অর্থকাগজ প্রতিবেদন ●
প্রতি মাসের শুরুতে পণ্য রফতানি আয়ের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করে থাকে রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি)। কিন্তু সংস্থাটি ৬ এপ্রিল পর্যন্ত রফতানির তথ্য প্রকাশ করেনি। বাংলাদেশ থেকে মার্চ মাসে ৪২৪ কোটি ডলারের পণ্য রফতানি হয়েছে, দেশীয় মুদ্রায় যা ৫১ হাজার ৭২৮ কোটি টাকা। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের মার্চ মাসে রফতানি হয়েছিল ৩৮১ কোটি ২২ লাখ ডলারের পণ্য। আর এনবিআরের হিসাবে, মার্চে রফতানি হয়েছে ৪২৩ কোটি ৭৭ লাখ ডলারের পণ্য রফতানি। সেই হিসাবে ২০২৫ বছরের মার্চ মাসের তুলনায় এবার রফতানি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১১ দশমিক ১৬ শতাংশ।
রফতানিকারকেরা বলছেন, সাধারণত ঈদের ছুটির আগে বেশি পণ্য রফতানি হয়। ঈদে ৭ থেকে ১০ দিনের দীর্ঘ ছুটি থাকে। ফলে ছুটির মধ্যে ও তার পরপর যেসব ক্রয়াদেশের পণ্য জাহাজীকরণের বাধ্যবাধকতা থাকে, সেগুলো ছুটির আগেই শেষ করে চট্টগ্রাম বন্দরে পাঠিয়ে দেয়া হয়।
ঈদের ছুটি শেষে কারখানাগুলো যখন খুলছে, তখন মার্কিন প্রেসিডেন্টের পাল্টা শুল্ক নিয়ে বিশ্বজুড়ে তোলপাড় চলছে। ট্রাম্প বাংলাদেশের পণ্যে ৩৭ শতাংশ পাল্টা শুল্ক আরোপ করেছেন। সে কারণে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে যারা পণ্য রফতানি করেন, তারা দুশ্চিন্তায় আছেন। প্রতিযোগী দেশ ভারতের ওপর এই শুল্কের হার ২৬ শতাংশ, পাকিস্তানের ২৯ শতাংশ; যদিও চীনকে দিতে হবে ৩৪ শতাংশ (মোট শুল্ক ৫৪) ও ভিয়েতনামকে দিতে হবে ৪৬ শতাংশ পাল্টা শুল্ক।
মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি দপ্তরের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রে ৮৩৬ কোটি ডলারের পণ্য রফতানি করেছে। এর বিপরীতে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করেছে ২২১ কোটি ডলারের পণ্য। সেই হিসাবে বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যঘাটতি ৬১৫ কোটি ডলার।
ইপিবির প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থ বছরের প্রথম আট মাসে, অর্থাৎ জুলাই-ফেব্রুয়ারিতে রফতানি হয়েছে ৩ হাজার ২৯৪ কোটি ডলারের পণ্য। ২০২৪-২৩ অর্থ বছরের একই সময়ে এই রফতানির পরিমাণ ছিল ২ হাজার ৯৮০ কোটি ডলার। সেই হিসাবে চলতি অর্থ বছরের প্রথম আট মাসের রফতানি আগের অর্থ বছরের একই সময়ের তুলনায় ১০ দশমিক ৫৩ শতাংশ বেড়েছে।
বাংলাদেশের পণ্য রফতানির ৮০ শতাংশই তৈরি পোশাক। আর সেই পোশাক রফতানির একক বৃহত্তম বাজার যুক্তরাষ্ট্র। ২০২৪-২৩ অর্থ বছরের বাংলাদেশ থেকে রফতানি হওয়া তৈরি পোশাকের ১৮ শতাংশের গন্তব্য ছিল যুক্তরাষ্ট্র। পোশাকের পাশাপাশি এই বাজারে যারা জুতা ও চামড়াজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল ও হিমায়িত খাদ্য পণ্য রফতানি করেন, তারাও উদ্বেগে আছেন।
তৈরি পোশাক, চামড়াসহ বিভিন্ন খাতের রফতানিকারকেরা ৬ এপ্রিল জানান, পাল্টা শুল্কের কারণে ইতিমধ্যে মার্কিন ক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলো চলমান ক্রয়াদেশ স্থগিত করেছে। বাড়তি শুল্কের ক্ষতি পোষাতে মূল্যছাড় দাবি করছে তারা। আগামী দু-এক দিনে এমন ঘটনা আরও বাড়বে বলেই তাদের শঙ্কা। ●
অকা/শিবা/ফর/রাত/৭ এপ্রিল, ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দ
সর্বশেষ হালনাগাদ 11 months আগে

