যা আগের মাসের তুলনায় কিছুটা নিম্নমুখী। ফলে দীর্ঘদিন পর মূল্যস্ফীতির চাপে সামান্য হলেও স্বস্তির আভাস দেখা যাচ্ছে।
মঙ্গলবার প্রকাশিত বিবিএসের ভোক্তা মূল্যসূচক (সিপিআই) প্রতিবেদনে দেখা যায়, মে মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ৩৫ শতাংশ। সেই তুলনায় জুনে তা ০ দশমিক ১৯ শতাংশ পয়েন্ট কমেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি কমে আসাই সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি হ্রাসের প্রধান কারণ। নতুন মৌসুমের ফসল বাজারে আসা, কিছু নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ বৃদ্ধি এবং বাজারে তুলনামূলক স্থিতিশীলতা খাদ্যদ্রব্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করেছে।
অন্যদিকে, খাদ্যবহির্ভূত খাতে মূল্যস্ফীতির চাপ এখনও পুরোপুরি কমেনি। বাসাভাড়া, জ্বালানি, পরিবহন, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষা খাতে ব্যয় বৃদ্ধির প্রভাব এ খাতে মূল্যস্ফীতি তুলনামূলক বেশি রেখেছে।
শহর ও গ্রাম—উভয় এলাকাতেই মূল্যস্ফীতির হার কিছুটা কমেছে। তবে গ্রামীণ ও নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য খাদ্যপণ্যের দাম এখনও বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অর্থনীতিবিদদের মতে, মূল্যস্ফীতির হার কমে আসা ইতিবাচক সংকেত হলেও এটিকে স্থায়ী প্রবণতায় পরিণত করতে সরবরাহব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা, বাজার তদারকি বাড়ানো এবং মুদ্রানীতির কার্যকর বাস্তবায়ন প্রয়োজন। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি ও খাদ্যপণ্যের দামের ওঠানামাও মূল্যস্ফীতির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক মূল্যস্ফীতি এক অঙ্কে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নিয়ে বিভিন্ন নীতি ও পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করছে। জুনের পরিসংখ্যান সেই প্রচেষ্টার আংশিক ইতিবাচক ফলাফল হিসেবে দেখা হলেও, মূল্যস্ফীতিকে আরও সহনীয় পর্যায়ে আনতে ধারাবাহিক উদ্যোগের প্রয়োজন রয়েছে।
সর্বশেষ হালনাগাদ 7 hours আগে

