অর্থকাগজ প্রতিবেদন ●
দীর্ঘ মন্দার পর অবশেষে শেয়ার বাজারে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে। টানা পতনের চাপ, অস্বাভাবিক লেনদেনসঙ্কট ও বিনিয়োগকারীদের আস্থাহীন পরিবেশের মধ্যে সরকারি তহবিল সরাসরি বাজারে প্রবেশ করতে যাচ্ছে—যা একটি প্রতীকী নয়, কাঠামোগত সংকেতও।
সরকার দেশের সবচেয়ে বড় রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশকে (আইসিবি) ১ হাজার কোটি টাকার ঋণ দিয়েছে। লক্ষ্য একটাই—এই অর্থ সরাসরি পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করে তারল্য সংকট কমানো এবং বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা।
আইসিবির চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবু আহমেদ জানিয়েছেন, ঋণ অনুমোদনের পরপরই নতুন একটি বিও অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে এবং সোমবার দুপুর ২টার পর থেকেই শেয়ার কেনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তিনি আরও জানান, আগামী তিন মাসের মধ্যে কতটা বিনিয়োগ হয়েছে, কোন খাতে হয়েছে এবং এর প্রভাব কী—এসব নিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন সরকারকে প্রদান করা হবে।
ঋণটির কাঠামোও উল্লেখযোগ্য—৫ শতাংশ সুদে ১০ বছরের মেয়াদ। এটি মূলত রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বল্প ব্যয়যুক্ত দীর্ঘমেয়াদি তহবিল, যা কেবল শেয়ারবাজারে ব্যবহারের শর্তে দেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সংকুচিত তারল্য ও দুর্বল চাহিদার সময়ে এ ধরনের লক্ষ্যমাত্রাভিত্তিক অর্থায়ন বাজারে ‘অ্যাঙ্কর ইনভেস্টর’ হিসেবে কাজ করতে পারে। বড় আকারের সরকারি উপস্থিতি সাধারণত ক্রয়চাহিদা জাগিয়ে তোলে এবং বাজারকে নিম্নমুখী চাপ থেকে কিছুটা উপরে টেনে তোলে।
যদিও আইসিবি মোট ১৩ হাজার কোটি টাকা চেয়েছিল, সরকার প্রথম ধাপে মাত্র ১ হাজার কোটি টাকা দিয়েছে। পরবর্তী ধাপে আরও ঋণ বা অনুদান পাওয়া যাবে কিনা তা অনিশ্চিত হলেও বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, শুরুটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—কারণ এটি রাষ্ট্রীয় সংকল্পের ইঙ্গিত দেয়।
বাজারসংশ্লিষ্টদের পর্যবেক্ষণে, সরকারি তহবিলের প্রবেশ ঘোষণার পর থেকেই বিনিয়োগকারীদের মানসিকতা বদলাতে শুরু করেছে। বহুদিন ধরে অপেক্ষমাণ ক্রেতারা বাজারে নতুন সম্ভাবনার আভাস দেখছেন। অনেকে এটিকে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা অর্জনের একটি ‘ফার্স্ট মুভ’ হিসেবে বিবেচনা করছেন।
বিশেষজ্ঞদের মূল্যায়নে, যদিও অর্থের পরিমাণ বৃহৎ নয়, তবুও এর মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব যথেষ্ট শক্তিশালী। এটি বাজারে নতুন চাহিদা সৃষ্টির প্রাথমিক ধাপ, যা মধ্যমেয়াদে আরও বড় প্রবাহকে আকৃষ্ট করতে পারে। বিনিয়োগকারীরাও এখন বাজারকে নতুন দৃষ্টিতে পর্যবেক্ষণ করছেন—যেখানে অতি-নিম্নমূল্যায়িত শেয়ারের মধ্যেও নতুন উত্থানের ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে।
সামগ্রিকভাবে, সরকারি সহায়তায় আইসিবির মাঠে নামা পুঁজি বাজারে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় ঘুরানোর প্রচেষ্টা। পরবর্তী কয়েক সপ্তাহে বিনিয়োগপ্রবাহের গতি ও বাজারের প্রতিক্রিয়া নির্ধারণ করবে এই উদ্যোগ কতটা কার্যকরভাবে দীর্ঘদিনের স্থবিরতা ভাঙতে পারবে। ●
অকা/পুঁবা/ই/সকাল/২৫ নভেম্বর, ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দ
সর্বশেষ হালনাগাদ 5 days আগে

