অর্থকাগজ প্রতিবেদন>
দেশের বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্প ও সেবামূলক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আবার উৎপাদন ও কার্যক্রমে ফিরিয়ে আনতে ২০ হাজার কোটি টাকার একটি প্রাক-অর্থায়ন তহবিল গঠন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ‘বন্ধ শিল্প ও সেবা খাত সহায়ক প্রাক-অর্থায়ন স্কিম’ নামে এ তহবিলের মাধ্যমে ব্যাংকগুলো সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ সুদে ঋণ বিতরণ করতে পারবে।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংক এ-সংক্রান্ত নীতিমালা জারি করে। এতে বলা হয়েছে, তফসিলি ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ৪ শতাংশ সুদে পুনঃঅর্থায়ন সুবিধা পাবে এবং সেই অর্থ যোগ্য শিল্প ও সেবাপ্রতিষ্ঠানকে ঋণ হিসেবে বিতরণ করবে।
নীতিমালা অনুযায়ী, অর্থপাচার, জালিয়াতি, ঋণের অর্থ অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া (ফান্ড ডাইভার্শন) কিংবা ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এই তহবিলের আওতায় কোনো সুবিধা পাবে না। আবেদনকারীকে এসব অভিযোগে জড়িত নন—এ মর্মে ঘোষণা দিতে হবে।
ঋণ পাওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন বা সেবা কার্যক্রম পরিচালনার সক্ষমতার প্রমাণ দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বাণিজ্য সংগঠনের প্রত্যয়নপত্র গ্রহণযোগ্য হবে। কোনো কারণে তা সম্ভব না হলে ব্যাংক নিজস্ব যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় প্রত্যয়ন দিতে পারবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ঋণের অর্থ যথাযথভাবে ব্যবহার হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে ব্যাংকের প্রতিনিধি নিয়োগ করা যাবে। পাশাপাশি ঋণগ্রহীতা প্রতিষ্ঠানের বিক্রয় ও আয়ের তথ্য নিয়মিত পর্যালোচনা এবং প্রতি তিন মাস অন্তর কারখানা বা প্রতিষ্ঠানে সরেজমিন পরিদর্শন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
স্কিমের আওতায় একটি প্রতিষ্ঠান বা শিল্পগ্রুপ সর্বোচ্চ ২০০ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবে। ঋণের মেয়াদ হবে এক বছর, তবে প্রয়োজন হলে তা নবায়নের সুযোগ থাকবে। গ্রাহকরা প্রথম ছয় মাস গ্রেস পিরিয়ড পাবেন। অর্থাৎ এ সময়ে সুদ বা কিস্তি পরিশোধ করতে হবে না।
এই ঋণের অর্থ শ্রমিক-কর্মচারীদের সর্বোচ্চ চার মাসের বেতন-ভাতা, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও অন্যান্য ইউটিলিটি বিল পরিশোধ এবং উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল সংগ্রহে ব্যয় করা যাবে। তবে আগের কোনো ঋণ সমন্বয় বা পরিশোধে এই অর্থ ব্যবহার করা যাবে না।
নীতিমালায় আরও বলা হয়েছে, শ্রমিকদের বেতন সরাসরি তাদের ব্যাংক হিসাব বা মোবাইল আর্থিক সেবার (এমএফএস) অ্যাকাউন্টে পরিশোধ করতে হবে। নগদে বেতন দেওয়ার সুযোগ থাকবে না।
অংশগ্রহণকারী ব্যাংকগুলোকে প্রতি প্রান্তিক শেষে ঋণ বিতরণ, ব্যবহার ও আদায়ের তথ্য পরবর্তী মাসের ১০ তারিখের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগে জমা দিতে হবে।
উল্লেখ্য, গত ২৩ মে অর্থনীতিতে গতি ফিরিয়ে আনা, বন্ধ শিল্পকারখানা পুনরায় চালু করা এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য নিয়ে ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রাক-অর্থায়ন কর্মসূচি ঘোষণা করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর। তারই অংশ হিসেবে প্রথম ধাপে ২০ হাজার কোটি টাকার এই বিশেষ তহবিল গঠন করা হলো।
সর্বশেষ হালনাগাদ 6 hours আগে

