অর্থকাগজ প্রতিবেদন>
জালিয়াতির মাধ্যমে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে আত্মসাতের অভিযোগে সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনসহ ৩৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি।
ব্যাংকটির ফার্স্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ ইয়াসীন আলী প্রতিষ্ঠানের পক্ষে গত ২৯ জুলাই দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান বরাবর অভিযোগ দায়ের করেন। দুদকের ঊর্ধ্বতন একজন কর্মকর্তা ঢাকা পোস্টকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
যদিও এ বিষয়ে দুদকের জনসংযোগ দপ্তর কিংবা দায়িত্বশীল ব্যক্তি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
ব্যাংকটির অভিযোগ, জালিয়াতির মাধ্যমে সুপ্রভ কম্পোজিট নিট লিমিটেড নাসের একটি রুগ্ণ ও ছোট শিল্প প্রতিষ্ঠানকে ঋণসীমা ১০০ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০০ কোটি টাকা করা হয়। পরে ওই অর্থ উত্তোলন করে আত্মসাৎ করা হয়। ২০১৭ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৩ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ব্যাংকিং নিয়ম-নীতি ও বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনাবলি লঙ্ঘন করে ঋণের সীমা উন্নীত করা হয়।
দুদকে দাখিল করা অভিযোগে আরও বলা হয়, ২০১৭ সালে একটি বিশেষ গ্রুপের ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর ‘সুপ্রভ কম্পোজিট নিট লিমিটেড’ নামের একটি দুর্বল প্রতিষ্ঠানের ঋণসীমা জালিয়াতির মাধ্যমে বাড়ানো হয়। অ্যাননটেক্স গ্রুপের ইউনুস বাদলের সহযোগী প্রতিষ্ঠান সুপ্রভ কম্পোজিট নিট লিমিটেডের অনুকূলে অবৈধভাবে ঋণ বরাদ্দ পাইয়ে দিতে ভূমিকা রাখে ওই ব্যবসায়ী গ্রুপ। তৎকালীন পরিচালনা পর্ষদের সদস্য হিসেবে মো. সাহাবুদ্দিন, ব্যাংকের সাবেক তিন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনিরুল মাওলা, আব্দুল হামিদ মিয়া ও মাহবুব উল আলমসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ওই ঋণ অনুমোদনে ভূমিকা রাখেন এবং আর্থিকভাবে লাভবান হন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইসলামী ব্যাংকের অভিযোগ বলছে, জালিয়াতি ও অনিয়মের বিষয়টি সামনে আসার পর ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ৪টি স্বনামধন্য অডিট ফার্ম নিয়োগ করে। ফার্মগুলো যৌথভাবে ঋণের শুরু থেকে ২০২৪ সালের ৩১ আগস্ট পর্যন্ত লেনদেন তদন্ত করে অনুসন্ধান প্রতিবেদন জমা দেয়। অডিট প্রতিবেদনে ক্রেডিট যোগ্যতা মূল্যায়ন, যাচাই-বাছাই ও ঋণ অনুমোদনের প্রতিটি ধাপে নজিরবিহীন জালিয়াতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া যায় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
তদন্তে ঋণ অনুমোদন ও বিতরণে বিভিন্ন অনিয়ম ও অসঙ্গতি পাওয়া গেছে। এসব তথ্যের ভিত্তিতেই দুদকে অভিযোগ করা হয়েছে।
রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে মো. সাহাবুদ্দিন ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের পরিচালনা পর্ষদের পরিচালক ও ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন। ২০১৭ সালে এস আলম গ্রুপ ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর গঠিত পরিচালনা পর্ষদে তিনি যুক্ত হন।
২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেন মো. সাহাবুদ্দিন। রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ থেকে পদত্যাগ করেন। ২০২৬ সালের ২৪ জুলাই অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে তিনি তার রাষ্ট্রপতি পদ থেকে পদত্যাগ করেন। তার পদত্যাগের পরই ইসলামী ব্যাংকের পক্ষ থেকে ৫০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুদকে আবেদন করা হলো।
অভিযোগটি অনুসন্ধান করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ৪০৬/৪০৯/৪২০/৪৬৭/৪৬৮/৪৭১/৪৭৭এ/৩৪/১০৯ ধারা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ১৯৪৭-এর ৫(১)(২) ধারা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২-এর ৪ ধারায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জোর আবেদন জানানো হয়েছে।
সর্বশেষ হালনাগাদ 3 hours আগে

