অর্থকাগজ প্রতিবেদন
কোরবানির পশু বেচাকেনার জন্য ১২টি অস্থায়ী হাট বসাতে দরপত্র আহ্বান করেছিল ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। তবে এর মধ্যে চারটি হাট ইজারা নিতে কোনও দরদাতাই পাওয়া যায়নি। একটি হাটে মেলেনি কাঙ্ক্ষিত দর। তবে বাকি হাটগুলো ইজারা নিতে ইজারাদারদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ দেখা গেছে। একটি হাটে সর্বোচ্চ ১৪ কোটি টাকার দরপ্রস্তাব পাওয়া গেছে।
জানা গেছে, ঈদুল আজহার দিনসহ আগের চার দিন মিলিয়ে মোট পাঁচ দিন রাজধানীর অস্থায়ী হাটগুলোতে কোরবানির পশু বেচাকেনা হবে।
ডিএনসিসির তথ্য অনুযায়ী, ভাটারা সুতিভোলা খাল অস্থায়ী হাট (সরকারি দর ৩ কোটি ১২ লাখ ৭৬ হাজার টাকা), মোহাম্মদপুরের বছিলায় ৪০ ফুট রাস্তাসংলগ্ন খালি জায়গা (১ কোটি ৯৬ লাখ ২০ হাজার টাকা), খিলক্ষেত বাজার–সংলগ্ন এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নিচের খালি জায়গা (১ কোটি ৫১ লাখ টাকা) এবং মেরুল বাড্ডা কাঁচাবাজার–সংলগ্ন খালি জায়গা (১৪ লাখ টাকা)—এই চারটি হাটে কোনও দরপ্রস্তাব জমা পড়েনি।
অপরদিকে, উত্তরা দিয়াবাড়ি ১৬ ও ১৮ নম্বর সেক্টর–সংলগ্ন বউবাজার এলাকার হাটে সর্বোচ্চ ১৪ কোটি ৫ লাখ ১০ হাজার টাকার দরপ্রস্তাব পাওয়া গেছে, যেখানে সরকারি দর ছিল ৮ কোটি ৩০ লাখ ৩৩ হাজার ৩৩৪ টাকা। এই দরপ্রস্তাব দেন এসএফ করপোরেশনের মালিক ও মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক শেখ ফরিদ হোসেন।
রানাভোলা হাটে সরকারি দর ৮৮ লাখ ২০ হাজার ৭৫০ টাকা হলেও একমাত্র দরদাতা মেসার্স লামিয়া এন্টারপ্রাইজ দিয়েছে ৮৮ লাখ টাকা, যা কাঙ্ক্ষিত দরের নিচে।
মস্তুল চেকপোস্ট–সংলগ্ন পশ্চিমপাড়ার হাটে সরকারি দর ৯৩ লাখ ২২ হাজার টাকা হলেও বিল্লাল হোসেন ৩ কোটি ৬০ হাজার টাকার দর দিয়েছেন।
তেজগাঁও পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট–সংলগ্ন হাটে সরকারি দর ১ কোটি ১৩ লাখ ৫ হাজার ৯০০ টাকার বিপরীতে শিকদার এন্টারপ্রাইজের মালিক আমিনুল ইসলাম ৩ কোটি ৮৭ লাখ টাকার সর্বোচ্চ দর দিয়েছেন।
এছাড়া মিরপুর ৬ নম্বর সেকশনের হাটে ইসলাম এন্টারপ্রাইজের সিরাজুল ইসলাম ১ কোটি ৭৯ লাখ টাকার দরপ্রস্তাব দিয়েছেন, যা সরকারি দরের চেয়ে কিছুটা বেশি।
মিরপুরের কালশী বালুর মাঠ (১৬ বিঘা) হাটের সরকারি দর ছিল ৩০ লাখ টাকা। এখানে সর্বোচ্চ দর দিয়েছেন রেদওয়ান রহমান, ৩০ লাখ ১১ হাজার টাকা।
পূর্ব হাজীপাড়া এলাকার ইকরা মাদ্রাসার পাশের খালি জায়গার হাটে সরকারি দর ১৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা হলেও সর্বোচ্চ দর এসেছে ১৩ লাখ ৫৩ হাজার টাকা।
কাঁচকুড়া বাজার–সংলগ্ন রহমাননগর আবাসিক এলাকার হাটের সরকারি দর ১৫ লাখ ৫ হাজার টাকা। এই হাটে সর্বোচ্চ ২৭ লাখ টাকার দর দিয়েছেন রফিকুল ইসলাম।
ডিএনসিসির প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা মোহাম্মদ শওকত ওসমান বলেন, যেসব দরপত্র জমা পড়েছে সেগুলো যাচাই-বাছাই করা হবে। যেসব হাটে দর পাওয়া যায়নি, সেগুলোর জন্য পুনরায় দরপত্র আহ্বান করা হবে।
তিনি আরও জানান, অস্থায়ী হাটগুলোর পাশাপাশি গাবতলী স্থায়ী হাটেও কোরবানির পশু বেচাকেনা চলবে।
সর্বশেষ হালনাগাদ 3 hours আগে

