বিশেষ প্রতিবেদন>

বিএনপি সরকারের পাঁচ মাসের মাথায় অবশেষে পদত্যাগ করলেন আলোচিত-সমালোচিত রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। সংবিধান অনুসারে তার স্থলে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ। এখন সংবিধান অনুযায়ী ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হওয়ার কথা। সঙ্গতকারণেই দেশজুড়ে আলোচনা, কে হচ্ছেন দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি।

রাষ্ট্রপতি হিসেবে আলোচনায় যারা

গত কয়েকদিন ধরে সম্ভাব্য নতুন রাষ্ট্রপতির নাম নিয়ে আলোচনা চলছে। ঘুরেফিরে চারটি নাম সামনে আসছে। তারা হলেন—বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আরেক সদস্য ড. আবদুল মঈন খান ও বর্তমান মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি।


মির্জা ফখরুল

বিগত দিনে আন্দোলন সংগ্রাম ও ক্লিন ইমেজের কারণে হাইকমান্ডের গুডবুকে রয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ঠাকুরগাঁওয়ের তৃণমূল থেকে ওঠে আসা এই নেতা ২০০১ সালে জোট সরকারের কৃষি প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নিজের স্বচ্ছতা প্রমাণে সক্ষম হন। পরবর্তীকালে বিএনপির দুর্দিনে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবেও যোগ্যতার স্বাক্ষর রাখেন। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৬ সালের কাউন্সিলে তাকে মহাসচিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

সেই থেকে তার দায়িত্ব পালন নিয়ে দলের ভেতরে-বাইরে এক ধরনের সন্তুষ্টি আছে। বিশেষ করে জেল-জুলুম ও নির্যাতন ভোগ করায় দলের হাইকমান্ডের কাছে তার জন্য এক ধরনের আস্থার জায়গা আছে। তাই রাষ্ট্রপতি পদ দিয়ে তাকে সম্মানিত করতে চায় দলটি। অন্যদিকে কোনও কারণে সরকারে দুর্দিন নেমে এলে একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ হিসেবে তিনি সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম হবেন বলে দলটির হাইকমান্ড মনে করেন—এমনটিই জানিয়েছে দলীয় সূত্র।

ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন

নতুন রাষ্ট্রপতি পদে দ্বিতীয় ব্যক্তি হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন স্থায়ী কমিটির সিনিয়র সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। নিজ নির্বাচনি এলাকা কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে একাধিকবার নির্বাচিত হয়েছেন তিনি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূ-তত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষকের পদ ছেড়ে বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত হন তিনি। শুরুতে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীকালে বিভিন্ন ধাপ অতিক্রম করে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য হন। ১৯৯১, ৯৬, ২০০১ ও ২০২৬ সালের নির্বাচনে কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে নির্বাচিত হন তিনি। বিভিন্ন সময়ে জ্বালানি, স্বরাষ্ট্র এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ব্যক্তিগতভাবে তিনিও স্বচ্ছ ভাবমূর্তির অধিকারী। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক হিসেবে দলের ভেতরেও তিনি সম্মানিত। এ ছাড়া বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের কারণে দল তাকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে বিবেচনায় রাখতে পারে।

ড. আবদুল মঈন খান

স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান নরসিংদী-২ আসন থেকে মোট চারবার সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হন। তার বাবাও সাবেক এমপি ও মন্ত্রী ছিলেন। বিএনপির একটি সূত্রের দাবি, ক্লিন মিষ্টভাষী হিসেবে ড. মঈন খানকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন দেওয়া হতে পারে। সূত্রটি মনে করে, অতীতে একাধিকবার কৃতিত্বের সঙ্গে সরকারের মন্ত্রিত্ব পালন করেন তিনি। ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি সরকার গঠনের পর ধারণা করা হচ্ছিল তিনি মন্ত্রিসভায় স্থান পাবেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কোনও জায়গায় তাকে বসানো হয়নি। সে কারণে তাকেও রাষ্ট্রপতি করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এম নাসিমুল গণি

রাষ্ট্রপতি হিসেবে রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরে হঠাৎ আলোচনায় বর্তমান মন্ত্রিপরিষদ সচিব এম নাসিমুল গণি। এর আগে অনেকের নাম এলেও সম্প্রতি আলোচনায় এসেছে তার নাম।

নাসিমুল গণি বাংলাদেশের একজন উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা। ২০২৪ সালে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার তাকে সচিব হিসেবে নিয়োগ দেয়। এর পরই তাকে সিনিয়র সচিবের মর্যাদা দেওয়া হয় হয়। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে তিনি বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের উচ্চতম পদ বাংলাদেশের ২৬তম মন্ত্রিপরিষদ সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের ১৯৮২ ব্যাচের একজন সদস্য হিসেবে সরকারি চাকরি শুরু করেন। তিনি বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ও রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের গণবিভাগের সচিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

সূত্র : বাংলা ট্রিবিউন।

সর্বশেষ হালনাগাদ 2 hours আগে

Leave A Reply

Exit mobile version