অর্থকাগজ ডেস্ক>

​চলচ্চিত্র জগতের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে। প্রথমবারের মতো কোনো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) চালিত ভার্চুয়াল অভিনেত্রী একটি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করতে যাচ্ছেন। আলোচিত এই ভার্চুয়াল চরিত্রের নাম ‘টিলি নরউড’। 

ব্রিটিশ স্টুডিও ‘পার্টিকেল৬’ প্রযোজিত ‘মিসঅ্যালাইনড' নামক চলচ্চিত্রটি পরিচালনার মাধ্যমে এই অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে। টিলি নরউড রক্ত-মাংসের মানুষ নন; বরং অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় মানুষের আবেগ, অভিব্যক্তি এবং সূক্ষ্ম অভিনয়ের আদলে তৈরি একটি এআই চরিত্র।

টিলি নরউড কেবল একটি অ্যানিমেশন চরিত্র নয়। স্টুডিও সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ তিন বছরের গবেষণার ফসল এই এআই অভিনেত্রী। হাজার হাজার ঘণ্টা মানুষের আবেগী অভিনয়ের ফুটেজ বিশ্লেষণ করে এবং নিউরাল নেটওয়ার্ক মডেল প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাকে তৈরি করা হয়েছে।

​টিলির প্রতিটি অভিব্যক্তি এবং কথোপকথনের ধরণ এমনভাবে প্রোগ্রাম করা হয়েছে যা মানুষের স্বাভাবিক আচরণের সাথে হুবহু মিলে যায়।
​আবেগী সক্ষমতা: টিলিকে এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যাতে সে পরিস্থিতির প্রয়োজনে নিজের অভিনয়ের স্বর এবং শারীরিক ভাষা পরিবর্তন করতে পারে।

এই ঘোষণা চলচ্চিত্র শিল্পে যেমন ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে, তেমনি তৈরি করেছে নানা বিতর্কের। একদিকে চলচ্চিত্র নির্মাতারা প্রযুক্তি ও শিল্পের এই মেলবন্ধনকে যুগান্তকারী হিসেবে দেখছেন, অন্যদিকে অভিনয়শিল্পীদের মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্বারা কর্মসংস্থান হারানোর ভীতি তৈরি হয়েছে।

​‘পার্টিকেল৬’ স্টুডিওর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মানুষের জায়গা দখল করা তাদের উদ্দেশ্য নয়, বরং সৃজনশীলতার সীমাবদ্ধতাকে কাটিয়ে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার উন্মোচন করাই এই প্রজেক্টের লক্ষ্য। ‘মিসঅ্যালাইনড’ চলচ্চিত্রটি মুক্তি পাওয়ার পর দর্শক ও সমালোচকদের কাছে টিলি নরউড কতটা গ্রহণযোগ্যতা পায়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

সর্বশেষ হালনাগাদ 12 hours আগে

Leave A Reply

Exit mobile version