অর্থকাগজ প্রতিবেদন

দেশে এজেন্ট ব্যাংকিং সেবা ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। এখন আর টাকা জমা, উত্তোলন, ঋণ গ্রহণ বা প্রবাসী আয় সংগ্রহের জন্য গ্রাহকদের জেলা কিংবা উপজেলা শহরে যেতে হচ্ছে না। নিজ এলাকার হাতের নাগালেই ব্যাংকিং সুবিধা দিচ্ছে বিভিন্ন ব্যাংকের এজেন্ট ও আউটলেটগুলো। বিশেষত গ্রামীণ জনপদের মানুষ এই সেবা গ্রহণে সবচেয়ে এগিয়ে।

তবে ২০২৫ সালের জুন প্রান্তিকে গ্রাহক সংখ্যা সামান্য কমলেও আমানত, ঋণ বিতরণ এবং প্রবাসী আয়ে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। বিপরীতে, এ সময়ে এজেন্ট ও আউটলেটের সংখ্যা কিছুটা হ্রাস পেয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০২৫ সালের মার্চ শেষে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে হিসাবধারীর সংখ্যা ছিল ২ কোটি ৪৬ লাখ ৭১ হাজার ৪২২টি। জুন শেষে এই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৪৪ লাখ ৬ হাজার ২৩৬টি— অর্থাৎ তিন মাসে হিসাব কমেছে ২ লাখ ৬৫ হাজার ১৮৬টি।

গ্রাহক সংখ্যা কমলেও আমানতের পরিমাণ বেড়েছে কয়েক হাজার কোটি টাকা। মার্চ শেষে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে মোট আমানত ছিল ৪২ হাজার ৯৬৩ কোটি ৩৬ লাখ টাকা, যা জুন শেষে দাঁড়ায় ৪৫ হাজার ৬০৫ কোটি ৭২ লাখ টাকায়— অর্থাৎ বৃদ্ধি পেয়েছে ২ হাজার ৬৪২ কোটি ৩৬ লাখ টাকা।

এ সময়ে ঋণ বিতরণেও ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি হয়েছে। মার্চ শেষে ঋণ বিতরণের স্থিতি ছিল ২৬ হাজার ৬৩৭ কোটি টাকা, যা জুন শেষে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৯ হাজার ৮ কোটি ৩১ লাখ টাকায়। অর্থাৎ তিন মাসে ঋণ বিতরণ বেড়েছে ২ হাজার ৩৭১ কোটি ৩১ লাখ টাকা।

প্রবাসী আয়েও ইতিবাচক ধারা বজায় রয়েছে। মার্চ শেষে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে প্রবাসী আয়ের পরিমাণ ছিল ১ লাখ ৮১ হাজার ২০৪ কোটি টাকা, যা জুন শেষে দাঁড়ায় ১ লাখ ৮৩ হাজার ৮৮৮ কোটি টাকা— তিন মাসে বৃদ্ধি পেয়েছে ২ হাজার ৬৮৪ কোটি টাকা।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এজেন্ট ব্যাংকিং গ্রাহকের বৃহত্তম অংশ গ্রামীণ এলাকার। বর্তমানে গ্রামীণ গ্রাহকের সংখ্যা ২ কোটি ৭৬ লাখ ৪ হাজার ৩১১ জন, এর মধ্যে নারী গ্রাহক ১ কোটি ২০ লাখ ৭৮ হাজার ৯৬৬ জন— যা নারীদের আর্থিক অন্তর্ভুক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক নির্দেশ করে।

যদিও গ্রাহকসেবা ও লেনদেনের প্রবৃদ্ধি ইতিবাচক, তবুও এ সময়ে এজেন্ট ও আউটলেটের সংখ্যা কমেছে। মার্চ শেষে এজেন্টের সংখ্যা ছিল ১৫ হাজার ৮৩৮টি, যা জুনে কমে দাঁড়ায় ১৫ হাজার ৩৭৩টিতে— অর্থাৎ ৪৬৫টি কমেছে। একই সময়ে আউটলেটের সংখ্যা ২১ হাজার ২৩টি থেকে কমে ২০ হাজার ৫৫৭টিতে নেমেছে— যা ৪৬৬টি হ্রাস নির্দেশ করে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা জানান, এজেন্ট ব্যাংকিং চালুর মূল উদ্দেশ্য ছিল দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের কাছে ব্যাংকিং সুবিধা পৌঁছে দেওয়া। এখন তা সারাদেশে ব্যাপকভাবে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে, যা গ্রামীণ অর্থনীতির বিকাশ এবং আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
অকা/ব্যাংখা/ই/সকাল/১৪ আগস্ট, ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দ

সর্বশেষ হালনাগাদ 7 months আগে

Leave A Reply

Exit mobile version