অর্থকাগজ প্রতিবেদন

বিশ্ববাজারের অস্থিরতা, ক্রেতাদের দর কষাকষি, বাড়তি উৎপাদন খরচ আর ভোক্তা চাহিদার ওঠানামায় ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাস বেশ কঠিন গেছে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের জন্য। বছরের মাঝামাঝিতে দুই অঙ্কের নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখলেও শেষ পর্যন্ত বড় ধাক্কা সামলে নিয়েছে দেশের প্রধান রফতানি খাত।

রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) এর তথ্য বিশ্লেষণ করে বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েস (বিএভি) জানিয়েছে, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ৬ মাসে পোশাক রফতানি থেকে আয় হয়েছে ১৯.৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। গত বছরের একই সময়ে যা ছিল ১৯.৪৬ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ এক বছরে কমেছে মাত্র ১২৩.৫৬ মিলিয়ন ডলার বা ০.৬৩ শতাংশ

বিশ্লেষকরা বলছেন, বৈশ্বিক সংকটের মধ্যে এই সামান্য পতন দুর্বলতা নয়, বরং বাংলাদেশের স্থিতিস্থাপকতার বড় প্রমাণ। একই সময়ে বিশ্বের অনেক প্রতিযোগী দেশ আরও বড় সংকটে পড়েছে।

মাসভিত্তিক চিত্রে নাটকীয় উত্থান-পতন

প্রথমার্ধের হিসাব বলছে, শুরু থেকেই অস্থির ছিল রফতানি।

  • জানুয়ারিতে রফতানি কমে ১.৩৫%
  • ফেব্রুয়ারিতে পতন বেড়ে দাঁড়ায় ১৩.২১%
  • এপ্রিলে আসে সবচেয়ে বড় ধাক্কা, কমে যায় ১৯.৩৫%

তবে ঘুরে দাঁড়ানোর গল্পটা শুরু মে থেকে। ক্ষতি কমতে থাকে মে মাসে, আর জুনে আসে চমক। জুনে পোশাক রফতানি এক লাফে ২১.৫২% বেড়ে ৩.৩৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়। ওই মাসে বোনা পোশাক ২৩% এর বেশি এবং নিট পোশাক প্রায় ২০% বেড়েছে। মূলত শেষ দুই মাসের এই শক্তিশালী কামব্যাকই পুরো অর্ধবছরের ধাক্কা সামাল দিয়েছে।

তৈরি পোশাক দিচ্ছে স্বস্তি

পণ্যভিত্তিক হিসাবে বোনা পোশাক আশা জাগাচ্ছে। ৬ মাসে বোনা থেকে আয় হয়েছে ৯.২০ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের চেয়ে ০.৬৮% বেশি। অন্যদিকে নিটওয়্যার থেকে আয় ১.৮০% কমে নেমেছে ১০.১৪ বিলিয়ন ডলারে। ইউরোপ-আমেরিকায় উচ্চ মূল্যস্ফীতি, মানুষের খরচ কমানো এবং ক্রেতাদের আগের অতিরিক্ত মজুত শেষ করার কৌশলের প্রভাব বেশি পড়েছে নিট খাতে।

তারপরও কেন আশার আলো

রফতানি সামান্য কমলেও ৪টি কারণে আশাবাদী উদ্যোক্তারা:
১. বছরের শুরুতেই বড় পতনের পর জুনে শক্তিশালী প্রত্যাবর্তন।
২. বোনা পোশাকে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা, যা প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার প্রমাণ।
৩. বৈশ্বিক অস্থিরতার মধ্যেও আগের বছরের প্রায় সমান আয় ধরে রাখা।
৪. সময়মতো শিপমেন্ট, গ্রিন ফ্যাক্টরি এবং উৎপাদন সক্ষমতার কারণে ক্রেতাদের আস্থা অটুট থাকা।

সামনে চ্যালেঞ্জ কী?

আশার পাশাপাশি চ্যালেঞ্জও কম নয়। বৈশ্বিক অর্থনীতির ধীরগতি, আমেরিকা-ইউরোপে দুর্বল চাহিদা, গ্যাস-বিদ্যুতের সংকট, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং এলডিসি থেকে উত্তরণের পর শুল্ক সুবিধা হারানোর শঙ্কা বড় বাধা।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েসের প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও মহিউদ্দিন রুবেল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, "প্রথমার্ধের রফতানি চিত্র আমাদের অভিযোজন ক্ষমতারই প্রতিফলন। বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও আমরা আগের বছরের কাছাকাছি রফতানি ধরে রাখতে পেরেছি। এটি আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের অবস্থানকে আরও শক্ত করবে।"

তার মতে, এখন প্রচলিত পোশাকের বাইরে গিয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), অটোমেশন, উচ্চমূল্যের পোশাক, পণ্যে বৈচিত্র্য আনা এবং নতুন বাজার খোঁজার ওপর জোর দিতে হবে। 

সর্বশেষ হালনাগাদ 9 hours আগে

Leave A Reply

Exit mobile version