অর্থকাগজ প্রতিবেদন ●
স্বাভাবিক আচরণে ফিরতে শুরু করেছে পুঁজি বাজারে। বিভিন্ন গুজবে প্রভাবিত হয়ে কিছু কিছু ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কয়েকটি কোম্পানির শেয়ার নিয়ে বিনিয়োগকারীদের একটি অংশের মধ্যে কিছুটা অস্বাভাবিক আচরণ দেখা গেলেও সার্বিক আচরণকে এ মুহূর্তে স্বাভাবিকই বলতে চাচ্ছেন পুঁজি বাজার বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, পুঁজি বাজারে যখন যৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধির পাশাপাশি সংশোধন ঘটতে থাকে তখনই তা টেকসই হয়ে ওঠে। এতে বিনিয়োগকারীদের মুনাফা তুলে নেয়া যেমন সম্ভব হয়, তেমনি ঝুঁকিও হ্রাস পায়।

দু’দিন সূচকের উন্নতির পর ৪ সেপ্টেম্বর সপ্তাহের শেষ কর্মদিবসে ফের সংশোধন ঘটে। এতে সূচকের অবনতি দিয়েই সপ্তাহ শেষ করে দেশের দুই পুঁজি বাজার। এ সময় বাজারগুলোতে সব সূচকের কমবেশি অবনতি ঘটে। একই সময়ে হ্রাস পেয়েছে লেনদেনও। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৪ সেপ্টেম্বর ১৭ দশমিক ৩৩ পয়েন্ট অবনতির শিকার হয়। পাঁচ হাজার ৬৩১ দশমিক ৬১ পয়েন্ট থেকে লেনদেন শুরু করা সূচকটি ৪ সেপ্টেম্বর দিনশেষে পাঁচ হাজার ৬১৪ দশমিক ২৭ পয়েন্টে স্থির হয়। এ সময় ডিএসইর দুই বিশেষায়িত সূচক ডিএসই-৩০ ও ডিএসই শরিয়াহর অবনতি ঘটে যথাক্রমে ১৩ দশমিক ০৭ ও ৩ দশমিক ৬২ পয়েন্ট। অপর দিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক ২৯ দশমিক ৯৭ পয়েন্ট হ্রাস পায়। সিএসই-৩০ ও সিএসসিএক্স সূচকের অবনতি ঘটে যাক্রমে ৫৬ দশমিক ৩৩ ও ২১ দশমিক ৫৯ পয়েন্ট।

এ দিকে পুঁজি বাজারে প্রকৌশল খাতে তালিকাভুক্ত ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসির সাথে একীভূত হচ্ছে একই গ্রুপের প্রযুক্তিপণ্য উৎপাদন ও বিপণনকারী প্রতিষ্ঠান ওয়ালটন ডিজি-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড। এই উদ্যোগের ফলে ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজের প্রোডাক্ট লাইনে যুক্ত হবে ল্যাপটপ, কম্পিউটার, মোবাইল ফোন, পিসিবি, ইলেকট্রিক বাইকের মতো উচ্চ প্রযুক্তিসম্পন্ন অনেক নতুন পণ্য। কোম্পানি কর্তৃপক্ষ মনে করছে, এর ফলে ওয়ালটন হাই-টেকের ব্যবসায়িক সমতা ব্যাপক বৃদ্ধি পাবে, বাজার পরিধি আরো বিস্তৃত হবে; কমবে পরিচালন ব্যয়। সেইসাথে দেশের ইলেকট্রনিক্স ও প্রযুক্তি পণ্য উৎপাদন খাত আরো সমৃদ্ধ হবে। হাই-টেক ও ডিজিটাল পণ্য উৎপাদনের হাব হিসেবে বাংলাদেশে এক নতুন যুগের সূচনা ঘটবে।

৪ সেপ্টেম্বর কোম্পানি কর্তৃপক্ষ ডিএসই ওয়েবসাইটে এ তথ্য প্রকাশ করে । এ তথ্যে উল্লেখ করা হয়। একীভূতকরণের ল্েয গত ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ তারিখ ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসি এবং ওয়ালটন ডিজি-টেক ইন্ডাস্টিজ লিমিটেডের মধ্যে একটি পারস্পরিক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বারিত হয়েছে। ৩ সেপ্টেম্বর ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসির ৪৬তম পরিচালনা পর্ষদ সভায় ওই একীভূতকরণ (মার্জার) সংক্রান্ত এমওইউ অনুমোদিত হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ওয়ালটন ডিজি-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড ল্যাপটপ, কম্পিউটার, প্রিন্টার, মোবাইল ফোন, প্রিন্টেড সার্কিট বোর্ড বা পিসিবি, ইলেকট্রিক বাইকসহ ১২৩ ধরনের হাই-টেকনোলজির পণ্য ও এক্সেসরিজ উৎপাদন ও বাজারজাত করে আসছে। প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশের একমাত্র মোবাইল ফোন এবং প্রিন্টেড সার্কিট বোর্ড ম্যানুফ্যাকচারিং কারখানা স্থাপন করেছে। পক্ষান্তরে,ওয়ালটন হাইটেক রেফ্রিজারেটর, কম্প্রেসর, এয়ার কন্ডিশনার, টেলিভিশন, এলিভেটর, ফ্যান, ক্যাবল, ওয়াশিং মেশিনসহ বিভিন্ন হোম ও ইলেকট্রিক্যাল অ্যাপ্লায়েন্স উৎপাদন, বাজারজাত ও রফতানি করে।

ওয়ালটন সূত্রে জানা গেছে, এই একীভূতকরণ সম্পন্ন হলে ওয়ালটন হাই-টেকের প্রোডাক্ট লাইন আরো শক্তিশালী হবে। প্রতিষ্ঠানটি নতুন করে লিথিয়াম ব্যাটারি কারখানা স্থাপন করছে। একই সাথে দেশে ব্যাপক ভিত্তিতে পরিবেশবান্ধব ই-বাইক উৎপাদনে যাচ্ছে ওয়ালটন হাই-টেক। ফলে ই-বাইকের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণের মাধ্যমে এ খাতে শক্তিশালী অবস্থান তৈরির সম্ভাবনা রয়েছে ওয়ালটন হাই-টেকের।

স্থানীয় বাজারের বেশির ভাগ চাহিদা পূরণের পাশাপাশি ইউরোপ, আমেরিকা, এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার নতুন নতুন দেশে ব্যবসা সম্প্রসারণ করে চলেছে ওয়ালটন হাই-টেক। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে নতুন করে সাতটি দেশে ব্যবসায়িক কার্যক্রম শুরু করেছে প্রতিষ্ঠানটি। সর্বাধুনিক উদ্ভাবনী প্রযুক্তি, টেকসই ও উচ্চ গুণগতমান, বিদ্যুৎ সাশ্রয়, পরিবেশবান্ধব ও মূল্য প্রতিযোগিতা সমতায় দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে অন্যান্য ব্র্যান্ডের চেয়ে এগিয়ে আছে ওয়ালটন ব্রান্ডের পণ্য। ফলে অতি অল্পসময়ের মধ্যে দেশের বাজারে শীর্ষস্থানের পাশাপাশি বৈশ্বিক বাজারেও ওয়ালটন ব্র্যান্ড ক্রেতাদের আস্থা অর্জন করতে সম হচ্ছে।

৪ সেপ্টেম্বর ডিএসইতে লেনদেনের শীর্ষ কোম্পানি ছিল সিটি ব্যাংক। ৪৬ কোটি ৩১ লাখ টাকায় কোম্পানিটির এক কোটি ৭০ লাখ ৮৪ হাজার শেয়ার হাতবদল হয় ৪ সেপ্টেম্বর। ৩১ কোটি ৪৯ লাখ টাকায় পাঁচ লাখ ৫৩ হাজার শেয়ার বেচাকেনা করে দিনের দ্বিতীয় কোম্পানি ছিল ওরিয়ন ইনফিউশন। ডিএসইর লেনদেনের শীর্ষ ১০ কোম্পানির তালিকায় আরো ছিল যথাক্রমে খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ, অগ্নি সিস্টেমস, আইটি কনসালটেন্ট, ব্রাক ব্যাংক, আইপিডিসি, সোনালী পেপার অ্যান্ড বোর্ড মিলস, বেক্সিমকো ফার্মা ও লাভেলো আইসক্রিম।

এ সময় ডিএসইতে মূল্যবৃদ্ধিতে শীর্ষ কোম্পানি ছিল জীবন বীমা কোম্পানি রূপালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স। ৪ সেপ্টেম্বর ৯ দশমিক ৯৮ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধি ঘটে কোম্পানিটির। ৯ দশমিক ৯৭ শতাংশ দার বৃদ্ধি পেয়ে তালিকায় দ্বিতীয় কোম্পানি ছিল একই খাতের প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্স। মূল্যবৃদ্ধির শীর্ষ ১০ কোম্পানির তালিকায় থাকা অন্য কোম্পানিগুলো ছিল যথাক্রমে ইনটেক অনলাইন, ই-জেনারেশন, সানলাইফ ইন্স্যুরেন্স, বিবিএস ক্যাবলস, আইপিডিসি ফিন্যান্স, জি কিউ বলপেন ও সিএপিএম আইবিবিএল মিউচুয়াল ফান্ড।

এ দিন ডিএসইতে দরপতনের শীর্ষ কোম্পানি ছিল বস্ত্র খাতের এইচ আর টেক্সটাইলস। ৮ দশমিক ৮২ শতাংশ দর হারায় কোম্পানিটি। ৬ দশমিক ২৫ শতাংশ দর হারিয়ে এ তালিকার দ্বিতীয় কোম্পানি ছিল আর্থিক প্রতিষ্ঠান ফাস ফিন্যান্স। ডিএসইর দরপতনের শীর্ষ দশ কোম্পানির অন্যগুলো ছিল যথাক্রমে সাফকো স্পিনিং, ফার্স্ট ফিন্যান্স, এস এস স্টিলস, অ্যাপোলো ইস্পাত, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামিক ব্যাংক, আরএকে সিরামিকস ও সিঅ্যান্ডএ টেক্সটাইলস। ●

অকা/পুঁবা/ফর/সন্ধ্যা/৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দ

সর্বশেষ হালনাগাদ 6 months আগে

Leave A Reply

Exit mobile version