অর্থকাগজ প্রতিবেদন

ব্যাংকগুলো যাতে আমানতের সুদের তুলনায় ঋণের সুদহার অস্বাভাবিকভাবে বাড়াতে না পারে, সে লক্ষ্যেই ঋণ ও আমানতের গড় সুদহারের ব্যবধান (ইন্টারমিডিয়েশন স্প্রেড) সর্বোচ্চ ৪ শতাংশ নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে এ সীমা ক্রেডিট কার্ড ও ভোক্তা ঋণের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-১ (বিআরপিডি) একটি সার্কুলার জারি করে দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের (সিইও) কাছে পাঠিয়েছে। নির্দেশনাটি জারির সঙ্গে সঙ্গে কার্যকর হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, সাম্প্রতিক সময়ে অনেক ব্যাংক আমানতের সুদহার সীমিত হারে বাড়ালেও ঋণের সুদ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করেছে। এর ফলে ঋণ ও আমানতের সুদহারের ব্যবধান অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। এতে শিল্প, ব্যবসা ও উৎপাদন খাতের অর্থায়ন ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

সার্কুলারে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৩ সালের নভেম্বরে এসএমএআরটি (SMART) বা রেফারেন্স রেট ও মার্জিনভিত্তিক ঋণের সুদহার ব্যবস্থা চালুর সময় স্প্রেড-সংক্রান্ত আগের সব নির্দেশনা বাতিল করা হয়েছিল। পরে ২০২৪ সালের মে মাসে পুরোপুরি বাজারভিত্তিক সুদহার ব্যবস্থা চালু হলেও ঋণ ও আমানতের সুদহারের ব্যবধানের কোনো সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করা হয়নি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পর্যালোচনায় দেখা গেছে, বর্তমানে অনেক ব্যাংক গড়ে প্রায় ৬ দশমিক ৫ শতাংশ সুদে আমানত সংগ্রহ করলেও ১২ শতাংশ বা তারও বেশি সুদে ঋণ বিতরণ করছে। ফলে গড় স্প্রেড সাড়ে ৫ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে। কয়েকটি ব্যাংকের ক্ষেত্রে এ ব্যবধান ৮ থেকে ১০ শতাংশেরও বেশি পৌঁছেছে, যা ঋণগ্রহীতাদের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি করছে।

এ পরিস্থিতিতে উৎপাদনশীল খাতের ঋণের ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নির্দেশ দিয়েছে, ক্রেডিট কার্ড ও ভোক্তা ঋণ ছাড়া অন্যান্য সব ধরনের ঋণের ক্ষেত্রে ঋণ ও আমানতের গড়ভারিত সুদহারের ব্যবধান সর্বোচ্চ ৪ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ২৯(২)(চ) ও ৪৫ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের আশা, নতুন এ নীতি কার্যকর হলে ব্যাংকগুলো ঋণের সুদহার নির্ধারণে আরও ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান নেবে। এর ফলে ঋণগ্রহীতাদের অর্থায়ন ব্যয় কমবে, বিনিয়োগ ও উৎপাদন কার্যক্রমে গতি আসবে এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিবেশ আরও অনুকূল হবে।

সর্বশেষ হালনাগাদ 19 hours আগে

Leave A Reply

Exit mobile version