অর্থকাগজ প্রতিবেদন ●
অবশেষে সাময়িক স্বস্তি ফিরেছে দেশের পুঁজি বাজারে। টানা দুই দিনের বড় পতনের পর ১৭ মে সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসে সূচকের উন্নতি ঘটেছে পুঁজি বাজার। তবে কোনো কারণ ছাড়াই সূচকের এ উন্নতি আদৌ টিকবে কি না তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন বিনিয়োগকারীসহ বেশিরভাগ স্টেক হোল্ডাররা। কারণ, সাম্প্রতিক সময়ে বেশ ক’বার সাময়িকভাবে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেলেও পরে তা আর টেকেনি। তাই সূচকের উন্নতি ঘটলেও ১৭ মে পুঁজি বাজারের লেনদেন ছিল তলানিতে। এতেই প্রমাণ হয় সূচকের এ উন্নতিতে আস্থা নেই বিনিয়োগকারীদের।
দেশের প্রধান পুঁজি বাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সবক’টি সূচকের ১৭ মে উন্নতি হয়েছে। ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১৭ মে ৩৯ দশমিক ৪৪ পয়েন্ট উন্নতি ধরে রাখে। ৪ হাজার ৭৮১ দশমিক ৮১ পয়েন্ট থেকে সকালে লেনদেন শুরু করা সূচকটি দিনের শুরুতে নিম্নমুখী ছিল। সকালে পৌনে ১১টায় সূচকটি নেমে আসে ৪ হাজার ৭৬১ পয়েন্টে। কিন্তু এখান থেকে বাজার ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করে। দিনের বাকি সময় সূচকের ইতিবাচক প্রবণতা অব্যাহত থাকলে দিনশেষে সূচকটি ৪ হাজার ৮২০ দশমিক ৪৬ পয়েন্টে স্থির হয়। একই সময় ডিএসই’র অন্য দুই সূচক ডিএসই ৩০ ও ডিএসই শরিয়াহ যথাক্রমে ১৮ দশমিক ০৮ ও ১৩ দশমিক ৯০ পয়েন্ট বৃদ্ধি পায়।
তবে দেশের দ্বিতীয় পুঁজি বজাার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) আচরণ ছিল ভিন্ন। এখানে সূচকের অবস্থান ছিল মিশ্র। সিএসই’র সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই ও সিএসসিএক্স যথাক্রমে ৪ দশমিক ৩৯ ও ১ দশমিক ৫১ পয়েন্ট উন্নতি ধরে রাখতে সক্ষম হলেও সিএসই-৩০ সূচকটি এখানে ৩ দশমিক ৭৫ পয়েন্ট হারায়।
এদিকে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিশেষ সহকারী ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরী ১৮ মে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ পরিদর্শনে যাচ্ছেন। এ বিষয়ে ১৩ মে ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরীর একান্ত সচিব আহম্মদ আলী স্বারিত একটি চিঠি ইস্যু করা হয়েছে। ১৭ মে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের জনসংযোগ ও প্রকাশনা বিভাগ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
ডিএসইর পক্ষ থেকে জানানো হয়, ১৮ মে সকাল ১০টার দিকে ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরীর ডিএসইতে উপস্থিত হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে তিনি দুটি আলাদা বৈঠক করবেন। প্রথমে তিনি ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পর্ষদের সাথে বৈঠক করবেন। এর পর ডিএসইর অংশীজনদের সাথে বৈঠক করবেন। পরে তিনি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ কার্যালয় ঘুরে দেখবেন।
৬ মে ডিএসই পরিদর্শনে যাওয়ার কথা ছিল ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরীর। অনিবার্য কারণে তা বাতিল করা হয়েছিল। ৭ মে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান কার্যালয় পরিদর্শন করেন ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরী। সেখানে তিনি দেশের শেয়ার বাজারে চলমান সঙ্কট নিরসন ও ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে অংশীজনদের সাথে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন।
সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, পুঁজি বাজারের নাজুক পরিস্থিতিতে ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরীর ডিএসই পরিদর্শন ও সংশ্লিষ্টদের সাথে বৈঠক খুবই গুরুত্বপূর্ণ। গত বছরের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তি সরকারের নানামুখী উদ্যোগে অর্থনীতির কয়েকটি জায়গায় বড় ধরনের উন্নতি হয়েছে। আর্থিক খাত চরম অব্যবস্থা কাটিয়ে উঠছে। দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের সমস্যা অনেকাংশে কমেছে। এ মুহূর্তে রিজার্ভ ক্রমাগত বাড়ছে। এ ছাড়া ডলার ও টাকার বিনিময় হার স্থিতিশীল হয়েছে। বেড়েছে রেমিট্যান্স ও রফতানি আয় । ব্যাংকিংখাতে শৃঙ্খলা ফিরেছে। এর মধ্যে ব্যতিক্রম কেবল পুঁজি বাজার।
অর্থনীতির ঘুরে দাঁড়ানোর কোনো ছোঁয়া লাগেনি এ খাতে। বরং পুঁজি বাজারে দরপতন নিয়মিত বিষয়ে পরিণত হয়েছে। লেনদেনও নেমেছে তলানিতে। তিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীরা একাধিকবার বিােভ কর্মসূচি পালন করেছেন। বিষয়টি সরকারের জন্য বেশ বিব্রতকর হয়ে উঠেছে। সরকার এ থেকে উত্তরণের উপায় খুঁজছে। এর অংশ হিসেবে স্টেক হোল্ডারদের সাথে এ বৈঠক করছেন ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরী।
১৭ মে ডিএসইতে মোট ৯৪ হাজার ৪৯৮টি হাওলায় ১৩ কোটি ২ লাখ ১১ হাজার ২৪১টি সিকিউরিটিজ হাতবদল হয়েছে, যার বাজারমূল্য ছিল ২৬২ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। ১৫ মে সূচকের বড় ধরনের পতনের মধ্যেও বাজারটির লেনদেন ছিল ২৯৬ কোটি টাকা। লেনদেন কমেছে চট্টগ্রাম শেয়ার বাজারেও। এখানে ২৯ কোটি টাকা থেকে ৯ কোটি ১৯ লাখ টাকায় নেমে আসে লেনদেন। বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে হঠাৎ সূচকের উন্নতি ঘটায় বিনিয়োগকারীরা ছিলেন বেশ সতর্ক। তাই পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীরা বাজার পর্যবেক্ষণ করাই ভালো মনে করছেন।
ডিএসইতে ১৭ মে লেনদেনের শীর্ষ কোম্পানি ছিল ব্র্যাক ব্যাংক। এ দিন ১৩ কোটি ২২ লাখ টাকায় কোম্পানিটির ২৫ লাখ ৩৩ হাজার শেয়ার হাতবদল হয়। ১১ কোটি ৬৩ লাখ টাকায় ২৫ লাখ ৬৭ হাজার শেয়ার বেচাকেনা করে দিনের দ্বিতীয় কোম্পানি ছিল বিচ হ্যাচারি। ডিএসই’র লেনদেনের শীর্ষ দশ কোম্পানির তালিকায় অন্যগুলো ছিল যথাক্রমে সিটি ব্যাংক, উত্তরা ব্যাংক, বারাকা পতেঙ্গা পাওয়ার লি., ফাইন ফুডস, মিডল্যান্ড ব্যাংক, এনআরবি ব্যাংক, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন ও শাইন পুকুর সিরামিকস।
অপরদিকে, চট্টগ্রাম শেয়ার বাজারে লেনদেনের শীর্ষ দশ কোম্পানির তালিকায় ছিল যথাক্রমে খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ, প্রিমিয়ার সিমেন্ট, সানলাইফ ইন্স্যুরেন্স, ইন্ট্রাকো সিএনজি রি-ফুয়েলিং স্টেশন, বেক্সিমকো লি., এবি ব্যাংক ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, ওয়ালটন হাইটেক ইঞ্জিনিয়ারিং, ব্র্যাক ব্যাংক, লাভেলো আইসক্রিম ও বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন।
দিনের মূল্যবৃদ্ধিতে শীর্ষ কোম্পানি ছিল শাইনপুকুর সিরামিকস। ১৭ মে ৯ দশমিক ৯৪ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধি ঘটে কোম্পানিটির। ৯ দশমিক ৮৮ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধি পেয়ে দিনের দ্বিতীয় স্থানে ছিল সোনারগঁাঁও টেক্সটাইলস। এ তালিকায় থাকা অন্য কোম্পানিগুলো ছিল যথাক্রমে এইচআর টেক্সটাইলস, বিকন ফার্মা, এসআলম স্টিলস, শাহজিবাজার পাওয়ার কোম্পানি, বাটা সু কোম্পানি, ইনটেক অনলাইন, এনআরবিসি ব্যাংক ও ডরিন পাওয়ার। ●
অকা/পুঁবা/ফর/রাত/১৭ মে, ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দ
সর্বশেষ হালনাগাদ 10 months আগে

