অর্থকাগজ প্রতিবেদন 

দেশের পুঁজিবাজারে সাম্প্রতিক সময়ে বেশ অস্থিরতা বিরাজ করলেও সাধারণ ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে আগ্রহ তৈরি হচ্ছে। বাজারের চড়াই-উতরাইয়ের মধ্যেও বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণের এই ধারাবাহিক বৃদ্ধিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে চলতি এপ্রিল মাসে বেনিফিশিয়ারি ওনার্স বা বিও হিসাব খোলার হার পর্যালোচনায় দেখা গেছে, প্রতিদিন গড়ে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নতুন বিনিয়োগকারী বাজারের সাথে যুক্ত হচ্ছেন।

এপ্রিলের ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি

সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিডিবিএল) থেকে প্রাপ্ত সর্বশেষ তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, চলতি এপ্রিল মাসের প্রথম ১৪ দিনে অর্থাৎ মাত্র ৯টি কার্যদিবসে বাজারে নতুন করে ২ হাজার ৮৫৬টি বিও হিসাব যুক্ত হয়েছে। গাণিতিক হিসেবে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৩১৭টি করে নতুন হিসাব খুলছেন বিনিয়োগকারীরা। এই পরিসংখ্যানে স্থানীয় পর্যায়ের সাধারণ বিনিয়োগকারীদের পাশাপাশি বিদেশি ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের উপস্থিতিও লক্ষ্য করা গেছে। তথ্যমতে, ৯ কার্যদিবসে স্থানীয় বিনিয়োগকারীদের হিসাব বেড়েছে ২ হাজার ৭৭৭টি, যা প্রতিদিনের হিসেবে গড়ে প্রায় ৩০৯টি।

বিদেশি বিনিয়োগকারীদের ফিরে আসার আভাস

দীর্ঘদিন ধরে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে শেয়ার বাজার নিয়ে এক ধরনের অনাগ্রহ কাজ করলেও বর্তমানে সেই চিত্র কিছুটা বদলাতে শুরু করেছে। চলতি মাসের প্রথম দুই সপ্তাহেই বিদেশি ও প্রবাসী বিনিয়োগকারীদের বিও হিসাব বেড়েছে ২৬টি। বর্তমানে এই খাতের মোট বিও হিসাব দাঁড়িয়েছে ৪৩ হাজার ২২৬টি। যদিও গত বছরের অক্টোবর মাসে এই সংখ্যাটি ছিল ৫৫ হাজার ৫১২টি, যা পরবর্তীতে কমে ৪৩ হাজার ১০১টিতে নেমে এসেছিল। তবে ফেব্রুয়ারি থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত পরিসংখ্যান বলছে, বিদেশি ও প্রবাসী বিনিয়োগকারীরা আবারও ধীরলয়ে হলেও বাজারের প্রতি আস্থা ফিরে পাচ্ছেন।

স্থানীয় বিনিয়োগকারীদের অবস্থান ও লিঙ্গভিত্তিক পরিসংখ্যান

পুঁজি বাজারে স্থানীয় সাধারণ বিনিয়োগকারীদের সংখ্যা ১৫ লাখ ৯৫ হাজার ৯৯৯টিতে পৌঁছেছে। গত মার্চ মাস শেষে এই সংখ্যা ছিল ১৫ লাখ ৯৩ হাজার ২২২টি। অর্থাৎ খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে কয়েক হাজার নতুন বিনিয়োগকারী বাজারে প্রবেশ করেছেন। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে লিঙ্গভিত্তিক বিভাজনে দেখা যায়, পুরুষ বিনিয়োগকারীদের নামে বর্তমানে ১২ লাখ ৪৭ হাজার ৫০৬টি এবং নারী বিনিয়োগকারীদের নামে ৩ লাখ ৯১ হাজার ৭১৯টি বিও হিসাব রয়েছে। এর বাইরে প্রাতিষ্ঠানিক বা কোম্পানি বিও হিসাবের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৮ হাজার ৯৩টিতে।

বিনিয়োগের ধরন ও বাজার বিশ্লেষকদের মত

ব্যক্তি পর্যায়ে একক নামে বিও হিসাব খোলার প্রবণতা এখনো সবচেয়ে বেশি। বর্তমানে একক নামে ১১ লাখ ৯৭ হাজার ৮৩২টি বিও হিসাব সচল রয়েছে। অন্যদিকে যৌথ বা জয়েন্ট অ্যাকাউন্ট হিসেবে ৪ লাখ ৪১ হাজার ৩৯৩টি হিসাব পরিচালিত হচ্ছে। বাজার সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পুঁজিবাজারে অস্থিরতা থাকলেও নতুন বিও অ্যাকাউন্ট খোলার এই হার নির্দেশ করে যে সাধারণ মানুষ এখনো বাজারের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী। বিশেষ করে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা পুনরায় ফিরতে শুরু করলে বাজারের তারল্য সংকট দূর হওয়ার পাশাপাশি সার্বিক স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অকা/পুঁবা/ই/সকাল/১৬ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ

সর্বশেষ হালনাগাদ 2 hours আগে

Leave A Reply

Exit mobile version