নিজস্ব প্রতিবেদক>
বন্যা ও বৈরী আবহাওয়ার দোহাই দিয়ে লাফিয়ে বাড়তে থাকা কাঁচা মরিচের বাজারে অবশেষে কিছুটা স্বস্তির হাওয়া বইতে শুরু করেছে। সরকারের আমদানির সিদ্ধান্তের পর রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন বাজারে কমতে শুরু করেছে নিত্যপ্রয়োজনীয় এই পণ্যটির দাম। তবে আড়ত ও খুচরা বাজারে দাম কিছুটা নিম্নমুখী হলেও তা এখনো সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে রয়ে গেছে।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গত মাসের মাঝামাঝি সময়ে যে কাঁচা মরিচ প্রতি কেজি ১২০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হতো, কয়েক দিনের ব্যবধানে তা লাফিয়ে ৩০০ থেকে ৩ ৩৫ টাকায় পৌঁছায়। কোথাও কোথাও তা ৪০০ টাকা কেজিতেও বিক্রি হতে দেখা যায়। কাঁচাবাজারে এমন অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে চরম ভোগান্তিতে পড়েন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাঁচা মরিচ আমদানির সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।
রাজধানীর শান্তিনগর কাঁচাবাজার পরিদর্শন শেষে কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, “কাঁচা মরিচের দাম স্থিতিশীল রাখতে সরকার দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে। আমদানির ওপর বিদ্যমান কর কমানো হচ্ছে এবং কাঁচা মরিচ আমদানির অনুমতিও দেওয়া হয়েছে।” তিনি আশা প্রকাশ করেন, আমদানি করা কাঁচা মরিচ বাজারে পৌঁছালে আগামী দুই থেকে পাঁচ দিনের মধ্যে দাম সহনীয় পর্যায়ে নেমে আসবে।
সরকারের এই সিদ্ধান্তের পরপরই পাইকারি ও খুচরা বাজারে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। ভারতীয় কাঁচা মরিচ বাজারে আসার খবরে আড়তদার ও বিক্রেতাদের মধ্যে দ্রুত মরিচ বিক্রির প্রবণতা দেখা গেছে। দাম আরও কমে যাওয়ার আশঙ্কায় অনেক চাষি পরিপক্ক হওয়ার আগেই মরিচ তুলে বাজারে পাঠাচ্ছেন। ফলে পাইকারি বাজারে সরবরাহ কিছুটা বেড়েছে। আড়তে দুই দিন আগে যে কাঁচা মরিচ ১,৫০০ টাকা পাল্লা (৫ কেজি) বিক্রি হয়েছিল, তা কমে ১,৪০০ টাকায় নেমে এসেছে।
তবে দাম কিছুটা কমলেও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন সাধারণ ক্রেতারা। বাজার করতে আসা ক্রেতারা জানান, বর্ষায় কিছুটা ক্ষতি হওয়া স্বাভাবিক, কিন্তু তাই বলে দাম তিনগুণের বেশি বেড়ে যাওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। দাম অতিরিক্ত হওয়ায় অনেকেই বাধ্য হয়ে কেনাকাটার পরিমাণ কমিয়ে দিয়েছেন। আগে যারা আধা কেজি বা এক কেজি কাঁচা মরিচ কিনতেন, তারা এখন এক পোয়া (২৫০ গ্রাম) কিনে সংসার চালানোর চেষ্টা করছেন।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, ভারত থেকে কাঁচা মরিচ সীমান্ত পেরিয়ে বাজারে পৌঁছালে সরবরাহ আরও বাড়বে। এতে আগামী দু-এক দিনের মধ্যেই মরিচের দাম পুরোপুরি ক্রেতাদের সাধ্যের মধ্যে চলে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

