অর্থকাগজ প্রতিবেদন> 

দেশীয় বস্ত্রশিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে এবং রপ্তানি উৎসাহিত করতে রপ্তানিমুখী স্থানীয় বস্ত্র খাতে নগদ সহায়তার হার বৃদ্ধি করেছে সরকার। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত সুতা, কাপড় ও অন্যান্য বস্ত্রপণ্য ব্যবহার করে তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো আগের তুলনায় বেশি নগদ প্রণোদনা পাবে।

সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। নতুন প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, স্থানীয় মূল্য সংযোজন বাড়ানো এবং দেশীয় বস্ত্রশিল্পকে আরও শক্তিশালী করাই এ সিদ্ধান্তের মূল উদ্দেশ্য।

সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দেশীয় উৎস থেকে সংগৃহীত সুতা, কাপড় ও অন্যান্য বস্ত্র উপকরণ ব্যবহার করে তৈরি রপ্তানিযোগ্য পোশাকের ক্ষেত্রে নগদ সহায়তার হার ১ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২ শতাংশ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এতে স্থানীয় স্পিনিং, উইভিং, ডাইং ও ফিনিশিং শিল্পের উৎপাদন ও বিনিয়োগে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

বস্ত্র ও পোশাক খাত সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তারা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা দিন দিন কঠিন হয়ে উঠছে। উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, জ্বালানি সংকট এবং বৈশ্বিক মূল্যচাপের কারণে রপ্তানিকারকদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে নগদ সহায়তা বৃদ্ধি রপ্তানিকারকদের জন্য কিছুটা স্বস্তি এনে দেবে।

বিশেষ করে দেশীয় কাঁচামাল ব্যবহারে উৎসাহ বাড়লে আমদানিনির্ভরতা কমবে এবং দেশের অভ্যন্তরীণ শিল্পের সক্ষমতা আরও শক্তিশালী হবে। একই সঙ্গে স্থানীয় মূল্য সংযোজন বৃদ্ধি পাওয়ায় রপ্তানি আয়েও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তবে খাতসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী নেতারা বলছেন, শুধু নগদ সহায়তা বাড়ালেই হবে না। শিল্পের টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ, সহজ ব্যাংকঋণ, বন্দর ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা বৃদ্ধি এবং ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় কমানোর মতো বিষয়েও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান উৎস তৈরি পোশাক খাত। এই খাতের সঙ্গে দেশীয় বস্ত্রশিল্পের নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। ফলে স্থানীয় কাঁচামালের ব্যবহার বাড়াতে সরকারের এই উদ্যোগ দীর্ঘমেয়াদে শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সর্বশেষ হালনাগাদ 5 hours আগে

Leave A Reply

Exit mobile version