অর্থকাগজ প্রতিবেদন 

চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে বৈদেশিক উন্নয়ন সহায়তার প্রবাহে স্পষ্ট ধীরগতি দেখা যাচ্ছে। উন্নয়ন সহযোগীদের নতুন ঋণ প্রতিশ্রুতি এবং অর্থছাড়—দুই সূচকই কমেছে, বিপরীতে পুরোনো ঋণ পরিশোধের চাপ বেড়েছে। ফলে বৈদেশিক অর্থায়নের নিট প্রবাহে সংকোচন তৈরি হয়েছে, যা সামষ্টিক অর্থনীতির ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

বুধবার (২৮ জানুয়ারি) প্রকাশিত অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) হালনাগাদ প্রতিবেদনে দেখা যায়, জুলাই থেকে ডিসেম্বর সময়কালে উন্নয়ন সহযোগীদের নতুন ঋণ প্রতিশ্রুতি আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১৩ দশমিক ৪২ শতাংশ কমেছে। একই সময়ে অর্থছাড় কমেছে আরও বেশি—২৯ দশমিক ২৩ শতাংশ। অথচ বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ বেড়েছে ১০ দশমিক ৭৬ শতাংশ।

তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথমার্ধে সরকার মোট ১ দশমিক ৯৯ বিলিয়ন ডলারের ঋণ প্রতিশ্রুতি পেয়েছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এ অঙ্ক ছিল ২ দশমিক ২৯৮ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ নতুন প্রকল্পে বৈদেশিক অর্থায়নের প্রতিশ্রুতিতে উল্লেখযোগ্য ঘাটতি তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, দাতাদের বাজেট পুনর্বিন্যাস এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতি—এ তিনটি কারণ এ পতনের পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে।

অর্থছাড়ের ক্ষেত্রেও একই প্রবণতা দেখা গেছে। গত অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে যেখানে বৈদেশিক ঋণের অর্থছাড় হয়েছিল ৩ দশমিক ৫৩ বিলিয়ন ডলার, চলতি অর্থবছরের একই সময়ে তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ দশমিক ৪৯৯ বিলিয়ন ডলারে। অর্থাৎ এক বছরে প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার কম অর্থছাড় হয়েছে। এটি বড় অবকাঠামো প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন গতি এবং বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ—দুই ক্ষেত্রেই প্রভাব ফেলতে পারে।

অন্যদিকে ঋণ পরিশোধের চাপ ক্রমেই বাড়ছে। গত অর্থবছরের জুলাই–ডিসেম্বর সময়ে বাংলাদেশ উন্নয়ন সহযোগীদের কাছে ১ দশমিক ৯৮ বিলিয়ন ডলার পরিশোধ করেছিল। চলতি অর্থবছরের একই সময়ে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ দশমিক ১৯৫ বিলিয়ন ডলারে। অর্থাৎ নতুন অর্থায়ন কমলেও পুরোনো দায় শোধে ব্যয় বাড়ছে, যা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ব্যবস্থাপনায় অতিরিক্ত চাপ তৈরি করছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, উন্নয়ন অর্থায়নের এই ভারসাম্যহীনতা দীর্ঘমেয়াদে বাজেট ব্যবস্থাপনা, প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্যের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তাই দ্রুত প্রকল্প অনুমোদন ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা, দাতাদের সঙ্গে সমন্বয় জোরদার করা এবং ঋণ ব্যবস্থাপনায় কৌশলগত পরিকল্পনা নেওয়া এখন জরুরি হয়ে উঠেছে।

অকা/ব্যাংখা/ই/সকাল/২৯ জানুয়ারী, ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ

সর্বশেষ হালনাগাদ 6 days আগে

Leave A Reply

Exit mobile version