অর্থকাগজ প্রতিবেদন

ব্যাংকগুলোকে চাপ দিয়েও ঝুঁকিপূর্ণ শেয়ার বাজারে আনা যাচ্ছে না। শেয়ার বাজারে বিনিয়োগের ব্যাপারে কোনও আগ্রহ নেই বিমা প্রতিষ্ঠানগুলোরও। এমন পরিস্থিতিতে শেয়ার বাজারে লেনদেন কমতে কমতে তলানিতে এসে ঠেকেছে। শুধু তাই নয়, গত এক সপ্তাহে এই বাজার থেকে হারিয়ে গেছে সাড়ে ৬ হাজার কোটি টাকা।

যদিও কোম্পানি ও ব্যাংকের বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য এই প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে চিঠি দিয়েছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন-বিএসইসি।

গত মাসের শেষের দিকে  শেয়ার বাজারে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে দেশের ৩৩টি ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীকে চিঠি দিয়েছে বিএসইসি। এর বাইরে শেয়ার বাজারে বিনিয়োগের জন্য ২০০ কোটি টাকার বিশেষ তহবিল গঠনের অনুরোধ জানিয়ে আরও  ২৮টি ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীর কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। অর্থাৎ আলাদা আলাদাভাবে ওই দুটি চিঠি পাঠানো হয় মোট ৬১টি ব্যাংকের কাছে। এর বাইরে গত ২৯ মার্চ অ-তালিকাভুক্ত ২৬টি বিমা কোম্পানিকে প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) জন্য ফাইল দাখিল ও ইক্যুইটির ২০ শতাংশ শেয়ার বাজারে বিনিয়োগে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষকে (আইডিআরএ) চিঠি দিয়েছে বিএসইসি।

এমন পরিস্থিতির মাঝেও গত সপ্তাহজুড়ে টানা দরপতনের কবলে পড়ে শেয়ার বাজার। শুধু তাই নয়, হতাশায় লেনদেন করা ছেড়ে দিয়েছেন অনেকে। এ কারণে বাজারে এখন তীব্র ক্রেতা সংকট দেখা দিয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন,  প্রাতিষ্ঠানিক ও ব্যক্তি শ্রেণির বিনিয়োগকারীরা এখন বাজারে নিষ্ক্রিয়। হাতে টাকা থাকলেও বাজারে বিনিয়োগে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না তারা। লেনদেন কমে যাওয়ায় আতঙ্কের পাশাপাশি হতাশা ভর করেছে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে, যার প্রভাব শেয়ারের দাম ও লেনদেনে পড়েছে। এতে কিছু কিছু কোম্পানির শেয়ারের ক্রেতা সংকট দেখা দিয়েছে। দিনের সর্বনিম্ন দামেও কিছু কোম্পানির শেয়ারের ক্রেতা মিলছে না। এ কারণে বিনিয়োগকারীরা শেয়ার বিক্রি করতে চেয়েও বিক্রি করতে পারছেন না। বাজারে হঠাৎ লেনদেন কমে যাওয়ায় চিন্তিত বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনও। এ কারণে বিনিয়োগকারীদের আবারও বাজারমুখী করতে নানা উপায় খুঁজছেন বিএসইসির কর্মকর্তারা।

#

অকা/পুঁবা/দুপুর, ১২ এপ্রিল, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ

সর্বশেষ হালনাগাদ 4 years আগে

Leave A Reply

Exit mobile version