অর্থকাগজ প্রতিবেদন ●
শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর ধারাবাহিক আর্থিক অনিয়মের প্রেক্ষাপটে কঠোর অবস্থান নিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষা ও বাজারে শৃঙ্খলা ফেরাতে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আর্থিক প্রতিবেদন জমা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় ১৮টি বড় ও প্রভাবশালী কোম্পানির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘অসন্তোষ’ প্রকাশ করেছে কমিশন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এমন নিয়মভঙ্গ হলে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের।
বিএসইসির করপোরেট রিপোর্টিং ডিপার্টমেন্ট থেকে পাঠানো পৃথক চিঠিতে প্রকৌশল, ব্যাংক, বীমা ও আর্থিক খাতের একাধিক শীর্ষ প্রতিষ্ঠানের নাম উঠে এসেছে। প্রচলিত সিকিউরিটিজ আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী, তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অনিরীক্ষিত ত্রৈমাসিক বা বার্ষিক নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী দাখিল করতে হয়। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলো সেই বাধ্যবাধকতা যথাযথভাবে পালন করতে ব্যর্থ হয়েছে। কমিশনের মতে, এটি স্পষ্টতই ‘ডিফল্ট’ এবং সিকিউরিটিজ আইনের সরাসরি লঙ্ঘন।
যেসব কোম্পানির বিরুদ্ধে অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে— জেনেক্স ইনফোসিস পিএলসি, বিচ হ্যাচারি লিমিটেড, চার্টার্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স পিএলসি, রবি আজিয়াটা পিএলসি, সানলাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড, ঢাকা ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড, ফার্স্ট ফাইন্যান্স লিমিটেড, বাংলাদেশ ফাইন্যান্স পিএলসি, মেঘনা লাইফ ইন্স্যুরেন্স পিএলসি, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেড, ইসলামিক ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট পিএলসি, রিপাবলিক ইন্স্যুরেন্স পিএলসি, মার্কেন্টাইল ব্যাংক পিএলসি, এবি ব্যাংক পিএলসি, ফেডেরাল ইন্স্যুরেন্স পিএলসি, ফারইস্ট ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট, সাউথইস্ট ব্যাংক পিএলসি এবং এফএএস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড।
বিএসইসি তাদের চিঠিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছে, সময়মতো আর্থিক তথ্য প্রকাশ না হলে বাজারে তথ্যপ্রবাহ ব্যাহত হয় এবং বিনিয়োগকারীদের সঠিক ও যুক্তিসঙ্গত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে বাজারে গুজব, বিভ্রান্তি ও অযৌক্তিক দর ওঠানামার ঝুঁকি বাড়ে। কমিশন আরও জানিয়েছে, আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশে গাফিলতির কারণে কোনো বিনিয়োগকারী বা সংশ্লিষ্ট পক্ষ আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়লে তার সম্পূর্ণ দায় সংশ্লিষ্ট কোম্পানিকেই বহন করতে হবে।
নিয়ন্ত্রক সংস্থা সতর্ক করে দিয়েছে, ভবিষ্যতে এ ধরনের শৈথিল্য বা অবহেলা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। প্রয়োজনে জরিমানা, পরিচালনা পর্ষদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা কিংবা অন্যান্য আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। এর মাধ্যমে বাজারে জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাই কমিশনের মূল লক্ষ্য বলে জানিয়েছে বিএসইসি।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, একসঙ্গে এতগুলো নামী ও হেভিওয়েট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কমিশনের এই কঠোর অবস্থান শেয়ারবাজারের জন্য একটি শক্ত বার্তা। বিশেষ করে ব্যাংক, বীমা ও আর্থিক খাতের কোম্পানিগুলো সময়মতো তথ্য প্রকাশে ব্যর্থ হলে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের আস্থা মারাত্মকভাবে নড়ে যায়। এই ধরনের পদক্ষেপ কোম্পানিগুলোকে আর্থিক শৃঙ্খলা মেনে চলতে বাধ্য করবে এবং দীর্ঘমেয়াদে বাজারে স্বচ্ছতা ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সহায়ক হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এর ফলে সাধারণ মানুষের বিনিয়োগের নিরাপত্তা বাড়বে এবং শেয়ার বাজারের প্রতি আস্থা আরও সুসংহত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ●
অকা/পুঁবা/ই/দুপুর/২৬ জানুয়ারী, ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ
সর্বশেষ হালনাগাদ 2 days আগে

