অর্থকাগজ প্রতিবেদন ●
টানা কয়েক দিনের শ্রমিক অসন্তোষের পর স্বস্তি ফিরেছে শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ায়। ৯ সেপ্টেম্বর সকালে এই শিল্পাঞ্চলের ৪৫টি বাদে সব কারখানায় কাজে যোগদান করে উৎপাদন শুরু করেছে শ্রমিকরা। ৯ সেপ্টেম্বর সকাল থেকে আশুলিয়ার জিরাবো, জিরানী বাজার, গোহাইলবাড়ি, নিশ্চিন্তপুর, নরসিংহপুর, সরকার মার্কেট, জামগড়া, বাইপাইলসহ বিভিন্ন এলাকার কারখানায় শ্রমিকরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে কাজে যোগ দেয়। এছাড়া বেশ কয়েকটি কারখানায় শ্রমিক ও মালিকপক্ষের মধ্যে আলোচনা হয়। আলোচনা ফলপ্রসূ হলে এসব কারখানাগুলোতে উৎপাদন শুরু হবে বলে জানা গেছে।
বিজিএমইএর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী হাজিরা বোনাস ও টিফিন বিল বাড়িয়ে শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ার সব পোশাক কারখানা ৯ সেপ্টেম্বর খোলার কথা ছিল। প্রায় সব কারখানা খুলে দেয়া হলেও ৪৫টির মতো কারখানায় শ্রমিকরা মালিক পক্ষের সাথে আলোচনা করেছেন। আলোচনায় সিদ্ধান্তে পৌঁছলে সেসব কারখানাতে উৎপাদন শুরু হবে বলে জানিয়েছে শিল্পপুলিশ।
শ্রমিকরা জানায়, শিল্পাঞ্চলের অনেক কারখানায় উৎপাদন শুরু হয়েছে। কিছু কিছু কারখানা এখনো খুলে দেয়া হয়নি। গেটে এখনো বন্ধের নোটিশ টাঙানো রয়েছে। তবে এসব কারখানার শ্রমিকরা আন্দোলন না করে বাসায় ফিরে গেছেন। শ্রমিকরা মালিকপক্ষের সাথে আলোচনা করে কাজে ফিরবেন বলে জানিয়েছেন। শ্রমিকরা কোন ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে নাই। বেশির ভাগ কারখানায় শ্রমিকদের দাবি মেনে নিয়েছে। ফলে কারখানায় কাজ পুরোদমে চলছে।
শিল্প পুলিশ ও কারখানা কর্তৃপক্ষ জানায়, সকাল থেকে কারখানাগুলোতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে কাজে যোগ দেন শ্রমিকরা। প্রায় ৪৫টি কারখানায় শ্রমিকরা প্রবেশ করলেও কাজে যোগ না দিয়ে মালিকপক্ষের সাথে আলোচনা করে। কিছু কিছু কারখানা নিরাপত্তাহীনতার কথা বলে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে। বাকি সব কারখানায় উৎপাদন অব্যাহত রয়েছে। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এখন পর্যন্ত ঘটেনি। যেসব কারখানা সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে সেসব কারখানার শ্রমিকরা বাসায় ফিরে গেছেন। আগের চেয়ে শিল্পাঞ্চল আশুলিয়া অনেকটাই শান্ত।
শিল্প পুলিশ-১ এর পুলিশ সুপার সারোয়ার আলম বলেন, প্রায় সব কারখানায় কাজ চলমান আছে। প্রায় ৪৫টি কারখানায় দাবি দাওয়া নিয়ে অভ্যন্তরীণ কোন্দল বা কারখানা কর্তৃপক্ষের সাথে মিল না হওয়ায় এখনো তাদের কারখানায় কাজ শুরু করতে পারেনি। পুলিশ সুপার জানান, এখন পর্যন্ত উৎপাদন ভালো অবস্থায় রয়েছে। বাইরে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা করার সুযোগ আমরা দিচ্ছি না। এখানে সেনাবাহিনী, বিজিবি, র্যাব, শিল্পপুলিশ ও জেলা পুলিশ দায়িত্ব পালন করছেন। চতুর্দিকে মোবাইল পেট্রল টিম চলমান আছে। গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে। ●
অকা/শিবা/ফর/সকাল/১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দ
সর্বশেষ হালনাগাদ 1 year আগে

