অর্থকাগজ প্রতিবেদন ●
বিনিয়োগকারীদের আস্থার প্রতিফলন ঘটিয়ে দেশের শেয়ার বাজারে নতুন সপ্তাহ শুরু হয়েছে। গত সপ্তাহের শেষদিকে সূচকের যে উত্থান ঘটেছিল তারই ধারাবাহিকতা ধরে রেখে বিনিয়োরগকারীদের জন্য নতুন সম্ভাবনার জানান দিয়ে সূচকের বড় ধরনের উন্নতির পাশাপাশি চলতি বছরের সর্বোচ্চ লেনদেন নিষ্পত্তি করেছে দেশের প্রধান শেয়ার বাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। ৩১ আগস্ট এক হাজার ২৯৬ কোটি টাকার লেনদেন নিষ্পত্তি করে পুঁজি বাজারটি, যা আগের দিন অপেক্ষা ১৬৪ কোটি টাকা বেশি। ২৮ আগস্ট বাজারটির লেনদেন ছিল এক হাজার ১৩২ কোটি টাকা।
৩১ আগস্ট সকালে দেশের দুই পুঁজি বাজারেই লেনদেন শুরু হয় সূচকের উন্নতি দিয়ে। পরে স্বাভাবিক ওঠানামার পরও সূচকের ধারা ইতিবাচক থাকায় দুপুর ১২টার দিকে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৫ হাজার ৬০০ পয়েন্টের ঘর অতিক্রম করে। পরবর্তী সময়ে সূচকের নামমাত্র ওঠানামা থাকলেও আরো কমপক্ষে দু’বার ওই অবস্থানে পৌঁছে ডিডএসইর প্রধান সূচকটি। তবে দিনের সমন্বয় শেষে ৭৬ দশমিক ৪৪ পয়েন্ট উন্নতি ধরে রেখে ৫ হাজার ৫৯৪ দশমিক ৩৯ পয়েন্টে স্থির হয় সূচকটি। একই সময় ডিএসইর দুই বিশেষায়িত সূচকের মধ্যে ডিএসই-৩০ সূচক ৩৬ দশমিক ৭৩ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ১৯৩ দশমিক ৭২ পয়েন্টে এবং ডিএসই শরিয়াহ সূচকটি ২০ দশমিক ৫০ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়ে এক হাজার ২২৭ দশমিক ৭০ পয়েন্টে পৌঁছে যায়। গত বছরের অক্টোবরের পর আর এ অবস্থানে ওঠেনি ডিএসইর সূচকগুলো।
সূচকের উন্নতিতে বছরের সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছেছে দেশের দ্বিতীয় পুঁজি বাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই)। বাজারটির প্রধান সূচক হিসেবে পরিচিত সার্বিক মূল্যসূচক ৩১ আগস্ট ২৩২ দশমিক ৩৮ পয়েন্ট বৃদ্ধি পায়। ১৫ হাজার ৩৫৭ দশমিক ৩০ পয়েন্ট থেকে দিন শুরু করা সূচকটি রোববার দিনশেষে পৌঁছে যায় ১৫ হাজার ৫৮৯ দশমিক ৬৯ পয়েন্টে। বাজারটির দুই বিশেষায়িত সূচকের মধ্যে সিএসই-৩০ সূচকের উন্নতি ঘটে ২৯৬ দশমিক ১৯ পয়েন্ট। ১৩ হাজার ৪৮২ দশমিক ১৮ পয়েন্ট থেকে দিন শুরু করা সূচকটি গতকাল দিনশেষে ১৩ হাজার ৭৭৮ দশমিক ৩৮ পয়েন্টে পেঁৗঁছে যায়। অপর বিশেষায়িত সূচক ডিএসইএক্স এ সময় ১৪০ দশমিক ৩২ পয়েন্ট বৃদ্ধি পায়। তবে সূচকের উন্নতির সাথে সিএসইর লেনদেনের খুব একটা সামঞ্জস্য খুঁজে পাওয়া যায়নি। ৩১ আগস্ট পুঁজি বাজারটি ২৩ কোটি টাকার লেনদেন নিষ্পত্তি করে, যা আগের দিন অপেক্ষা এক কোটি টাকা কম। ২৮ আগস্ট সিএসইর লেনদেন ছিল ২৪ কোটি টাকা।
পুঁজি বাজারের সাম্প্রতিক সময়ের লেনদেন ও সূচকের এ উন্নতিকে স্বাভাবিক হিসেবেই দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে তারা মনে করেন, দীর্ঘ দিন ধরে মন্দায় আক্রান্ত থাকার পর সম্প্রতি বাজার ইতিবাচক ধারায় ফিরছে। এ ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকতে পারে। তবে এ ক্ষেত্রে সূচকের যেমন উন্নতি ঘটছে তেমনি সংশোধনের বিষয়টিকেও মাথায় রাখতে হবে। এমনিতে বাজারে শেয়ারের সরবরাহ কম। তাতে লেনদেন ও সূচকের ধারাবাহিক উন্নতি বাজারের ঝুঁকিও তৈরি করতে পারে। তাই সূচক ও লেনদেন যখন একটি পর্যায়ে পৌঁছে যায় তখন বাজারের মৌল ভিত্তিসম্পন্ন মূলধনী কোম্পানিগুলোই বাজারের ঝুঁকি হ্রাস করতে পারে। অত্রি সম্প্রতি স্বল্প মূলধনের কোম্পানিগুলো নিয়ে যা শুরু হয়েছে তা কোনোভাবেই স্বাভাবিক বলা যায় না। এটি বাজারকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে।
৩১ আগস্টের বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, বিনিয়োগকারীরা এ মুহূর্তে বাজারের কোনো নির্দিষ্ট খাতে সীমাবদ্ধ নেই। সাম্প্রতিক সময়ে পুঁজি বাজার যখন ইতিবাচক ধারায় ফিরতে শুরু করে তখন কয়েকটি নির্দিষ্ট মৌল ভিত্তিসম্পন্ন কোম্পানির শেয়ারই ছিল তাদের টার্গেট। পরবর্তী সময়ে ব্যাংকিং খাতে তাদের পদচারণা দেখা যায় বেশি। এর পর বীমা খাতে বেশ ক’দিন মূল্যবৃদ্ধি ঘটতে দেখা যায়। পরবর্তী সময়ে স্বল্প মূলধনের কোম্পানিগুলোতেই তাদের পদচারণা ছিল বেশি। তবে গতকাল বিভিন্ন খাত এবং অপেক্ষাকৃত কম মূল্যস্তরের কোম্পানিগুলোর দিকে নজর ছিল বিনিয়োগকারীদের। তাই দিনশেষে সব খাতেই কমবেশি মূল্যবৃদ্ধি ঘটেছে গতকাল। তা ছাড়া লেনদেনেও বিভিন্ন খাতের কোম্পানিগুলোর মধ্যে ভারসাম্য ছিল।
৩১ আগস্ট ডিএসইর লেনদেনের শীর্ষ কোম্পানি ছিল খাদ্য খাতের লাভেলো আইসক্রিম। ৩৬ কোটি টাকায় কোম্পানিটির ৩৫ লাখ ৮৪ হাজার শেয়ার হাতবদল হয় গতকাল। ৩২ কোটি ৭০ লাখ টাকায় এক কোটি ১৫ লাখ শেয়ার বেচাকেনা করে টেলিযোগাযোগ খাতের রবি অজিয়াটা ছিল লেনদেনের দ্বিতীয় অবস্থানে। ডিএসইর লেনদেনে শীর্ষ ১০ কোম্পানির অন্যগুলো ছিল যথাক্রমে ব্র্যাক ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, ওরিয়ন ইনফিউশন, সিনো বাংলা ইন্ডাস্ট্রিজ, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন, অগ্নি সিস্টেমস, সোনালী পেপার অ্যান্ড বোর্ড মিলস ও খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ।
ডিএসইতে দিনের মূল্যবৃদ্ধির শীর্ষ কোম্পানি ছিল বস্ত্র খাতের ইভিন্স টেক্সটাইলস। গতকাল ১০ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধি ঘটে কোম্পানিটির। ৯ দশমিক ৯৪ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধি পেয়ে এ তালিকায় দ্বিতীয় কোম্পানি ছিল খাদ্য খাতের রহিমা ফুড। ডিএসইর মূল্যবৃদ্ধিতে শীর্ষ ১০ কোম্পানির অন্যগুলো ছিল যথাক্রমে ইনটেক অনলাইন, লাভেলো আইসক্রিম, ওয়ালটন হাইটেক, সিনো বাংলা ইন্ডাস্ট্রিজ, ইন্ট্রাকো সিএনজি রি ফুয়েলিং, চার্টার্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স, বিডি কম অনলাইন ও ব্র্যাক ব্যাংক।
৩১ আগস্ট ডিএসইতে দরপতনের শীর্ষে উঠে আসে আর্থিক প্রতিষ্ঠান পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস। ৬ দশমিক ৬৬ শতাংশ দর হারায় কোম্পানিটি। ৬ দশমিক ০১ শতাংশ দর হারিয়ে এ তালিকায় দ্বিতীয় কোম্পানি ছিল বস্ত্র খাতের সাফকো স্পিনিং। ডিএসইর দরপতনে শীর্ষ ১০ কোম্পানির অন্যগুলো ছিল যথাক্রমে প্রিমিয়ার ব্যাংক, ফারইস্ট ফিন্যান্স, ইবিএল ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ড, ক্যাপিটেক গ্রামীণ ব্যাংক গ্রোথ ফান্ড, আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক, এসইএম এফবিএসএলএস গ্রোথ ফান্ড, সিএপিএম আইবিবিএল মিউচ্যুয়াল ফান্ড ও খুলনা প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিং। ●
অকা/পুঁবা/ফর/রাত/৩১ আগস্ট, ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দ
সর্বশেষ হালনাগাদ 6 months আগে

