নিজস্ব প্রতিবেদক>

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তীব্র পাইপলাইনের গ্যাস সংকটে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। বাসাবাড়িতে রান্নার চুলা না জ্বললেও গ্রাহকদের বাধ্য হয়ে ঝুঁকতে হচ্ছে বিকল্প জ্বালানির দিকে। কিন্তু সেই বিকল্প উপায়েও মেলেনি স্বস্তি; গ্যাসের তীব্র ঘাটতির এই সংকটময় মুহূর্তেই বাড়ানো হয়েছে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম। ফলে একদিকে গৃহস্থালি কাজে স্থবিরতা, অন্যদিকে অতিরিক্ত জীবনযাত্রার ব্যয়ে দিশেহারা সাধারণ মানুষ।

বাংলাদেশ জ্বালানি নিয়ন্ত্রক সংস্থা (বিইআরসি) সূত্রে জানা গেছে, রোববার (২ আগস্ট) নতুন করে বাড়ানো হয়েছে এলপিজির দাম। প্রতি কেজিতে ৫ টাকা ৮৫ পয়সা বাড়িয়ে ১২ কেজির বহুল ব্যবহৃত সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৫২৮ টাকা থেকে ৭০ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৫৯৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সরকারের বেঁধে দেওয়া মূল্যে কোথাও মিলছে না এই সিলিন্ডার। সংকটকে পুঁজি করে বিক্রেতারা নির্ধারিত দামের চেয়েও অতিরিক্ত ২০০ থেকে ৩০০ টাকা বেশি হাঁকাচ্ছেন বলে তীব্র অভিযোগ ভোক্তাদের।

রাজধানীর মিরপুর, কল্যাণপুরসহ একাধিক এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ভোর হতে না হতেই উধাও হয়ে যাচ্ছে পাইপলাইনের গ্যাস। দুপুরের খাবারের সময়ও অধিকাংশ এলাকায় শিখা জ্বলে না। কোথাও মিটমিট করে অল্প আলো জ্বললেও তাতে পানি গরম করতেই পার হয়ে যায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা। ফলে সকালে টিফিন তৈরি কিংবা পরিবারের জন্য নিয়মিত রান্না করা একপ্রকার অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। অধিকাংশ এলাকায় গভীর রাতে সামান্য সময়ের জন্য গ্যাস এলেও, ঘুম ভেঙে তখন রান্না করতে বাধ্য হচ্ছেন গৃহিণীরা।

কল্যাণপুরের বাসিন্দা সেলিনা আহমেদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “বাসায় গ্যাসের চাপ থাকে না বললেই চলে, তাই বাধ্য হয়ে সিলিন্ডার ব্যবহার করতে হয়। কিন্তু বাজারে সরকার নির্ধারিত দামে তো সিলিন্ডার পাওয়া যায়ই না, এখন ৭০ টাকা বাড়ার অজুহাতে প্রতি সিলিন্ডারে আরও ২০০-৩০০ টাকা অতিরিক্ত দিতে হচ্ছে। গ্যাস সংকটের সুযোগে আমাদের সরাসরি জিম্মি করা হচ্ছে।”

বিকল্প হিসেবে অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে ইলেকট্রিক ইনডাকশন কুকার, কেরোসিনের স্টোভ কিংবা এলপিজির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছেন। তবে এতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর ওপর তৈরি হয়েছে তীব্র দ্বিমুখী আর্থিক চাপ। লাইনের ব্যবহার না করেও মাস শেষে দিতে হচ্ছে নির্ধারিত তিতাসের গ্যাস বিল, আবার একই সাথে গুণতে হচ্ছে এলপিজি কেনা বা অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের টাকা। অন্যদিকে বাসাবাড়িতে রান্না না হওয়ায় রেস্তোরাঁ ও হোটেলগুলোতে বেড়েছে খাবারের অস্বাভাবিক চাপ, সুযোগ বুঝে সেখানেও খাবারের দাম বাড়ানোর অভিযোগ উঠেছে।

পেট্রোবাংলা সূত্রে জানা গেছে, প্রাকৃতিক গ্যাসের মূল ঘাটতির পাশাপাশি সাগরে থাকা এলএনজি টার্মিনালের ত্রুটির কারণে বর্তমানে চাহিদার মাত্র ৫৬ শতাংশ গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে। এই সংকট শুধু বাসাবাড়িতেই সীমাবদ্ধ নেই, শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও পরিবহন খাত পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে—যা সার্বিক জাতীয় অর্থনীতিকে ঠেলে দিচ্ছে এক কঠিন অনিশ্চয়তার মুখে।

Leave A Reply

Exit mobile version