অর্থকাগজ প্রতিবেদন ●
সপ্তাহের শেষ কর্মদিবসে সূচকের বড় ধরনের উন্নতির ফলে দেশের প্রধান পুঁজি বাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচকটি আবার ৫ হাজার ৫০০ পয়েন্টের ঘর অতিক্রম করেছে। ২৮ আগস্ট লেনদেন শেষে সূচকটি ৫ হাজার ৫১৭ দশমিক ৯৪ পয়েন্টে স্থির হয়। এর আগে ৩ আগস্ট একবার ৫ হাজার ৫৩৬ দশমিক ১৪ পয়েন্টে পৌঁছেছিল সূচকটি। পরে বাজার সংশোধনের শিকার হলে সূচকের অবনতি ঘটতে থাকে। ১৩ আগস্ট আবার ৫ হাজার ৩১৪ দশমিক ৩৩ পয়েন্টে নেমে আসে ডিএসই সূচক। গত কয়েক দিন পরিস্থিতির উন্নতি ঘটলে ২৮ আগস্ট আবার তা ৫ হাজার ৫০০ পয়েন্টের ঘর অতিক্রম করল।

মাঝখানে দুই দিন সংশোধনে থাকা পুঁজি বাজারগুলো ২৮ আগস্ট আবার ইতিবাচক ধারায় ফিরে। সকালে লেনদেনের শুরু থেকে দেশের দুই পুঁজি বাজারেই সব সূচকের উন্নতি ঘটতে দেখা যায়। বড় কোনো বিক্রয়চাপ ছাড়াই সাবলীলভাবে এগোতে থাকে বাজার সূচক। দিনশেষে ঢাকা শেয়ার বাজারের প্রধান সূচকটি ৭৪ দশমিক ৬৩ পয়েন্ট উন্নতি ধরে রাখতে সক্ষম হয়। ৫ হাজার ৪৪৩ দশমিক ৩১ পয়েন্ট থেকে দিন শুরু করা সূচকটি দিনশেষে পৌঁছে যায় ৫ হাজার ৫১৭ দশমিক ৯৪ পয়েন্টে। একই সময় ডিএসইর দুই বিশেষায়িত সূচক ডিএসই-৩০ ও ডিএসই শরিয়াহর উন্নতি ঘটে যথাক্রমে ৪০ দশমিক ৮৩ ও ১৮ দশমিক ৪৮ পয়েন্ট।

দেশের দ্বিতীয় পুঁজি বাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক ১৫৫ দশমিক ৬১ পয়েন্ট বৃদ্ধি পায়। আগের দিনের ১৫ হাজার ২০১ দশমিক ৬৯ পয়েন্ট থেকে লেনদেন শুরু করা সূচকটি ২৮ আগস্ট দিনশেষে পৌঁছে যায় ১৫ হাজার ৩৫৭ দশমিক ৩০ পয়েন্টে। একই সময় সিএসইর দুই বিশেষায়িত সূচক সিএসই-৩০ ও সিএসসিএক্স সূচকের উন্নতি রেকর্ড করা হয় যথাক্রমে ৯৯ দশমিক ৩৪ ও ৯১ দশমিক ৬৮ পয়েন্ট।

সূচকের উন্নতির ফলে ২৮ আগস্ট বাজারগুলোতে ফের বেড়ে যায় বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ। ডিএসই এ দিন এক হাজার ১৩২ কোটি টাকার লেনদেন নিষ্পত্তি করে, যা আগের দিন অপেক্ষা ১৬১ কোটি টাকা বেশি। ২৭ আগস্ট বাজারটির লেনদেন ছিল ৯৭১ কোটি টাকা। একইভাবে চট্টগ্রাম শেয়ার বাজারে ১৫ কোটি থেকে ২৪ কোটি টাকায় পৌঁছে লেনদেন।

এ দিকে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের পর এবার পুঁজি বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) বিনিয়োগকারীদের প্রতারণা থেকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পুঁজি বাজারে বিনিয়োগসংক্রান্ত প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডের তথ্য পেয়েছে সংস্থাটির মার্কেট ইন্টেলিজেন্স ডিপার্টমেন্ট। প্রতারক চক্র কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে (হোয়াটসঅ্যাপ, টেলিগ্রাম) বিনিয়োগকারীদের লোভনীয় বার্তা পাঠিয়ে প্রতারণা করছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি এ ধরনের প্রতারণা থেকে রা পেতে বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশে সতর্কবার্তা দিয়েছে।

২৮ আগস্ট সংস্থাটির পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালাম স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিএসইসি জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে ল করা যাচ্ছে যে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতারকচক্র পুঁজি বাজারে বিনিয়োগের জন্য লোভনীয় প্রস্তাব দিয়ে বিনিয়োগকারীদের সাথে প্রতারণার চেষ্টা করছে। এ ধরনের প্রলোভনমূলক বিনিয়োগ প্রস্তাব থেকে সব বিনিয়োগকারীকে সতর্ক থাকার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছে কমিশন।

এ ছাড়া সতর্কবার্তায় বিনিয়োগকারীদের নিজ নামের বিও হিসাব ও নিবন্ধিত স্টক ব্রোকার বা মার্চেন্ট ব্যাংকার বা পোর্টফোলিও ম্যানেজারের মাধ্যম ছাড়া পুঁজি বাজারে সিকিউরিটিজ ক্রয়-বিক্রয় বা এ-সংক্রান্ত আর্থিক লেনদেন না করার জন্য অনুরোধ করা হয়। বার্তায় বলা হয়, পুঁজি বাজারে বিনিয়োগের জন্য বিও আইডি থাকা আবশ্যক, যা নিবন্ধিত স্টক ব্রোকার বা ডিপোজিটরি পার্টিসিপ্যান্টের মাধ্যমে খোলা হয়। তা ছাড়া সিকিউরিটিজ বা শেয়ার ক্রয়-বিক্রয়সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য বিনিয়োগকারীর নিজ নামে পরিচালিত বিও হিসাবে সঠিকভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে কি না, তাও নিশ্চিত হওয়া আবশ্যক। বিনিয়োগকারীর নিজ স্বার্থেই এ বিষয়গুলোতে বিশেষভাবে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

সতর্কবার্তায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতারক চক্রের বিষয়ে বা পুঁজি বাজারসংক্রান্ত কোনো অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেলে তা কমিশনের মার্কেট ইন্টেলিজেন্স ডিপার্টমেন্টের কাছে জানানোর জন্য বলা হয়েছে। মার্কেট ইন্টেলিজেন্স ডিপার্টমেন্টের তথ্য অনুযায়ী, প্রতারক চক্র প্রথমে মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জন করে এবং পরে অধিক মুনাফার লোভ দেখিয়ে বড় অঙ্কের বিনিয়োগে প্রলুব্ধ করা হয়। এভাবে বড় অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিয়ে একসময় বিনিয়োগকারীকে জানানো হয় যে, যেই মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে বিনিয়োগ করেছে সেটিতে সমস্যা হয়েছে তার জন্য বিনিয়োগকারীকে আরো অর্থ দিতে হবে। এভাবে প্রতারণার মাধ্যমে অতিরিক্ত অর্থ নেয়ার পর প্রতারকচক্র ভুক্তভোগীকে ব্লক করে দেয়।

২৮ আগস্ট ডিএসইতে লেনদেনের শীর্ষে ছিল ওষুধ খাতের বহুজাতিক কোম্পানি রেনাটা লিমিটেড। ২২ কোটি ৬৫ লাখ টাকায় কোম্পানিটির চার লাখ ৬৩ হাজার শেয়ার হাতবদল হয় এ দিন। ২২ কোটি ১১ লাখ টাকায় ৮৭ লাখ ৭৬ হাজার শেয়ার বেচাকেনা করে দিনের দ্বিতীয় স্থানে ছিল ব্যাংকিং খাতের সিটি ব্যাংক। লেনদেনে শীর্ষ ১০ কোম্পানির অন্যগুলো ছিল যথাক্রমে সোনালী পেপার অ্যান্ড বোর্ড মিলস, ব্র্যাক ব্যাংক, কাসেম ইন্ডাস্ট্রিজ, ওরিয়ন ইনফিউশন, সিনো বাংলা ইন্ডাস্ট্রিজ, বিকন ফার্মা, ইনফরমেশন সার্ভিসেস নেটওয়ার্ক ও ট্রাস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স।

ডিএসইতে দিনের মূল্যবৃদ্ধির তালিকায় শীর্ষে ছিল ইনফরমেশন সার্ভিসেস নেটওয়ার্ক। ৯ দশমিক ৯৮ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধি ঘটে কোম্পানিটির। ৯ দশমিক ৮২ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধি পেয়ে এ তালিকার দ্বিতীয় স্থানে ছিল বস্ত্র খাতের এইচ আর টেক্সটাইলস। দিনের মূল্যবৃদ্ধির শীর্ষ ১০ কোম্পানির অন্যগুলো ছিল যথাক্রমে এনার্জি প্যাক পাওয়ার জেনারেশন, বেস্ট হোল্ডিংস, প্রাইম ফিন্যান্স ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, ইনটেক অনলাইন, রেনাটা লিমিটেড, ওয়াটা কেমিক্যালস ও ট্রাস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স। ●

অকা/পুঁবা/ফর/রাত/২৯ অক্টোবর, ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দ

সর্বশেষ হালনাগাদ 6 months আগে

Leave A Reply

Exit mobile version