অর্থকাগজ প্রতিবেদন

খুচরা বাজারে ডিমের দাম কমলেও তরি তরকারির মূ্ল্যে আগুন! সবজি কেনাই যাচ্ছে না। এক সপ্তাহের ব্যবধানে দ্বিগুণ হারে সব সবজির দাম বেড়েছে।  হঠাৎ মূল্য বৃদ্ধিতে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ক্রেতারা।  বিক্রেতারা বলছেন কেনা দাম বেশি হওয়ায় চড়া দামে বিক্রি করতে হচ্ছে তাদের। কৃষি দফতরগুলোর বক্তব্য হঠাৎ বন্যা দেখা দেওয়ায় এমন অবস্থা হয়েছে বাজারের।

জানা যায়, শেরপুর জেলায় সম্প্রতি ভারী বৃষ্টি এবং পাহাড় থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে জেলার পাঁচটি উপজেলাতেই ভয়াবহ বন্যা দেখা দেয়।  কৃষি বিপনন বিভাগের তথ্য মতে, শেরপুর জেলায় ২০৬৩ হেক্টর জমিতে সবজির আবাদ হয়েছে।  এর মধ্যে ভয়াবহ বন্যায় ১০৬২ হেক্টর সবজির আবাদ নষ্ট হয়েছে।  যা মোট সবজি আবাদের ৫১ শতাংশ।

বিভাগ জানায়, শেরপুর শহরের নয়আনী, কুসুমহাটি, ভীমগঞ্জ, নবীনগর হাজির বাজারে বন্যার আগে যে সবজির দাম ৪০ টাকা কেজি ছিল, তা এখন বেড়ে ১০০ টাকা কেজি হয়েছে।  বাজারে মানভেদে বেগুন বন্যার আগে ৪০ টাকা কেজি ছিল, বর্তমানে ১০০ টাকা কেজি। কাঁচা মরিচ বন্যার আগে ৮০ টাকা ছিল, বর্তমানে ৩২০ টাকা কেজি। আলু বন্যার আগে ৪০ টাকা পরে ৬০ টাকা কেজি, করলা বন্যার আগে ৪০ টাকা পরে ১০০ টাকা কেজি,বরবটি আগে ৪০টাকা পেও ৮০ টাকা কেজি,ঝিংগা আগে ৪০ পরে ৮০ টাকা কেজি, লাউ আগে ২৫ এখন ৫০, কাকরোল আগে ৪০ টাকা এখন ৮০ টাকা কেজি, শসা আগে ৫০ টাকা পরে ৮০ টাকা কেজি, ডেঢ়শ বন্যার আগে ৪০ এখন ৮০ টাকা কেজি।  রাজধানীর খুচরা বাজারে এসব পণ্য কেজি প্রতি ২০-৩০ টাকা বেশি।

ব্যবসায়ীরা জানান, সম্প্রতি অতি বৃষ্টি ও বন্যার কারণে মাছ, সবজিসহ যাবতীয় ফসল ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে বাজারে কমে গেছে সবজির সরবরাহ। ফলে দাম অনেক চড়া। আবার অনেক সবজিই বাজারে পাওয়া যাচ্ছে না।

সবজি চাষী হামিদুর রহমানের কৃষি অফিসকে জানান, বৃষ্টি ও বন্যায় আমাদের কৃষকদের সবজি ক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে।  আর যে ক্ষেতগুলো বেঁচে আছে তার মধ্যেও পানি জমে আছে। এটাও কিছুদিন পরে মারা যাবে।

কুসুমহাটি বাজারের সবজি বিক্রেতা মোকারম হোসেন বলেন, সবজির বাজারে আগুন লেগেছে। অনেক সবজি বাজারে পাওয়াই যাচ্ছে না। আর যে সবজি পাওয়া যাচ্ছে দাম বেশি হওয়ায় অনেক ক্রেতাই ফিরে যাচ্ছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অফিসের অতিরিক্ত উপ পরিচালক হুমায়ুন কবীর বলেন, এবার বন্যা বেশি হওয়ায় ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেশি।  যে সবজি বাগান এখনো টিকে আছে সেটার বাঁচার সম্ভাবনা খুবই কম। পানি নেমে গেলে এবং আমন ধান কাটা হয়ে গেলে কৃষকরা আবারো যখন সবজি আবাদ করবে তখন সবজির দাম কমবে। এর আগে দাম কমার সম্ভাবনা নেই।

আজ সকালে রাজধানীর শান্তিনগর, ফকিরেরপুল, গোপীবাগ রেলগেট, মতিঝিল কলোনী বাজার ঘুরে সবজির বাজারে যে কোন শ্রেণির ক্রেতার তা কেনার সামর্থ্য নেই অর্থকাগজ এর প্রতিবেদক তা প্রত্যক্ষ করেছেন। এসব বাজারে (১০ অক্টোবর) কোন সবজির কেজি প্রতি মূল্য ১০০ টাকার নিচে নয়।  ফার্মের ডিমের দাম কম দেখা যায়।  এসব খুচরা বাজারে ডিমের ডজন আজ ১৬০ টাকা।  যা সপ্তাহ আগে প্রতি ডিমের দাম ছিল ১৫ থেকে ১৬ টাকা।    

বিদেশী বাণিজ্যিক একটি ব্যাংকের কর্মকর্তা শেহরীন সুলতানা (৪৩) বলেন, ‘আমাদের দেশে প্রতি বছরই বন্যা দেখা যায়; কিন্তু ভয়াবহ বন্যার সময়েও ২৭০ গ্রাম ওজনের এক চিলতে কুমড়ো ৮০ টাকায় কিনিনি। বাজারে সংস্কারের কোন চিহ্ন দেখতে পাচ্ছি না।বাজারে এখনও ব্যবসায়িদের ‘সিন্ডিকেট’ বিদ্যমান।  নিয়মিত বাজার তদারকি দৃশ্যমান নয়।’

শাক-ভাত খাব তাও সম্ভব নয় বলেন গোপীবাগের বাসিন্দা কাপড় ব্যবসায়ি পঞ্চাশোর্ধ ওমর ফারুক ।  তিনি এক আটি কলমির শাক দেখিয়ে বলেন, ‘এই আটির দাম মাত্র ২৫ টাকা স্যার।  এবার বুজেন আমরা কোতায় আচি!’

ডিমের বাজারে স্থিতিশীলতা ফেরাতে একদিনেই বড় দুটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। প্রথমত, সাতটি প্রতিষ্ঠানকে সাড়ে ৪ কোটি পিস ডিম আমদানির অনুমতি প্রদান। দ্বিতীয়ত, ডিমের আমদানি শুল্ক কমাতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) চিঠি দেওয়া। ডিসেম্বর পর্যন্ত আমদানির অনুমতির মেয়াদ বহাল থাকবে। আমদানি প্রসঙ্গে ৮ অক্টোবর একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মন্ত্রণালয়।

ভারত থেকে ডিম আমদানির ঘোষণায় বাজারে কিছুটা ইতিবাচক প্রভাব লক্ষ্য করা গেছে । ফকিরেরপুলে বাজার করতে আসা বাংলাদেশ সচিবালয়ে কর্মরত একজন কর্মকর্তা আসিফ আলী (৫১) বলেন, আমদানি শুল্ক কমালে লাভ বেশি আমদানিকারক ব্যবসায়ির।  ক্রেতার অস্বস্তি কি আর কমে তাতে? ভারত থেকে নিত্য প্রয়োজনীয় অনেক পণ্য আমদানি করে বাজার নিয়ন্ত্রণ সরকারের প্রথা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বরং দেশে উৎপাদন বাড়ানো, সাপ্লাই চেইনকে শৃঙ্খলিত করা, চাঁদাবাজি বন্ধ, নিয়মিত বাজার তদারকি করা, ব্যবসায়িদের ‘সিন্ডিকেট’ ভাঙ্গা এবং অতি মুনাফালোভী ও মজুদদার ব্যবসায়ির কৃত্রিম সংকট কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর বিচার নিশ্চিত করা গেলে বাজারে ভোক্তারা স্বস্তি পাবে। সে দিকেই সরকারকে নজর দেওয়া দরকার বলে মনে করেন আসিফ আলী।

অকা/পবা/বিপ্র/দুপুর/১০ অক্টোবর, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

সর্বশেষ হালনাগাদ 2 years আগে

Leave A Reply

Exit mobile version