অর্থকাগজ ডেস্ক 

আগামী বছর ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ৬৯তম গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডসের জন্য কোনো গান বা অ্যালবাম জমা না দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে বিশ্বসংগীতের সবচেয়ে প্রভাবশালী কে-পপ ব্যান্ড বিটিএস। আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে গ্র্যামির এই আসর বসার কথা রয়েছে। বিশ্বজুড়ে ব্যান্ডটির কোটি কোটি ভক্ত বা ‘আর্মি’র জন্য এই সংবাদটি অপ্রত্যাশিত হলেও এটি বৈশ্বিক সংগীত ইন্ডাস্ট্রির অন্তর্নিহিত বৈষম্য ও কাঠামোগত সীমাবদ্ধতার এক বড় প্রতিচ্ছবি। বিটিএসের সাত সদস্য—আরএম, জিন, সুগা, জে-হোপ, জিমিন, ভি এবং জাংকুক—তাদের ব্যক্তিগত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একযোগে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। যৌথ বিবৃতিতে তারা স্পষ্ট করেছেন যে, সঙ্গীতকে কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চল, জাতি বা ভাষার গণ্ডিতে আটকে ফেলা উচিত নয়। ভাষা বা ভৌগোলিক সীমানার ঊর্ধ্বে উঠে সংগীত তার স্বকীয়তায় সমাদৃত হওয়া উচিত। বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা সফলভাবে সম্পন্ন করার পর চলতি বছরই তারা পূর্ণাঙ্গভাবে সংগীতে ফিরেছেন এবং বিশ্ববাজারে তাদের প্রত্যাবর্তনের অ্যালবাম ‘আরিরাং’ তুমুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। এমন একটি সাফল্যের সময়ে গ্র্যামি থেকে নিজেদের দূরে সরিয়ে নেওয়ার এই ঘোষণা বিশ্বমঞ্চে এক জোরালো বার্তা দিল।
​বিশ্লেষকদের মতে, বিটিএসের এই বয়কটের মূল কারণ রেকর্ডিং একাডেমির সম্প্রতি প্রবর্তিত ‘সেরা এশিয়ান পপ মিউজিক পারফরম্যান্স’ নামক নতুন ক্যাটাগরি। গ্র্যামি কর্তৃপক্ষ যখন এশিয়ান মিউজিক মার্কেটকে মূলধারার বাইরে একটি আলাদা শ্রেণীতে রূপান্তরের ঘোষণা দেয়, তখন থেকেই এর তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। সমালোচকদের মতে, এশিয়ান শিল্পীদের মূল ক্যাটাগরি থেকে আলাদা করে একটি নির্দিষ্ট চৌহদ্দির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার এটি এক সুদূরপ্রসারী কৌশল। বিটিএসের এজেন্সি ‘হাইব’ এবং সচেতন সংগীতবোদ্ধারা এই সিদ্ধান্তের অন্তর্নিহিত কোণঠাসা করার মানসিকতার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন। এর আগে বিটিএস তাদের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে একাধিকবার মর্যাদাপূর্ণ গ্র্যামি মনোনয়ন পেলেও কখনো পুরস্কার নিজেদের ঝুলিতে ভরতে পারেনি। পশ্চিমা সংগীত ইন্ডাস্ট্রির এই প্রধান মঞ্চটি বরাবরই বৈচিত্র্যের কথা বললেও এশীয় শিল্পীদের ক্ষেত্রে একধরনের অদৃশ্য দেয়াল বজায় রেখেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বিটিএসের এই বয়কট কেবল একটি ব্যান্ডের অভিমান নয়; এটি বিশ্বসংগীতের ক্ষমতার ভারসাম্যের বিরুদ্ধে একটি শৈল্পিক ও আদর্শগত প্রতিবাদ। সংগীতের কোনো ভাষা নেই—এই সর্বজনীন সত্যকে সামনে রেখেই বিটিএস গ্র্যামির গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্ববাসীর হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছে। ৬৯তম গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডস থেকে বিটিএসের সরে দাঁড়ানো বিশ্ব সংগীতবাজারে একটি বড় ধাক্কা হলেও এটি মূলধারার পশ্চিমা পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানগুলোর পক্ষপাতদুষ্ট নীতিকে পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য করবে। শেষ পর্যন্ত, পুরস্কারের চেয়েও সংগীতের সার্বজনীন আবেদন ও ভক্তদের ভালোবাসা যে অনেক বেশি মূল্যবান, বিটিএস আবারও সেটি প্রমাণ করল।

সর্বশেষ হালনাগাদ 7 hours আগে

Leave A Reply

Exit mobile version