অর্থকাগজ প্রতিবেদন> 

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে পণ্য ও সেবা মিলিয়ে মোট ৬৩ দশমিক ৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের রফতানি আয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, শুল্কনীতি পরিবর্তন এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়লেও রফতানি খাতে প্রবৃদ্ধির ধারা ধরে রাখতে সরকার এ উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সচিবালয়ে তথ্য অধিদফতরের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

তিনি জানান, নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে পণ্য রফতানি থেকে ৫৫ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার এবং সেবা রফতানি থেকে ৮ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার আয়ের লক্ষ্য ধরা হয়েছে। উভয় ক্ষেত্রেই ১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

উপদেষ্টা বলেন, দেশের রফতানি খাতকে আরও প্রতিযোগিতামূলক করতে নতুন বাজার অনুসন্ধান, রফতানিযোগ্য পণ্যের বহুমুখীকরণ এবং সেবা খাতের সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে রফতানি প্রক্রিয়া সহজ করা, ব্যবসার পরিবেশ উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করার উদ্যোগও অব্যাহত থাকবে।

সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, তৈরি পোশাক শিল্প এখনও দেশের প্রধান রফতানি খাত হলেও চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, ওষুধ, কৃষিপণ্য, হালকা প্রকৌশল পণ্য, প্লাস্টিক, তথ্যপ্রযুক্তি সেবা এবং ফ্রিল্যান্সিংসহ বিভিন্ন সেবা খাত থেকে রফতানি আয় বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর সেবা, বিজনেস প্রসেস আউটসোর্সিং (বিপিও) এবং সফটওয়্যার রফতানিতে উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনা দেখছে সরকার।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে নতুন বাণিজ্য চুক্তি, রফতানি গন্তব্যের বৈচিত্র্য এবং উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে এলডিসি (স্বল্পোন্নত দেশ) থেকে উত্তরণের পর আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা ধরে রাখতেও এখন থেকেই প্রস্তুতি জোরদার করা প্রয়োজন।

অর্থনীতিবিদদের মতে, নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হলে শুধু তৈরি পোশাক খাতের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে উচ্চমূল্য সংযোজনকারী পণ্য ও সেবা রফতানির অংশ বাড়াতে হবে। পাশাপাশি বন্দর ব্যবস্থাপনা, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ, পরিবহন অবকাঠামো এবং বাণিজ্য সহজীকরণে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

সর্বশেষ হালনাগাদ 3 hours আগে

Leave A Reply

Exit mobile version