অর্থকাগজ প্রবিদেন ●
দুদিন ধরে আবার স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে পরিবহন ব্যবস্থা। ফলে পণ্য সরবরাহ বাড়ায় কমতে শুরু করেছে নিত্যপণ্যের দাম। মাছ-মাংস ও সব ধরনের সবজির দাম আগের চেয়ে কমেছে। তবে পেঁয়াজ-রসুন ও চালের দাম আগের অবস্থায় ফিরতে আরো কয়েক দিন সময় লেগে যেতে পারে বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।
রাজধানীর অন্যতম কাঁচাবাজার কারওয়ান বাজার ঘুরে দেখা যায়, সব ধরনের সবজির দাম কমেছে। পটো ল বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকা কেজি, যা দুদিন আগেও ছিল ৬০ টাকা। ঢেঁড়সের কেজিও ৫০ থেকে নেমে এসেছে ৪০ টাকায়। পেঁপে বিক্রি হচ্ছে ৩০-৪০ টাকা কেজিতে, যা ছিল ৫০ টাকা কেজি। এমনকি মরিচের ঝাঁজও কমতে শুরু করেছে, ১২০-১৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে এখন। লাউ বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায়। দুদিন আগেও এর দাম ছিল ৬০ টাকার ওপরে।
বর্তমান বাজার সম্পর্কে সবজি বিক্রেতা ফারুক হোসেন বলেন, ‘৬ আগস্ট থেকে মাল (পণ্য) ঠিকমতো আসতেছে। এর আগে মাল কম থাকায় দাম কিছুটা বাড়ছিল। আলুর দাম কেজিতে আছিল ৭০ টাকা। এখন ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতেছি।’
ভবিষ্যৎ নিয়ে সবার মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয়। মানুষ তখন আতঙ্কে ‘প্যানিক বায়িং’ বা প্রয়োজনের অতিরিক্ত পণ্য কেনা শুরু করে। সে পরিস্থিতি কাটিয়ে গত দুদিনে যান চলাচল শুরু হওয়ায় পণ্য সরবরাহ বাড়ছে, যার প্রভাব পড়ছে বাজারেও।
এদিকে সবজির পাশাপাশি ডিম ও মুরগির দামও কমে এসেছে অনেকটা। আন্দোলনের সময় ডিমের হালি ৬০ টাকায় গিয়ে চড়েছিল। কিন্তু গতকাল তা ৫০ টাকায় নেমে এসেছে। কারওয়ান বাজারের ডিম বিক্রেতা নাসির জানান, মঙ্গলবার থেকে ডিম সরবরাহ আবার ঠিক হয়েছে। তাই দাম আগের জায়গায় নেমে এসেছে।
পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির পেছনে প্রধানত ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট দায়ী ছিল। এখন সেটা ভেঙে পড়ায় আগের চেয়ে দাম অনেকটা কমে আসতে শুরু করেছে বলে মনে করছেন কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. জাহাঙ্গীর আলম। তিনি বলেন, ‘নতুন প্রশাসনের অধীনে হয়তো এতটা প্রকট সিন্ডিকেট বজায় রাখতে পারবে না। তাই দাম কমে আসবে। তবে চাঁদাবাজি বন্ধ করতে হবে। আগে যারা চাঁদাবাজি করত তারা সিনে নেই। নতুন কেউ যেন আবার পরিবহন থেকে চাঁদাবাজি শুরু করতে না পারে সেটা খেয়াল রাখতে হবে।’
পেঁয়াজ ও রসুনের দাম অবশ্য কিছুটা বেড়েছে। ৭ আগস্ট দেশী পেঁয়াজ ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়, যা কয়েক দিন আগে ছিল ১১০ টাকা। আর রসুনের দাম কেজিতে বেড়েছে ২০ টাকা।
এদিকে পরিবহন সংকটের কারণে মোটা ও সরু চালের দামও কেজিপ্রতি ২-১ টাকা বেড়েছিল। এখনো সেই দামে বিক্রি হচ্ছে। এজন্য পরিবহনের পাশাপাশি সরবরাহ সংকট ও মিলারদের দায়ী করছেন ব্যবসায়ীরা। ৭ আগস্ট কারওয়ান বাজারে মোটা চাল বিআর২৮ বিক্রি হয়েছে ৫৩ টাকা কেজি দরে, যা একদিন আগেও ছিল ৫২ টাকা। চিকন বা সরু চাল বিক্রি হয় ৬৬-৬৭ টাকা কেজি দরে, যা ছিল ৬৩-৬৪ টাকা কেজি।
চালের দাম বাড়ার কারণ হিসেবে রানা রাইস এজেন্সির বিক্রেতা মু. ফোরকান বলেন, ‘সরবরাহ কিছুটা কম। তাছাড়া মিলাররা দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। তাই কেজিতে ২-১ টাকা বেড়েছে। কারণ আমাদেরও বস্তাপ্রতি ৫০-১০০ টাকা বেশি দামে কিনতে হচ্ছে।’ বাজার নিয়ন্ত্রণে এখন কেউ না থাকার সুযোগ নেয়া হচ্ছে বলেও মনে করেন কোনো কোনো চাল ব্যবসায়ী।
নিত্যপণ্যের সার্বিক মূল্য পরিস্থিতি নিয়ে জানতে চাইলে সাবেক খাদ্য সচিব মো. আবদুল লতিফ মন্ডল বলেন, ‘সারা দেশে যান চলাচল বন্ধ ছিল। এর মধ্যেও যে আমরা নিত্যপণের সরবরাহ পেয়েছি এটাই তো অনেক। সরবরাহ সংকটে দাম কিছুটা বেড়েছিল। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে।’ দু-একদিনের মধ্যেই ঠিক হয়ে যাবে। ●
অকা/পবা/ফর/সকাল/৮ আগস্ট, ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দ
সর্বশেষ হালনাগাদ 2 years আগে

