অর্থকাগজ প্রতিবেদন ●
রাজনৈতিক অস্থিরতা ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ সত্ত্বেও চলতি অর্থবছরের প্রথমার্ধে (জুলাই–ডিসেম্বর) দেশের শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্ত ওষুধ খাতের কোম্পানিগুলো ব্যতিক্রমী ব্যবসায়িক সাফল্য দেখিয়েছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এই সাফল্যের পেছনে একাধিক কাঠামোগত কারণ কাজ করেছে—বিশেষ করে বিক্রয় বৃদ্ধির ধারাবাহিকতা, উৎপাদন ব্যয়ে নিয়ন্ত্রণ, ঋণের সুদজনিত ব্যয় হ্রাস এবং কার্যকর কর্মমূলধন ব্যবস্থাপনা। পাশাপাশি স্থির বিনিময় হার ও দেশের ভেতরে ওষুধের স্থিতিশীল চাহিদা খাতটির আয় ও মুনাফা বৃদ্ধিকে আরও শক্ত ভিত্তি দিয়েছে।
দেশের অন্যতম শীর্ষ ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান রেনাটা পিএলসি চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। এই সময়ে কোম্পানিটির নিট মুনাফা ২৫ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫৬ কোটি ২৬ লাখ টাকায়, যেখানে গত বছরের একই সময়ে মুনাফা ছিল ১২৫ কোটি ৮ লাখ টাকা। রেনাটার মোট আয়ের বড় অংশ—৮০ শতাংশেরও বেশি—এসেছে ওষুধ বিক্রি থেকে। যদিও অক্টোবরে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় রপ্তানিযোগ্য কিছু পণ্য ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দ্বিতীয় প্রান্তিকে রপ্তানি আয় সাময়িকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়, তবুও মূলধন কাঠামো পুনর্গঠনের ফলে কোম্পানিটির অর্থায়ন ব্যয় ৭ দশমিক ৩ শতাংশ কমানো সম্ভব হয়েছে, যা সামগ্রিক মুনাফায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
খাতের আরেক শীর্ষ প্রতিষ্ঠান স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসও প্রবৃদ্ধির শক্ত ধারা বজায় রেখেছে। অর্থবছরের প্রথমার্ধে কোম্পানিটির রাজস্ব ১৫ শতাংশ বেড়ে ৪ হাজার ৩৩৮ কোটি টাকায় পৌঁছেছে এবং নিট মুনাফা ১৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৪৬৭ কোটি টাকায়। এ সময় শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ১৬ টাকা ৫৬ পয়সা। স্কয়ারের এই সাফল্যের পেছনে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারের পাশাপাশি কেনিয়াসহ বিভিন্ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এছাড়া টেক্সটাইল ও হাসপাতাল খাতে বিনিয়োগ থেকেও প্রতিষ্ঠানটি অতিরিক্ত আয় করতে পেরেছে।
অন্যদিকে, দীর্ঘদিন লোকসানের ভারে থাকা এসিআই লিমিটেড চলতি অর্থবছরের প্রথমার্ধে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ে যেখানে কোম্পানিটি ৬৪ কোটি টাকার লোকসান করেছিল, সেখানে এবার তারা ৩০ কোটি টাকার নিট মুনাফা অর্জন করেছে। এই সময়ে এসিআইয়ের মোট রাজস্ব ১৮ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ৭৯৪ কোটি টাকায়। বিশ্লেষকদের মতে, ব্যয় কাঠামোতে শৃঙ্খলা এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনায় উন্নতিই এই পরিবর্তনের মূল কারণ।
নাভানা ফার্মাসিউটিক্যালসও প্রথমার্ধে চমকপ্রদ ফল দেখিয়েছে। কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় ৬৫ শতাংশ বেড়ে ১ টাকা ৬৫ পয়সায় পৌঁছেছে। শক্তিশালী অপারেটিং ক্যাশ ফ্লো এবং সুদের ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসায় এই অগ্রগতি সম্ভব হয়েছে।
খাতের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মধ্যেও ইতিবাচক চিত্র দেখা যাচ্ছে। একমি ল্যাবরেটরিজের অর্ধবার্ষিক শেয়ারপ্রতি আয় আগের বছরের ৫ টাকা ৪৭ পয়সা থেকে বেড়ে ৬ টাকা ১১ পয়সায় দাঁড়িয়েছে। একইভাবে বিকন ফার্মাসিউটিক্যালসের মুনাফাও প্রথমার্ধে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়ে শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ৪ টাকা ৭৩ পয়সা।
সামগ্রিকভাবে, ওষুধ খাতের এই ধারাবাহিক উন্নতি শেয়ার বাজারের বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার করেছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, বর্তমান প্রবৃদ্ধির ধারা বজায় থাকলে আগামী দিনে এই খাত থেকে ভালো ডিভিডেন্ড পাওয়ার সম্ভাবনাও আরও জোরালো হবে। ●
অকা/ওশি/ই/সকাল/২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ
সর্বশেষ হালনাগাদ 2 days আগে

