অর্থকাগজ প্রতিবেদন 

দেশের শেয়ার বাজারে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আচরণে দৃশ্যমান পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। দীর্ঘ সময় ধরে ধারাবাহিকভাবে শেয়ার বিক্রির অবস্থানে থাকার পর তারা আবারও নিট ক্রেতার ভূমিকায় ফিরেছেন। এই পরিবর্তন বাজারে নতুন করে আস্থার সঞ্চার করেছে এবং সামগ্রিক বিনিয়োগ পরিবেশ নিয়ে আশাবাদ বাড়িয়েছে।

গত কয়েক মাস রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতি ঘিরে উদ্বেগের কারণে বিদেশি পোর্টফোলিও বিনিয়োগকারীরা অপেক্ষাকৃত রক্ষণশীল অবস্থান নিয়েছিলেন। টানা বিক্রির প্রবণতা শেয়ার বাজারে চাপ তৈরি করে এবং লেনদেনের গতি কমিয়ে দেয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে স্বচ্ছতা ও নীতিগত স্থিতিশীলতার ইঙ্গিত পাওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মনোভাবেও পরিবর্তন এসেছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, নীতিনির্ধারণে ধারাবাহিকতা ও অর্থনৈতিক দিকনির্দেশনায় স্পষ্টতা বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনর্গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)–এর সাম্প্রতিক লেনদেন পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জানুয়ারি মাসে বিদেশিরা মোট ১৯৭ কোটি ৬২ লাখ টাকার শেয়ার ক্রয় করেছেন। একই সময়ে তাদের বিক্রির পরিমাণ ছিল ১৭৯ কোটি ৬১ লাখ টাকা। ফলে মাস শেষে নিট ক্রয় দাঁড়িয়েছে ১৮ কোটি ১ লাখ টাকা। যদিও অঙ্কটি তুলনামূলকভাবে বড় নয়, তবে ধারাবাহিক বিক্রির ধারা ভেঙে নিট ক্রয়ে ফেরা বাজারের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা বহন করছে।

এর আগে আগস্ট থেকে ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত টানা পাঁচ মাস বিদেশিরা নিট বিক্রেতা ছিলেন। বিশেষ করে বছরের শেষ প্রান্তিকে বিক্রির চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়, যা সূচক ও লেনদেন উভয়ের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। ডিসেম্বর মাসেই বিদেশিদের ক্রয় ছিল মাত্র ৩২ কোটি ৪০ লাখ টাকা, বিপরীতে বিক্রি হয়েছে ১১৩ কোটি ৩৮ লাখ টাকার শেয়ার—যা বাজারে চাপ সৃষ্টির অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের পুনরায় ক্রয়মুখী অবস্থান শেয়ার বাজারের তারল্য পরিস্থিতি উন্নত করতে পারে। বিদেশি অংশগ্রহণ বাড়লে লেনদেনের গভীরতা বৃদ্ধি পায়, যা বাজারকে তুলনামূলক স্থিতিশীল ভিত্তি দেয়। পাশাপাশি এটি স্থানীয় বিনিয়োগকারীদের মনোবলেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলে এবং নতুন বিনিয়োগে আগ্রহ বাড়ায়।

বিশ্লেষকদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, যদি এই নিট ক্রয়ের ধারা ধারাবাহিকভাবে বজায় থাকে, তাহলে সূচকে ধীরে ধীরে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যেতে পারে। একই সঙ্গে শেয়ার বাজারের সার্বিক পরিবেশ আরও সুসংহত ও ভারসাম্যপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তবে তারা সতর্ক করে বলেছেন, টেকসই ইতিবাচক প্রবণতার জন্য রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, নীতিগত স্বচ্ছতা এবং অর্থনৈতিক সূচকের ধারাবাহিক উন্নয়ন অপরিহার্য।

অকা/পুঁবা/ই/সকাল/২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ

সর্বশেষ হালনাগাদ 4 hours আগে

Leave A Reply

Exit mobile version