অর্থকাগজ প্রতিবেদন ●
সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করা ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের জন্য স্বস্তির বার্তা দিয়েছে সরকার। গত বছরের ডিসেম্বর ও চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে অনিচ্ছাকৃতভাবে যে অতিরিক্ত উৎসে কর কেটে নেওয়া হয়েছিল, তা ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, ২০১৯ সালের বিদ্যমান প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত সঞ্চয়পত্র বিনিয়োগে মুনাফার ওপর উৎসে করের হার ৫ শতাংশই বহাল থাকবে। একই সঙ্গে পেনশনার সঞ্চয়পত্রে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগে কোনো কর প্রযোজ্য হবে না।
বাস্তবে কোনো নতুন প্রজ্ঞাপন জারি না করেই গত ডিসেম্বর থেকে হঠাৎ করে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও ১০ শতাংশ হারে উৎসে কর কাটা শুরু হয়। এর ফলে সারা দেশে প্রায় ১৪ লাখ ৫০ হাজার ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হন। নভেম্বর মাসের তুলনায় তাঁদের মাসিক মুনাফা কমে যায় প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত, যা নির্ভরশীল অনেক পরিবারের জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ ও ক্ষোভ দেখা দেয়।
এই পরিস্থিতিতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড দ্রুত হস্তক্ষেপ করে। এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান ক্ষতিগ্রস্তদের আশ্বস্ত করে জানান, ভুলভাবে কেটে নেওয়া অতিরিক্ত অর্থ ফেরত দেওয়া হবে। তাঁর ঘোষণামতে, প্রায় ২৫ কোটি টাকা বিনিয়োগকারীদের কাছে ফেরত দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা সরকারের রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় দায়বদ্ধতার একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এনবিআর ও জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রবাসী কিংবা দেশীয় যেকোনো বিনিয়োগকারীর সব ধরনের সঞ্চয়পত্রে মোট বিনিয়োগ যদি ৫ লাখ টাকার বেশি হয়, কেবল তখনই আয়কর আইন ২০২৩-এর ১০৫ ধারা অনুযায়ী ১০ শতাংশ উৎসে কর প্রযোজ্য হবে। ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আগের নিয়মে ৫ শতাংশ করই কার্যকর থাকবে। এই সিদ্ধান্ত সঠিকভাবে বাস্তবায়নের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের এসপিএফএমএস কর্মসূচির পরিচালককে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যাতে প্রযুক্তিগত ত্রুটি দ্রুত সমাধান করে কর কর্তনের প্রক্রিয়া স্বাভাবিক করা যায়।
ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের জন্য বাড়তি কেটে নেওয়া অর্থ ফেরতের পথও উন্মুক্ত করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংযুক্ত করে অনলাইনের মাধ্যমে আবেদন করলেই ফেরত পাওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যাবে। এনবিআর চেয়ারম্যান পরিষ্কারভাবে বলেছেন, ২০১৯ সালের প্রজ্ঞাপন বহাল থাকা অবস্থায় ৫ শতাংশ করের বিধান পরিবর্তনের কোনো সুযোগ নেই।
যেভাবে শেয়ার বাজারে নিয়ম বহির্ভূত সিদ্ধান্ত বিনিয়োগকারীদের আস্থাকে নড়বড়ে করে তোলে, ঠিক তেমনি রাষ্ট্রীয় সঞ্চয় স্কিমে হঠাৎ কর বিভ্রান্তি সাধারণ মানুষের আস্থায় ধাক্কা দিয়েছিল। সেই ভুল দ্রুত সংশোধন করায় সরকার বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধারের সুযোগ পেয়েছে। চলতি অর্থবছরের রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে—এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল। ●
অকা/রা/ই/সকাল/৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ
সর্বশেষ হালনাগাদ 24 hours আগে

