অর্থকাগজ প্রতিবেদন ●
প্রবাসী আয়ের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত আছে। সর্বশেষ নভেম্বর মাসে প্রবাসীরা প্রায় ২২০ কোটি (২.২০ বিলিয়ন) ডলারের সমপরিমাণ রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। সবমিলে চলতি অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসেই (জুলাই-নভেম্বর) এক হাজার ১০০ কোটি ডলার বা ১১ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে রেমিট্যান্স। শিক্ষার্থীদের কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে জুলাইয়ে রেমিট্যান্স ব্যাপকহারে কমে যায়। কেননা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ওই সময় কয়েক দিন ব্যাংক বন্ধ ছিল। আবার শেখ হাসিনা সরকারকে অসহযোগিতার জন্য ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স না পাঠাতে ব্যাপক ক্যাম্পেইন হয়। সব মিলিয়ে ওই মাসে রেমিট্যান্স আসে ১৯১ কোটি ডলার, যা ছিল গত ১০ মাসের মধ্যে সবচেয়ে কম। তবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে দেখা যায়, অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেয়ার মাস আগস্টে ২২২ কোটি ১৩ লাখ ডলার রেমিট্যান্স পাঠান প্রবাসীরা। সেপ্টেম্বরে তা আরও বেড়ে হয় ২৪০ কোটি ৪৭ লাখ ডলার, যা একক মাস হিসেবে এ যাবৎকালের তৃতীয় সর্বোচ্চ। পরের মাস অক্টোবরে রেমিট্যান্স আসে ২৩৯ কোটি ৫০ লাখ ডলার। এটি গত অর্থবছরের একই মাসের চেয়ে প্রায় সাড়ে ২১ শতাংশ বেশি।
আর নভেম্বর মাসে প্রবাসীরা রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রায় ২২০ কোটি ডলার। এটি গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে প্রায় ১৪ শতাংশ বেশি। যদিও আগের মাসের চেয়ে কিছুটা কমেছে রেমিট্যান্স। এর আগে ২০২০-২১ অর্থবছরে জুলাই মাসে দেশে সর্বোচ্চ ২৫৯ কোটি ৮২ লাখ ডলারের সমপরিমাণ রেমিট্যান্স আছে। আর গত অর্থবছরের শেষ মাস জুনে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৫৩ কোটি ৮৬ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স আসে। মূলত গত মে মাসে ডলারের দাম এক লাফে সাত টাকা বাড়িয়ে ১১৭ টাকা নির্ধারণ করায় তখন রেমিট্যান্সে গতি এসেছিল।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে (জুলাই-নভেম্বর) দেশে রেমিট্যান্স এসেছে এক হাজার ১১৩ কোটি ৭০ লাখ ডলার। এটি গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ২৬ দশমিক ২০ শতাংশ বেশি। গত অর্থবছরের একই সময়ে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল মাত্র ৮৮০ কোটি ৮০ লাখ ডলার।
পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরের পুরো সময়ে দেশে রেমিট্যান্স আসে প্রায় দুই হাজার ৩৯১ কোটি ৫০ লাখ ডলার। এটি আগের অর্থবছরের চেয়ে ১০ দশমিক ৬৬ শতাংশ বেশি ছিল। আর ২০২২-২৩ অর্থবছরে প্রবাসী আয়ের গতি ছিল আরও কম। ওই অর্থবছরে দেশে রেমিট্যান্স আসে প্রায় দুই হাজার ১৬১ কোটি (২১ দশমিক ৬১ বিলিয়ন) কোটি ডলার। এটি তার আগের অর্থবছরের চেয়ে মাত্র ২ দশমিক ৭৫ শতাংশ বেশি ছিল। ●
অকা/ব্যাংখা/ই/ সকাল, ২ ডিসেম্বর ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দ
সর্বশেষ হালনাগাদ 1 year আগে

