অর্থকাগজ প্রতিবেদন

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নেতৃত্বে পরিবর্তনের পর জুলাইজুড়ে শেয়ারবাজারে ইতিবাচক পরিবর্তনের ধারা জোরালো হয়েছে। বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরে আসায় প্রতিদিনই বাড়ছে অংশগ্রহণ, ঊর্ধ্বমুখী হচ্ছে লেনদেনের পরিমাণ এবং ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে সূচক ও অধিকাংশ সিকিউরিটিজের দাম। একসময় যেখানে প্রতিদিন ৩০০ থেকে ৪০০ কোটি টাকার লেনদেনেই সীমাবদ্ধ ছিল বাজার, সেখানে এখন দৈনিক লেনদেন ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ কোটি টাকায় পৌঁছেছে।

প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সর্বশেষ সাপ্তাহিক বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, বিদায়ী সপ্তাহে বাজারের প্রায় সব প্রধান সূচকই ঊর্ধ্বমুখী ছিল। প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ৯৬ দশমিক ৩ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ৬৬ শতাংশ বেড়ে ৫ হাজার ৯০০ পয়েন্টে উন্নীত হয়েছে। একই সময়ে ডিএস-৩০ সূচক ৪৯ দশমিক ৮৭ পয়েন্ট বা ২ দশমিক ২৯ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ২২৭ পয়েন্টে। শরিয়াহভিত্তিক ডিএসইএস সূচকও ১৭ দশমিক ৭৫ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ৪৯ শতাংশ বেড়ে প্রায় ১ হাজার ২০৭ পয়েন্টে পৌঁছেছে। তবে এসএমই খাতের ডিএসএমইএক্স সূচক ৭১ দশমিক ৬ পয়েন্ট বা ৫ দশমিক ৩৯ শতাংশ কমে ১ হাজার ২৪৭ পয়েন্টে নেমে এসেছে।

লেনদেনেও ছিল উল্লেখযোগ্য গতি। সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে মোট লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭৩ হাজার ৭৪২ কোটি টাকায়, যা আগের সপ্তাহের ৬৯ হাজার ১৯৩ কোটি টাকা থেকে প্রায় ৬ দশমিক ৫৮ শতাংশ বেশি। দৈনিক গড় লেনদেন বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ৪৭৪ কোটি ৮৫ লাখ টাকা, যা আগের সপ্তাহে ছিল প্রায় ১ হাজার ৩৮৪ কোটি টাকা।

বাজার মূলধনেও ইতিবাচক অগ্রগতি দেখা গেছে। বিদায়ী সপ্তাহ শেষে ডিএসইর মোট বাজার মূলধন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ১০ হাজার ৮৩৪ কোটি টাকায়, যা আগের সপ্তাহের তুলনায় প্রায় ১ শতাংশ বেশি। মার্কিন ডলারে হিসাব করলে বাজার মূলধন বেড়ে ৫৭ দশমিক ৮০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে।

বিনিয়োগকারীদের আগ্রহের প্রতিফলন দেখা গেছে বাজারের সার্বিক চিত্রেও। সপ্তাহে ২১৬টি কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিটের দর বেড়েছে। বিপরীতে কমেছে ১৫৫টির এবং অপরিবর্তিত ছিল মাত্র ১৮টির। বাজারের অ্যাডভান্স-ডিক্লাইন রেশিও (এডিআর) দাঁড়িয়েছে ১ দশমিক ৩৯, যা বাজারে ক্রয়চাপের আধিক্যেরই ইঙ্গিত দেয়।

বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, বিএসইসির নতুন নেতৃত্ব দায়িত্ব নেওয়ার পর বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা ফিরতে শুরু করেছে। বাজার উন্নয়ন, সুশাসন প্রতিষ্ঠা, তালিকাভুক্ত কোম্পানির জবাবদিহি বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির প্রত্যাশা থেকেই নতুন করে বিনিয়োগ বাড়ছে।

সর্বশেষ হালনাগাদ 2 hours আগে

Leave A Reply

Exit mobile version