অর্থকাগজ প্রতিবেদন> 

ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ও ঋণ জালিয়াতি প্রতিরোধে সরকার ব্যাপক সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, সমস্যাগ্রস্ত পাঁচটি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক একীভূত করে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি’ গঠন করা হয়েছে। একই সঙ্গে এসব ব্যাংকে সংঘটিত অনিয়ম ও বিনিয়োগ-সংক্রান্ত অসঙ্গতি তদন্তে বিশেষ ফরেনসিক অডিট পরিচালিত হচ্ছে। অডিট শেষে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রোববার (১২ জুলাই) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. নূরুল ইসলামের লিখিত প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এ তথ্য জানান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।

অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের আর্থিক খাতকে টেকসই ও স্থিতিশীল অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে সরকার ‘ব্যাংক রেজল্যুশন আইন, ২০২৬’ প্রণয়ন করেছে। এই আইনের আওতায় দুর্বল ও সমস্যাগ্রস্ত ব্যাংকগুলোর পুনর্গঠন, একীভূতকরণ এবং আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষার জন্য কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

তিনি জানান, এক্সপোর্ট ইমপোর্ট ব্যাংক অব বাংলাদেশ (এক্সিম ব্যাংক) পিএলসি, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক পিএলসি, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসি, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসি এবং ইউনিয়ন ব্যাংক পিএলসি—এই পাঁচটি ব্যাংক একীভূত করে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি’ গঠন করা হয়েছে। এই পদক্ষেপের ফলে সংশ্লিষ্ট সব আমানতকারীর স্বার্থ নতুন ব্যাংকের মাধ্যমে সংরক্ষিত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ‘আমানত সুরক্ষা আইন, ২০২৬’-এর মাধ্যমে সুরক্ষিত আমানতের সর্বোচ্চ সীমা ১ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২ লাখ টাকা করা হয়েছে। পাশাপাশি অবসায়নাধীন ব্যাংকগুলোর আমানতকারীরা বাংলাদেশ ব্যাংকের রেজল্যুশন স্কিম অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে তাদের অর্থ ফেরত পাচ্ছেন। এছাড়া আগে সুরক্ষার বাইরে থাকা ফাইন্যান্স কোম্পানির আমানতকারীদেরও নতুন আইনের আওতায় আনা হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী জানান, একীভূত হওয়া পাঁচটি ব্যাংকের ঋণ ও বিনিয়োগ-সংক্রান্ত অনিয়মের প্রকৃত চিত্র উদঘাটনে বিশেষ ফরেনসিক অডিট চলছে। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর দায়ী ব্যক্তি বা কর্মকর্তাদের নিয়োগ বাতিলসহ প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, ব্যাংক পরিচালনা পর্ষদের প্রধান দায়িত্ব হলো আমানতকারীদের অর্থের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। কিন্তু অনিয়ম, বেনামি ঋণ বিতরণ এবং স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডের কারণে কয়েকটি ব্যাংকের আর্থিক অবস্থার অবনতি ঘটে। এর ফলে আমানতকারীদের আস্থা কমে যায় এবং পুরো ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে পড়ে।

এ পরিস্থিতিতে ২০২৪ সালের শেষ দিকে ব্যাংক-কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর সংশ্লিষ্ট ধারার ক্ষমতাবলে ১১টি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ বাতিল করা হয়। পরে বাংলাদেশ ব্যাংকের মনোনীত ও স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগের মাধ্যমে এসব ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করা হয়েছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী।

সর্বশেষ হালনাগাদ 7 hours আগে

Leave A Reply

Exit mobile version