বিশেষ প্রতিবেদন>

কাল থেকে চুলায় গ্যাস নেই। অপেক্ষা করেও মিলছে না গ্যাস। সন্তানদের নাশতা তৈরি করতে না পেরে বাইরে থেকে খাবার কিনতে হচ্ছে। দিনের পর দিন এমন পরিস্থিতিতে অতিষ্ঠ হয়ে শেষ পর্যন্ত বিকল্প জ্বালানি এলপিজি সিলিন্ডারে ঝুঁকছে অনেক পরিবার।

এ কারণে বর্তমানে এলপিজি গ্যাসের চাহিদা বেড়েছে। যাদের সামর্থ্য আছে, তারা কিনছেন এলপিজি সিলিন্ডার। সেই সঙ্গে নগরবাসীর জীবনযাত্রার ব্যয়ও বাড়ছে। এলপিজি সিলিন্ডার, গ্যাস, চুলাসহ মিলিয়ে এককালীন খরচ পড়ছে চার থেকে পাঁচ হাজার টাকা। যাদের আগে থেকে সিলিন্ডার ও চুলা ছিল তাদের গ্যাস রিফুয়েলিং বাবদ মাসিক খরচ বেড়েছে প্রায় দেড় হাজার টাকা।

চকবাজারের এলপিজি সিলিন্ডার ও গ্যাস বিক্রেতা মোহাম্মদ হাবিব বলেন, 'গ্যাসের সমস্যা বাড়ার পর নতুন ক্রেতা বেশি আসছেন। আগে যারা এলপিজি ব্যবহার করতেন না, তারাও এখন সিলিন্ডারের দাম ও রিফুয়েলিংয়ের খরচ জানতে চাইছেন। অনেকে কিনেও নিয়ে যাচ্ছেন।'

নগরীর বিভিন্ন এলাকার এলপিজি বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গ্যাস সংকট শুরুর পর নতুন ক্রেতার সংখ্যা বেড়েছে। কোনো কোনো দিন দুই থেকে তিনজন নতুন ক্রেতা সিলিন্ডার কিনতে আসছেন। আবার কোনো দিন এর চেয়েও বেশি মানুষ আসছেন। আগে যারা শুধু গ্যাসের চুলায় রান্না করতেন, তাদের একটি অংশও এখন এলপিজি ব্যবহারের কথা ভাবছেন।

গ্যাস সংকটের কারণে রান্নার সময় ঠিক রাখতে পারছেন না নগরবাসী। অনেক পরিবার গভীর রাতে গ্যাস এলে তখন রান্না করে রাখছেন। আবার কেউ বাধ্য হয়ে বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করছেন।

এক গৃহিণীও এই সংকট কাটাতে নতুন করে গ্যাস সিলিন্ডার কিনেছেন। এতে তার খরচও বেড়েছে। তিনি বলেন, ‘সকাল থেকে গ্যাস থাকে না। অনেকদিন ধরেই এই সমস্যা। আর কত সহ্য করা যায়। তাই বাধ্য হয়েই সিলিন্ডার গ্যাস কিনতে হয়েছে। এর জন্য সংসারে অতিরিক্ত খরচও বেড়েছে। সিলিন্ডার ও চুলা কেনার জন্য লেগেছে ৫ হাজারের বেশি।’

বর্তমানে ১২ কেজির একটি সিলিন্ডার রিফিল করতে প্রায় ১ হাজার ৬০০ টাকা লাগে। নতুন সিলিন্ডার কিনতে গেলে এর সঙ্গে আরও প্রায় ১ হাজার টাকা যোগ হয়। অর্থাৎ প্রথমবার সিলিন্ডার ব্যবহার করতে শুধু সিলিন্ডারেই খরচ হচ্ছে প্রায় ২ হাজার ৬০০ টাকা। এর সঙ্গে চুলা ও অন্যান্য সরঞ্জামের খরচ আলাদা।

চট্টগ্রামের এই গ্যাস সংকটের পেছনে রয়েছে এলএনজি সরবরাহে ঘাটতি। মহেশখালীর দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের মোট সক্ষমতা প্রায় ১ হাজার ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট। ২১ জুলাই আমেরিকান কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালের বয়লার আগুন লাগে। পরে ৬ আগস্ট এক্সিলারেটের টার্মিনাল আংশিকভাবে চালু হলেও সংকট পুরোপুরি কাটেনি।

এর মধ্যে সামিটের টার্মিনাল থেকেও গ্যাস সরবরাহ কমে প্রায় ১০০ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমে আসে। পরে বৃহস্পতিবার বিকাল থেকে সেটিও বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে এক্সিলারেটের টার্মিনাল থেকে প্রায় ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে।

দেশে প্রতিদিন গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট। এর বিপরীতে একপর্যায়ে সরবরাহ নেমে আসে প্রায় ২ হাজার ১০০ মিলিয়ন ঘনফুটে। ফলে দৈনিক ঘাটতি দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট। গ্যাসের এই ঘাটতির প্রভাব শুধু রান্নাঘরে নয়, পরিবহন ও শিল্প খাতেও পড়ছে।

Leave A Reply

Exit mobile version